বেগম রোকেয়ার জীবনী

 
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন 1880 সালের 9 ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর থানার অন্তর্গত পায়রাবন্দ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জহির উদ্দিন আবু আলী হায়দার সাবের।এবং মাতা রাহাতুন্নেসা চৌধুরী তার প্রকৃত নাম রাখা রোকেয়া খাতুন। এবং বৈবাহিক সূত্রে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন।
বেগম রোকেয়ার জীবনী 
রোকেয়ার পিতা বহু ভাষায় সুপণ্ডিত হলেও মেয়েদের শিক্ষার ব্যাপারে ছিলেন রক্ষণশীল।বড় ভাই বোনের সাহচর্যে বাংলা ও ইংরেজি ভাষা ভালোভাবে রপ্ত করেন। এবং জ্ঞান অর্জনের প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। 1898 সালের উর্দুভাষী বিপত্নীক সৈয়দ সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জ্ঞান অর্জনের পথ সুগম হয়।বিরূপ সমালোচনা ও নানা প্রতিকূলতার মুখেও তিনি কখনোই নারী শিক্ষার লক্ষ থেকে সরে আসেননি। বরং পর্দা প্রথা ও শিক্ষা বিমুখ মুসলমান মেয়েদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার জন্য বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ছাত্র সংগ্রহ করেছেন।

রোকেয়া বাংলা গদ্যের বিশিষ্ট শিল্পী। সমাজের কুসংস্কার ও জড়তা দূর করার জন্য তিনি অসাধারণ পাণ্ডিত্যপূর্ণ ও হৃদয়গ্রাহী গদ্য রচনা করেন। তার সব রচনায় সমাজ জীবনের গভীর উপলব্ধি থেকে উৎসারিত।  মতিচুর ও অবরোধবাসিনী তার তাৎপর্যপূর্ণ গদ্যগ্রন্থ। এছাড়া সুলতানার স্বপ্ন' ও পদ্মরাগ নামে দুটি উপন্যাস তিনি রচনা করেন।

 1932 খ্রিস্টাব্দে 9 ডিসেম্বর এই মহিয়সী নারীর জীবনাবসান ঘটে।

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে পনেরোই সেপ্টেম্বর পশ্চিমবাংলা হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং মাতার নাম ভুবনমোহনী দেবী।
শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের জীবনী 
বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই উপন্যাসিক এর ছোটবেলা কাটে দারিদ্র্যের মধ্যে। ২৪ বছর বয়সে মনের চোখে সন্ন্যাসী গৃহত্যাগ করেছিলেন শরৎচন্দ্র। সঙ্গীতজ্ঞ হিসেবে খ্যাতির সূত্রে ঘটনাচক্রে এক জমিদারের বন্ধু হয়েছিলেন তিনি জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে গিয়েছিলেন বর্মা মূল্যকে অর্থাৎ বর্তমান মিয়ানমারে।

 শরৎচন্দ্র তার জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ও বিচিত্র সব মানুষের চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন তার বিভিন্ন উপন্যাসে। বিশেষ করে সমাজের নিচু তলার মানুষ তার সৃষ্ট চরিত্রের অপূর্ব মহীমা নিয়ে চিত্রিত হয়েছে। কথাশিল্পী শরৎচন্দ্রের শিল্পমানষের মূল বৈশিষ্ট্য  মানবতা ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা।

 শরৎচন্দ্রের প্রথম মুদ্রিত রচনা কুন্তলীন পুরস্কার প্রাপ্ত "মন্দির" নামে একটি গল্প। তার বিখ্যাত উপন্যাস গুলোর মধ্যে রয়েছে- দেবদাস, পল্লীসমাজ, চরিত্রহীন, শ্রীকান্ত, গৃহদাহ, দেনাপাওনা ইত্যাদি। এসব উপন্যাসে বাঙালি নারীর প্রতিকৃতি কম করে তিনি অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছেন। তার বহু উপন্যাস ভারতবর্ষের বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত ও  চলচ্চিত্রায়িত হয়েছে। তার কয়েকটি উপন্যাস বিদেশি ভাষায় অনূদিত হয়েছে।
Sarat Chandra Chattopadhyay life history 
সাহিত্যকর্মের স্বীকৃতি হিসেবে ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাকে জগত্তারিণী স্বর্ণপদক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১৯৩৬ সালে তাকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি প্রদান করে।

 শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৯৩৮ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ই জানুয়ারি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন।

