গুগল তৈরির ইতিহাস এবং google নাম দেওয়া হয় যেভাবে

বর্তমানে পৃথিবীর সেরা সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে গুগল।গ্রাহক যে বিষয়ে সার্চ করুক না কেন তার সাথে সম্পর্কিত সব চাইতে কার্যকর ফলাফল প্রদান করছে গুগল।আমরা কোন কিছু সার্চ করলে সাথে সাথে এই গুগল শত শত রেজাল্ট দেখায় যেগুলো যুক্তিযুক্ত, মানসম্মত এবং যেগুলো সর্বাধিক মানসম্পন্ন রেজাল্ট গুলো উপরে দেখায় । গুগলের শুধুমাত্র সার্চ ইঞ্জিন বাদেও আরো বহুজাতিক ব্যবসা রয়েছে। এবং গ্রাহককে সর্বাধিক সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে এটি বিশ্বের এক নম্বর স্থান দখল করে নিয়েছে। এবং গুগলের সেবার মানের কারণে গ্রাহকের এর উপর কৌতুহলও কম নয়। তাহলে আসুন জেনে নেয়া যাক গুগল কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং এর যাত্রা শুরু হয় কিভাবে এই সম্পর্কে!
ল্যারি পেজ এবং সের্গেই ব্রিন এরা ছিলেন ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএসডির দুজন ছাত্র। তখন সময়টা ছিল ১৯৯৬ সাল।তখনকার সার্চ ইঞ্জিনগুলো ছিল, সার্চ করা বিষয় গুলো কতবার সার্চ ইঞ্জিনের পাতায় এসেছে তার উপর ভিত্তি করে তারা রেজাল্ট দেখাতো।যার ফলে সর্বাধিক যুক্তিযুক্ত ফলাফল পাওয়া যেত না।তাই তাদের বিষয় ছিল এমন একটি সার্চ ইঞ্জিন  বানানোর যা তখনকার বর্তমান সার্চ ইঞ্জিন থেকে ভিন্ন হবে এবং সর্বাধিক যুক্তি যুক্ত ফলাফল দেখাবে।যার ফলে ব্যবহারকারী সর্বাধিক সেবা পাবে।

এটি সার্চ টার্মের  সাথে অন্যান্য ওয়েবসাইট গুলো  কতটা সম্পর্কযুক্ত তার ওপর নির্ভর করে ফলাফল দেখাবে।
ল্যারি পেজ এবং সার্গেই ব্রিন প্রথমে এটিকে পেজরেঙ্ক  নামে আখ্যায়িত করেন।
এবং তাদের এই সার্চ ইঞ্জিনের নাম রাখা হয় "ব্যাকরাব" এটির নাম এরকম রাখার প্রধান কারণ হচ্ছে,তারা ওয়েবসাইটটি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা বোঝার জন্য ওয়েব সাইটের ব্যাকলিংক যাচাই করত।পরবর্তীতে এর নাম ভুল করে রাখা হয় "googol"এর মানে হচ্ছে একটি সংখ্যার পেছনে 100 শূন্য রয়েছে।আর এরকম নামকরণ করার কারণ হচ্ছে তারা চেয়েছিল ব্যবহারকারীকে বিপুল পরিমাণ তথ্য সরবরাহ করতে।
প্রথমে যখন সার্চ ইঞ্জিনটি  যাত্রা শুরু করে তখন এটি চলত স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট এর অধীনে।এবং গুগল এর ঠিকানা ছিল google.stanford.edu এবং z.stanford.edu
১৫ সেপ্টেম্বর ১৯৮৭ সালে googl.com নামে তাদের ডোমেইন নিবন্ধিত হয় এবং তারা কর্পোরেট হিসেবে যাত্রা শুরু করে।এবং তারা গুগল কে পরিচালনা করতো সুজান ওজচিচকি নামক  একটি গ্যারেজ থেকে যেটি ছিল তাদের এক বন্ধুর।এবং গুগলে প্রথম নিয়োগ পান স্টানফোর্ডের ফেলো পিএইচডি ডিগ্রি প্রাপ্ত একজন ছাত্র।
তাদের একমাসে ১ বিলিয়ন ইউনিক ভিজিটর পার হয় ২০১১ সালের  মে মাসে।২০১০ সালের মে মাস হতে যা ছিল ৮.৪ ভাগ বেশি।এবং তার ২০১২ সালে বার্ষিক আয় করেন ৫০ মিলিয়ন ডলার এটি ঘোষনা দেন ২০১৩ সালের জানুয়ারি মাসে।যা ছিল ২০১১ সাল হতে ১২ বিলিয়ন ডলার বেশি।
গুগল সদরদপ্তর গুগলপ্লেক্স
প্রথমে এটি প্রাইভেট কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত
হলেও পরবর্তিতে তা পাবলিক কোম্পানিতে রুপান্তরিত হয়।
ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিন
 গুগল সম্পর্কে আরো কিছু তথ্য-

