লিভার ভালো রাখে যে খাবার গুলো এমন ১০ টি

লিভার আমাদের শরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী একটি অঙ্গ।লিভার আমাদের দেহের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত। যেমন খাদ্য সঠিকভাবে পরিপাকের কাজে সহায়তা করে লিভার।আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। পুষ্টির যোগান দিতে সহায়তা করে।
 তবে প্রতিদিন বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের লিভার। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং  দৈনন্দিন কাজের মধ্যে কিছু অনিয়ম।
লিভার ভাল রাখতে যা খাবেন
তবে আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ যদি আমরা লিভারকে সুস্থ রাখতে পারি তাহলেই আমাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকবে। আর যদি একবার অনিয়মিতভাবে চলাফেরার কারণে লিভার কি অসুস্থ করে ফেলি তাহলে আমাদের ভুগতে হবে বিভিন্ন জটিলতায়। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে আমরা আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে পারি। লিভারকে সুস্থ রাখার জন্য কয়েকটি খাবার সম্পর্কে আমরা আজকে আলোচনা করবো।লিভার ভালো রাখে যে খাবার গুলো এমন ১০ টি। যে সকল খাবার আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

যে সকল খাবার আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখে সেগুলো হলো-

১-রসুন:
লিভারকে ভালো রাখতে রসুন
লিভারকে সুস্থ রাখতে রসুনের  কথা না বললেই নয়। কারণ রসুন আমাদের শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে সহায়তা করে। আর তাই আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে রসুন খাওয়া উচিত। এতে একদিকে যেমন আমাদের শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর হবে তেমনি আমাদের লিভার থাকবে সুস্থ।

২-কালোজাম:
কালোজাম লিভারের জন্য উপকারি
মৌসুমী ফল হিসেবে কালোজাম এর জনপ্রিয়তা প্রচুর। আর যা আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে প্রচন্ড কার্যকরী। এ কারণেই আমাদের প্রচুর পরিমাণে জাম খাওয়া উচিত। জামের  জীবন আমাদের এবার কে রাখবে সুস্থ।

৩-কফি:
লিভারের জন্য নিয়মিত কফি
আমরা জানি কফি আমাদের শরীরকে চাঙ্গা রাখে। এছাড়া নিয়মিত কফি পান এর ফলে আমাদের লিভারের সমস্যা অনেকটা দূরে চলে যাবে। নিয়মিত কফি পান করা লিভারকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

৪-লেবু:
ক্ষষতিকর টক্সিন দুর করতে লেবু
লেবু আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।  সকল ক্ষতিকর টক্সিন দূর করার পাশাপাশি লেবু আমাদের যকৃত কেও সুস্থ রাখতে  প্রচন্ড কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৫- টক দই:
টক দই যকৃতের উপকারে
দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং দইয়ে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। তাই আমাদের নিয়মিত টক দই খাওয়া উচিত। কারণ টকদই আমাদের লিভার কে রাখে সুস্থ।

৬-আপেল:
যকৃতের সুরক্ষায় আপেল
আপেল  আমাদের  যকৃত থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।এবং আমাদের লিভার কে রাখে সুস্থ এবং সবল। এছাড়া আপেল আমাদের খাদ্যনালী থেকেও  টক্সিন দূর করে।

৭-পালংশাক ও ব্রকলি:
পালংশাক ও ব্রকলি লিভারের জন্য
পালং শাক এবং ব্রোকলি জাতীয়   খাবার লিভারের জন্য অনেক উপকারী। তাই নিয়মিত পালং শাক এবং ব্রোকলি জাতিয় খাবার খান।

৮-করলা:
করলার গুন লিভার রক্ষায়
যকৃতের সমস্যা দেখা দিলে এবং যকৃত থেকে টক্সিন জাতীয় পদার্থ বের করতে হলে আমাদের নিয়মিত করলা  খাওয়া উচিত।

৯-পানি:
পানি পান করলে লিভার সুস্থ থাকে
পানি হচ্ছে আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কারণ পানির মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায়। লিভারকে সুস্থ রাখতে পানির কোন বিকল্প নেই। লিভার সহ অন্যান্য  অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তথা আমাদের সম্পূর্ণ দেহকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

১০-বাঁধাকপি:
বাঁধাকফি যকৃতের সুরক্ষা কবচ
রসুনের মত বাঁধাকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে  সালফার এটি আমাদের লিভার বা যকৃৎ ওকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিক্যাল ডেমেজ হতে বাচতে সহায়তা করে।

যে সকল বদ অভ্যাসের কারনে লিভার ক্ষতিগ্রস্থ হয়!

 আমাদের যকৃত বা লিভার কে সুস্থ রাখতে হলে উপরোক্ত সকল খাবার খাওয়া উচিত। কারণ আমাদের দেহের গুরুত্ব পূর্ণ  একটি অঙ্গ হচ্ছে লিভার তাই এর যত্ন সঠিক সময় নেওয়া উচিত!

