পৃথিবীর সবচাইতে রহস্যময় বই ভয়নেচ পাণ্ডুলিপি ভয়নিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট

 
আমাদের পৃথিবীর সত্যিই রহস্যময়। আমরা নিজেরাও জানিনা পৃথিবীর চারদিকে কত রহস্যময় বস্তু রয়েছে এবং কত রহস্যময় স্থান রয়েছে। আপনি যদি মনে করেন  আপনি পৃথিবীর সকল  অসময় ঘটনা এবং স্থান সম্পর্কে জানেন তাহলে আপনার ধারণা সম্পূর্ণ ভুল এবং আপনি শুধুমাত্র জানতে শুরু করেছেন। কারণ পৃথিবীর রহস্য বলে শেষ করার মত নয়। আর এরকম একটি রহস্যময়  বিষয় হচ্ছে ভয়নেচ পাণ্ডুলিপি ইংরেজি ভয়নিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় একটি পান্ডুলিপি। ধারণা করা হয় এটি পনের তম শতাব্দীর প্রথম দিকে লেখা হয়েছিল।তবে এটির সঠিক কোনো তারিখ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
ছবি:ভয়নিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট 

 তবে রহস্য শুরু হচ্ছে এখানেই, পান্ডুলিপিটি কোন ভাষায় লেখা তা কেউ বলতে পারে না এবং এই পান্ডুলিপিটি কেও এখন পর্যন্ত  পড়তে পারেননি। এতে পড়তে না পারার প্রধান কারণ হচ্ছে এর ভাষা। কারণ এটি কোন ভাষায় লেখা কেউ বলতে পারেন না। অনেক অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন এটি আমাদের পৃথিবীর কোন বই নয় এটি কোন  ভিনগ্রহের  বই। এটির ভাষা স্বাভাবিক নয় বিশেষজ্ঞরা মনে করেন এটি কোন কৃত্রিম ভাষা। তবে বইটিতে খুব অল্প সংখ্যক  উচ্চ জার্মান ভাষা এবং লাতিন ভাষার শব্দ পাওয়া গিয়েছে।বইটি বাইনাকা এমএস ৪০২ নামেও পারিচিত।
ভয়নিক ম্যানুস্ক্রিপ্ট এর কিছু পৃষ্ঠা 

 এতে লেখক সম্পর্কে কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। এটি কোথায় পাওয়া গিয়েছে সে বিষয়ে  কোন সঠিক ধারণা নেই বিশেষজ্ঞদের সম্ভবত ইতালির উত্তর অঞ্চলের কোথায় পাওয়া গিয়েছে এই বইটি। বইটি কোডেক্স অর্থাৎ রহস্যময় বই হিসেবে পরিচিত। বইটিতে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের ছবি। গাছপালা  এবং বিভিন্ন প্রাণীর ছবি দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা মনে করে এইগুলো ভিনগ্রহের কোন প্রাণীর ছবি।
ভয়নেচ পাণ্ডুলিপি 
 বইটির লেখক, কোন ভাষাতে সংকলিত হয়েছে,কে আলোকপ্রাপ্ত করেছে, কে পৃষ্ঠপোষক, কে উৎসর্গিত করেছে কবে বা কে  এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো ধারণাই অর্জন করতে পারেনি বিশেষজ্ঞরা।

  বইটি আকার 23.5 সেন্টিমিটার * 16.20 সেন্টিমিটার *5 সেন্টিমিটার। বইটি পাওয়া গিয়েছিল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায়। বইটির 272 টি পৃষ্ঠা সমূহের মধ্যে 240 টি পৃষ্ঠা পাওয়া গিয়েছে যেমন ২০টির মধ্যে ১৮ দিস্তা পাওয়া গিয়েছে।

 বইটির কিছু পাতা হারিয়ে যায়। তবে বর্তমানে বইটির 240 টি পাতা সংরক্ষণে রয়েছে। এবং যেগুলো অধিকাংশই বিভিন্ন ছবি দ্বারা সংকলিত হয়েছে। অনেকে বর্ণনা করেন পাণ্ডুলিপিতে সে সময় কালে ভেশজ এবং গাছপালার  চিত্র রয়েছে এবং তাদের ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য রয়েছে। তবে এর কোন সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যাখ্যা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।

 ভয়নেচ পাণ্ডুলিপি বা ভয়নিক  ম্যানুস্ক্রিপ্ট প্রথম এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আমেরিকান এবং ব্রিটিশ গুপ্ত বিশ্লেষণসহ অনেক পেশাদার এবং অপেশাদার তথ্য গুপ্তবিদ্যা দ্বারা অধ্যায়ন করা হয়েছে এখন তবে এখন পর্যন্ত কেউই সংকেতের প্রতিপাদন করতে পারেনি এবং এটি সংকেত লিপি রচনা বিদ্যার  ইতিহাসে একটি বিখ্যাত রচনা।

 বইটি 1969 সালের ভয়নেচ পাণ্ডুলিপি হ্যান্স পি. ক্রাউস বিশ্ববিদ্যালয় বাইনাকা রেয়ার বুক এন্ড  ম্যানুস্ক্রিপ্ট লাইব্রেরীকে দান করা হয়। এটি একটি বাইনাকা  বিরল বই এবং পান্ডুলিপির লাইব্রেরী।