প্রাক্তন নাম
গুগল ইনকর্পোরেটেড (১৯৯৮—২০১৭)
ধরন
অধীনস্থ
শিল্প
  • ইন্টারনেট
  • সফটওয়্যার
  • হার্ডওয়্যার
প্রতিষ্ঠাকাল৪ সেপ্টেম্বর ১৯৯৮ (২০ বছর আগে) মেনলো পার্ক, ক্যালিফোর্নিয়া, যুক্তরাষ্ট্র।
প্রতিষ্ঠাতাসমূহ
  • ল্যারি পেজ
  • সের্গেই ব্রিন
সদরদপ্তর১৬০০ এম্পিথিয়েটার পার্কওয়ে, মাউন্টেইন ভিউ, ক্যালিফোর্নিয়াযুক্তরাষ্ট্র
বাণিজ্য অঞ্চল
বিশ্বব্যাপী
প্রধান ব্যক্তি
  • সুন্দর পিচাইচ (প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা)
  • রুঠ পোরাট (প্রধান অর্থনৈতিক কর্মকর্তা)
কর্মীসংখ্যা
৮৫,০৫০ (২০১৮)
মূল প্রতিষ্ঠানআলফাবেট ইনকর্পোরেটেড (২০১৫—বর্তমান)
ওয়েবসাইটgoogle.com

মৃত্যু কি এবং বিভিন্ন ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে মৃত্যু ও মৃত্যু পরবর্তী জীবন সম্পর্কে যা বলা হয়েছে

মৃত্যু শব্দটি হচ্ছে চিরন্তন সত্য কারণ এই পৃথিবীতে জন্মগ্রহণ করলে অবশ্যই তাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে।এই সত্যকে কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে হয়তো আমাদের আয়ু দীর্ঘায়িত হয়েছে আমরা বিভিন্ন প্রকার  জটিল রোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছি।তবে আমরা কেউই বলতে পারি না কে কখন মৃত্যুবরণ করবে।আমাদের সকলেরই একদিন না একদিন মৃত্যু বরণ করতে হবে এটাই সত্য।
বিজ্ঞানের ভাষায় মৃত্যু হচ্ছে প্রান আছে এমন জৈব বস্তু অর্থাৎ   জীবের জীবনের পরিসমাপ্তি কি মৃত্যু বলা হয়।অন্য দিক দিয়ে বলা যায়,মৃত্যু হচ্ছে এমন অবস্থা যখন জিবের শ্বসন,কাজ-কর্ম,খাদ্য গ্রহন অর্থাৎ যাবতীয় জাগতিক কাজ বন্ধ হয়ে যায়। 
মৃত্যু হওয়ার পরেও আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ জীবিত থাকে যেমন,মারা যাওয়ার ৫ মিনিট পরে মাথার কোষগুলোর মৃত্যু ঘটে।আবার হৃৎপিন্ডের কোষগুলো থাকে ১৫ মিনিট জিবিত।বৃক্কের গুলো প্রায় ৩০ মিনিট পর্যন্ত কার্যক্ষম থাকে।আর এর জন্যই মৃত্যুর পরে দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অন্যের শরীরে প্রতি- স্থাপন করা যায়।
আসুন তাহলে আমরা জেনে নেই বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্ধে মৃত্যু সম্পর্কে কি বলা হয়েছে।
মৃত্যু সম্পর্কে হিন্দুদের ধর্মীয় গ্রন্থ শিব পুরানে বলা হয়েছে,
যদি কোন ব্যক্তি আকাশের ধ্রুবতারা  দেখতে না পান তাহলে সে  জানবে তার আয়ু অস্তাচলে।
মৃত্যুর সব থেকে বড় ট্রাক লক্ষণ টের পাওয়া যাবে দেহের ভিতর পুরান মতে, কোন ব্যক্তির দেহে  হলদেটে ভাব,এবং তাতে রক্ত বর্ন  আভা থাকে তবে বুঝতে হবে তার মৃত্যুর সন্নিকটে রয়েছে।
মৃত্যুর আগে সবকিছুই কৃষ্ণবর্ণ হয়ে যাবে।এবং মৃত্যুপথযাত্রীর কান, চোখ, নাক, জিভ পাথরের মত হয়ে যাবে।
যদি কেউ নিজের ছায়া দেখতে না পান তিনি জানবেন তার ঘাড়ের কাছে মৃত্যু নিশ্বাস ফেলছে।
তবে মৃত্যু সম্পর্কিত সকল ব্যাখ্যা থাকলেও হিন্দুরা কি বিশ্বাস করে যে মৃত্যু হয় শুধুমাত্র দেহের আত্মার মৃত্যু হয় না।এবং আত্মার পুনরায় নতুন দেহ ধারণ করে।এবং পুনর্জন্ম হয়।এবং আত্মা যখন এভাবে পুনর্জন্ম গ্রহণ করতে করতে সম্পূর্ণ পাপমুক্ত হয়ে তখন ঈশ্বর প্রাপ্তি হয় এবং পুনরায় আর জন্মগ্রহণ করেনা।তবে সৎ কাজ করলে মানুষ স্বর্গে যায়।কিন্তু স্বর্গসুখ চিরস্থায়ী না একটা সময় স্বর্গসুখ শেষ হয়ে যায়।পূণ্যফলের উপর ভিত্তি করে  স্বর্গ সুখ প্রদান করা হয়।এবং আরো সভ্য শেষ হলে পুনরায় আবার জন্ম গ্রহণ করতে হয়।
এবার জেনে নেয়া যাক ইসলামিক দৃষ্টিকোণ থেকে মৃত্যু নিয়ে কি বলা হয়েছে,
মৃত্যু হচ্ছে আখিরাতের প্রবেশদ্বার।
মৃত্যুর মাধ্যমে মানুষের ইহজাগতিক সকল কিছুর পরিসমাপ্তি ঘটে।
মালাক উল মউত, যাকে আজরাইলও বলা হয় মৃত্যুকালে সে এসে মানব দেহ থেকে আত্মা বের করে নিয়ে যায়।এবং এটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা আছে যে ব্যক্তি সৎ এবং ধার্মিক তার মৃত্যু হয় কম যন্ত্রণাদায়ক। পক্ষান্তরে অসৎ এবং খারাপ লোক জনের মৃত্যু হয় বেদনাদায়ক।
মৃত ব্যক্তির শেষকৃত্য সম্পাদনার পর তার নিকট মুনকার-নকীর নামক নীল চোখ এবং কালো গাত্রবর্ন বিশিষ্ট দুইজন প্রশ্নকারী ফেরেশতার আসে তাঁরা মৃত ব্যক্তির ঈমান তথা বিশ্বাস পরীক্ষার জন্য তাকে প্রশ্ন করে থাকেন। সৎ বিশ্বাসী ব্যক্তি তাদের প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পারবে এবং তারা মৃত্যু পরবর্তী জীবনে শান্তিতে বসবাস করবে। কিন্ত অসৎ অবিশ্বাসী ব্যক্তিরা প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে না যার ফলে ফেরেশতারা তাদের জন্য কঠিন শাস্তি প্রদান করবেন। 