ওজন কমাতে না খেয়ে থাকছেন? দেখুন এর ক্ষতিকর দিকগুলো

অতিরিক্ত ওজন আমাদের সকলেরই সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ আমাদের অতিরিক্ত ওজনের ফলে শরীরের ফিটনেস নষ্ট হয় এবং কেউই চায় না অতিরিক্ত ওজন নিয়ে চলাফেরা করতে।সবাই চায় ফুর ফুরে এবং  হালকা পাতলা স্লিম বডি। ওজন কমানোর জন্য আমরা কত কিছুই না করি। তার মধ্যে আমাদের অনেকেরই দেখা যায় ওজন কমানোর জন্য আমরা না খেয়ে থাকি।এবং খুব কম পরিমাণে খাবার খাই এটি আসলে একদমই ঠিক নয়।কারণ কম খাওয়া এবং না খেয়ে থাকার  কারণে আমাদের শরীরের বিভিন্ন জটিল সমস্যা এবং পুষ্টিহীনতা দেখা দিতে পারে।


 তাহলে চলুন আজ আমরা জেনে নেই ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকার  ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে-

 পুষ্টিহীনতা-
 অতিরিক্ত ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকার ফল হতে পারে পুষ্টিহীনতা।কারণ আমাদের প্রত্যেকের শরীরের নির্দিষ্ট পরিমাণ পুষ্টি উপাদান এবং ক্যালরির প্রয়োজন রয়েছে। যদি আমরা ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকি তাহলে আমাদের শরীরে পুষ্টির  অভাব দেখা দিতে পারে। কারণ  আমাদের দেহ প্রয়োজনীয়তার  অনুপাতে খাদ্য উপাদান কম পেলে পুষ্টি হীনতা দেখা দেবে এটাই স্বাভাবিক।
চুলের সমস্যা-
 আমাদের দেহের প্রতিটা অঙ্গের  সুস্থতা এবং সঠিক বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন পুষ্টির। এবং সে পুষ্টি আসে আমাদের প্রত্যেক দিনের খাদ্য থেকে। আমরা যদি ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকি তাহলে আমাদের পুষ্টির অভাব পূরণ হবে না। আমাদের শরীরের অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের যেমন পুষ্টির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তেমনি আমাদের চুলের ও পুষ্টি উপাদানের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। যদি আপনি অতিরিক্ত ওজন কমাতে গিয়ে  খাবার খাওয়া কমিয়ে দেন তাহলে আপনার শরীরের সকল পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি দেখা দেবে।এবং ফলশ্রুতিতে চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে যাবে। এবং চুল তার স্বাভাবিক ক্ষমতা হারিয়ে ফেলবে।ফলে আপনার অন্যতম সৌন্দর্য বৃদ্ধির  উপাদান চুল হারিয়ে আপনি টাক হয়ে যাবেন!

 স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়া-

 আমরা সকলেই জানি যদি সত্যি সফল রাখবে পুষ্টি উপাদানের কোন বিকল্প নেই। নিয়মিত পুষ্টি গুন সমৃদ্ধ খাবারই  পারে আমাদের ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করতে। আপনি যখন  ওজন কমানোর জন্য খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেবেন তখনই আপনার শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি দেখা দেবে।এবং ফলশ্রুতিতে আপনি খুব দ্রুত একটা জিনিস  ভুলে যাবেন। এবং শক্তি ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে।

ওজন কমানোর বীপরিতে অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি করা-

 আপনি যখন ওজন কমানোর জন্য না খেয়ে থাকবেন এবং আপনার অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগার পরে  আপনি খাদ্য গ্রহণ করবেন। তখন আপনার দেহ অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করতে চাইবে।এবং যার ফলশ্রুতিতে একবারে আপনার অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ করা হয়ে যাবে। একবারে অতিরিক্ত খাদ্য গ্রহণ  করার কারণে আপনার ওজন কমার বীপরিতে আরো বৃদ্ধি পেতে শুরু করবে।

 শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া-
 শরীরের শক্তি  আসে খাদ্য থেকে। যখন একটি খাদ্য গ্রহণ কমিয়ে দেবে তখন আপনার শরীরের ক্যালরি গ্রহণ কমে যাবে। যার ফলে আপনার শরীর ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়বে।

 ওজন কমাতে আমাদের  না খেয়ে থাকা মোটেই উচিত নয়।বরঞ্চ পুষ্টিকর এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা উচিত।তেল চর্বি জাতীয় খাবার  অতিরিক্ত ফ্যাট জাতীয় খাবার পরিহার করুন এতে দ্রুত ওজন কমানো সম্ভব। পরিশ্রমের কাজ এবং ব্যায়াম আমাদের ওজন দ্রুত কমিয়ে আনতে সহায়তা করবে। এর ফলে আমাদের  শরীরের ওজন ঠিক থাকবে তেমনি আমাদের শরীরের সকল কিছু নিয়ন্ত্রনে থাকবে  তেমনি আমাদের ফিটনেস বজায় থাকবে।