বিস্ময়কর কোডেক্স গিগাস বা ডেভিল'স বাইবেল


পৃথিবী এমন সব অজানা রহস্যময় জিনিস রয়েছে যা
আমরা জানতে পেরে বিস্মিত হই।এবং আমাদের অজানা এবং রহস্যময় বিষয় বস্তু জানার উপর আগ্রহ সেই প্রাচীনকাল থেকেই।তাই মানুষ এই সকল অজানা এবং রহস্যময় জিনিস গুলো উদঘাটন করতে কত প্রচেষ্টাই না চালায়।আজ আমি আপনাদের এমন একটি রহস্যময় জিনিস তুলে ধরতে চলছি!
কোডেক্স গিগাসঃ কোডেক্স গিগাস এটি একটি ল্যাটিন শব্দ এর বাংলা অর্থ হচ্ছে বিশাল বড় বই।এটিকে শয়তানের বাইবেল  (devils Bible) ও বলা হয়।এটি রচনা করা হয় আনুমানিক ১৩০০ শতাব্দীর প্রথম থেকে তৃতীয় শতাব্দীর মধ্যকার সময়কালে।বেনেডিক্ট পোডলাজাইসের আশ্রমে  এটি লেখা হয়।যেটি বর্তমানে চেক প্রজাতন্ত্র নামে পরিচিত।এটি রচনা করা হয় সম্পূর্ণ ল্যাটিন ভাষায়।
এবং এটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে ভালগেট বাইবেল এবং বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থ।এটি সুইডিশ সৈন্য বাহিনী  কর্তৃক ১৬৪৮ সালে (৩০ বছরের যুদ্ধে) যুদ্ধে অর্জিত লুন্ঠিত মাল হিসেবে নিয়ে যায়।বর্তমানে এটি সুইডেনের জাতীয় গ্রন্থাগার স্টকহোমে রয়েছে যদিও এটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয়।
এটির লেখক ছিলেন একজন মোনাকো যে তার আশ্রম কে চির স্মরণীয় করে রাখার জন্য এক রাতে এটি লিখতে শুরু করেন। এ টি তে রয়েছে অশুভ শক্তির বর্ণনা এবং শয়তানের ছবি।এবং এটি লিখতে সময় লেগেছিল মাত্র এক রাত।লেখক এটি লিখতে শয়তানের সহযোগিতা গ্রহণ করেছিল।আর এই কারণেই এটিকে বলা হয় ডেভিল'স বাইবেল।
বইটি লম্বা ৩৬.২ ইঞ্চি লম্বা এবং চওড়া ১৯.৭ ইঞ্চি।উচ্চাতা ৮.৬ ইঞ্চি।  বইটি আনুমানিক গাধার অথবা বাছুরের চামড়া দিয়ে তৈরি এবং এর কভারটি কাঠের তৈরি।এবং বিভিন্ন ধাতু দ্বারা অলংকৃত।এটি তৈরিতে আনুমানিক ১৬০ টি চামড়া লেগেছে।এর পৃষ্ঠা সংখ্যা ছিল ৩২০ টি পরবর্তীতে ৮ টি পৃষ্ঠা সরানো হয় এর থেকে। তবে পৃষ্ঠা সরানোর আসল কারণ জানা যায়নি।তবে ধারণা করা হয় এই পৃষ্ঠা  গুলোতে বেনেডিক্ট সন্ন্যাসীদের নিয়ম ছিল।কোডেক্স জিগাস মধ্যযুগের সবচেয়ে পান্ডুলিপি।

এর সাথে জড়িত  রয়েছে অনেক প্রাচীন কল্পকাহিনীও আসুন সে বিষয়ে কিছু জেনে নেয়া যাক,

কোডেক্স জিগাস লেখেছিলেন একজন মোনাকো।তিনি মোনাকো প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করার জন্য তাকে শাস্তি প্রদান করা হয়। তার শাস্তির বিধান হয় তাকে একটি দেওয়াল এর সাথে জীবিত অবস্থায় গেঁথে রাখা হবে।এই কঠোর শাস্তি থেকে অব্যাহতি পাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয় যে তিনি এক রাতের মধ্যে এমন একটি বই লিখবেন যেটাতে সারা বিশ্বের জ্ঞান  থাকবে।এবং তার এই লেখার মাধ্যমে সারা বিশ্বে তার আশ্রমের সুক্ষ্যাতি বজায় থাকবে।এবং সেই মতো পরিস্থিতি নেই বই লেখা শুরু করেন এবং মধ্যরাতের কাছাকাছি সময়ে এসে তিনি বুঝতে পারলেন যে আদৌ এটা সম্ভব নয়।
তাই তিনি উপাসনা শুরু করলেন।তবে সে উপাসনা ছিল ঈশ্বরের বা সৃষ্টিকর্তার নয়।তিনি শয়তানের উপাসনা শুধু করলেন।এবং তিনি শয়তানের কাছে এই প্রার্থনা  করলেন যে,তার আত্নার বিনিময় শয়তান যেন তার বইটি লেখা শেষ করতে সহযোগিতা করে।এবং শয়তানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে শয়তানের একটি ছবি আঁকেন বইটিতে।এতে দেখাযায় শয়তানের হাত এবং পায়ে চারটি করে নখ যুক্ত আঙ্গুল,দুটি জিহ্বা যুক্ত বিভৎস চেহারা।


ছবিটি উইকিপিডিয়া হতে সংগৃহীত।