খ্রিস্ট ধর্ম মতে মৃত্যু পরবর্তী সময় হচ্ছে এমন একটি সময় যে সময় দেহের মৃত্যু ঘটলেও তার ইহজাগতিক আত্মপরিচয় এবং অস্তিত্বের রেশ বা চেতনা থেকে যায়।তবে কৃষ্টি ও চিন্তাধারার মধ্যে বিভিন্ন মতভেদ পার্থক্য দেখা যায়। কেউ মনে করেন, মৃত্যুর পর শেষ বিচারের আগে পর্যন্ত সকলেই ঘুমিয়ে থাকে এবং তারপর, সকলকেই স্বর্গে অথবা নরকে পাঠানো হবে। আবার অনেকে মনে করেন, মৃত্যুর মুহূর্তেই লোকদের বিচার শুরু হয়ে যায় এবং অনন্তকালীন চূড়ান্ত গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।এবং তাদের মধ্যে অনেকে এটা বিশ্বাস করে যে মৃত্যুর পরে তাদের একটি অস্থায়ী স্বর্গ বা নরকে পাঠানো হয় যেখানে বসে তারা অনন্তকালের গন্তব্যের জন্য অপেক্ষা করবে।
তবে তারা এটা বিশ্বাস করে পুনরুত্থানের সময় যীশু তাদের সবাইকে পাপমুক্ত করবেন।
উপরোক্ত ধর্ম ছাড়াও বিভিন্ন ধর্মের বিভিন্ন ধরনের ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে মৃত্যু সম্পর্কে।সেগুলো তুলে ধরা একটি পোস্টের  মাধ্যমে সম্ভব নয়।এবং প্রতিটি ধর্মের মৃত্যু সম্পর্কে বিশদ ব্যাখ্যা দেওয়া রয়েছে। 
এ হচ্ছে শুধুমাত্র একটি ধারণা ব্যতীত আর কিছুই না।তারান বিস্তারিত বলতে গেলে কয়েকটি পোষ্টেও শেষকরা সম্ভব নয়।তবে এর ভিতরে কোন ভুল করে থাকলে ক্ষমা করবেন।যদি ভুল হয়ে থাকে সেটা অনিচ্ছাকৃত।