ইনফ্রারেড কি এবং infrared এর A to Z সকল তথ্য জেনে নিন

আমাদের দৈনন্দিন কাজে কত প্রযুক্তিপণ্য ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু খুব কম লোকই আছে যারা এসব পণ্য সম্পর্কে বিশদভাবে ধারণা রাখেন। আমাদের এই পোস্টে এমন একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হচ্ছে  যার সাথে আপনারা সকলেই কমবেশি পরিচিত। কমবেশি বললে ভুল হবে আপনারা ১০০%  এটির সাথে পরিচিত। এটি হচ্ছে ইনফ্রারেড (infrared)।  আপনি কি জানেন এই ইনফারেট কি? infrared সম্পর্কে A to Z জেনে নেওয়া যাক।
Infrared a to z tutorial
১৮০০ শতাব্দীতে ইনফ্রারেড তরঙ্গ আবিষ্কার করেন উইলিয়াম হার্সেল। ধারণা করা যায়, ইলেক্ট্রনিক ইনফরমেশন সিস্টেম এর পরবর্তী প্রজন্ম ইনফারেট পদ্ধতিতে তথ্য আদান-প্রদানের  সাথে সম্পৃক্ত হবে। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, শ্রেণিকক্ষ, কর্মক্ষেত্র এমনকি বৃহৎ পরিসরে এই মাধ্যমটি বিশেষভাবে কার্যকর হবে। ইতিমধ্যে টেলিভিশন ভিসিআর, সিডি প্লেয়ার ইত্যাদি দূরনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে ইনফারেট প্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে। যা ব্যক্তিগত কম্পিউটার থেকে শুরু করে রাস্তার ট্রাফিক সংকেত, গৃহ সামগ্রী, এমনকি খেলাতেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

 ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক স্পেক্ট্রাম ইনফারেট(infrared) তরঙ্গের অবস্থান মাইক্রোওয়েভ ও দৃশ্যমান আলোর(visible light)  মাঝামাঝি। এ পদ্ধতিতে যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটি LED(light emitting diode) infrared signal  কে ট্রান্সমিট করে যা পরিণত হয় অদৃশ্য আলোতে(non visible light)।  গ্রাহক প্রান্তে একটি ফটো ডায়েট অদৃশ্য আলোর উপস্থিতি নিশ্চিত করে (light pulse)  এবং মুল ডেটাতে পরিণত করে। অর্থাৎ যন্ত্র কর্তৃক প্রেরিত হয়েছিল যেটা।

 উপরোক্ত তথ্যগুলো থেকে আমরা ইনফারেট সম্পর্কে সামান্য হলেও ধারণা লাভ করতে পারলাম। আসলে ইনফারেট কি এবং কিভাবে কাজ করে তা সম্পর্কে জানলাম।

আসুন ইনফ্রারেড  এর কিছু বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জেনে নেয়া যাক-
১- দৃশ্যমান আলোর চেয়ে দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য (700mm-1mm)।
২-300GHz-400THz  ফ্রিকোয়েন্সিতে কাজ করে।
৩- তার মাধ্যম হতে এর ডেটা চলাচলের গতি কম।
৪- ইনফ্রারেড যোগাযোগ ব্যবস্থা IrDA(infrared data Association)  কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত।
আসুন এবার আমরা জানবো infrared প্রযুক্তির ব্যবহার হয় এবং কিছু  প্রযুক্তি পন্য সম্পর্কে।

 ইনফ্রারেড ব্যবহৃত হয় এমন কিছু জিনিসের নাম-
১- কম্পিউটারের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশ। যেমন- মাউস, কিবোর্ড, প্রিন্টার ইত্যাদি।
২- কার লকিং সিস্টেম।
৩- গৃহ সামগ্রী বন্ধ করতে বা চালু করতে। যেমন জালনা, দরজা, লাইট, পর্দা। হোম এপ্লায়েন্স যেমন, রেডিও, টেলিভিশন ইত্যাদি।

 এবার আমরা ইন্টারনেটের সুবিধা এবং অসুবিধা সম্পর্কে জেনে নেই।

 ইনফ্রারেডের সুবিধা সমূহ-
১- ডেটা ট্রান্সমিশনে স্বল্প বিদ্যুৎ প্রয়োজন পড়ে।
২- ডেটা ট্রান্সমিশন এর ক্ষেত্রে উচ্চ নিরাপত্তা পাওয়া যায়।
৩- পৃথক কোন হার্ডওয়ারের প্রয়োজন হয় না অর্থাৎ একটি পণ্যের আইসি এর সাথে যুক্ত থাকে।

ইনফ্রারেডের  অসুবিধাসমূহ-
১- সরাসরি সূর্যলোক, বর্ষা, কুয়াশা, ধুলাবালি ডেটা ট্রান্সমিশনের প্রভাব বিস্তার করে।
২- অধিক দূরত্বের এটা ট্রান্সমিট করা যায় না।

 তবে অধিক যেটা ট্রান্সমিটার ক্ষেত্রে এখন আর ইনফারেট ব্যবহার করা হয় না। বর্তমান সময়ে অনেক আধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে যার ফলে খুব দ্রুত গতিতে ডেটা  ট্রান্সফার করা যায়। বর্তমান সময়ে এটি বেশিরভাগই  রিমোট কন্ট্রোল জাতীয় ডিভাইসের ক্ষেত্রে।

অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কি এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ

আমরা বিভিন্ন ধরনের ক্যাবল সম্পর্কে জানি। এগুলোর হল কো-এক্সিয়াল ক্যাবল, টুইস্টেড পেয়ার ক্যাবল,অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল  ইত্যাদি। তবে এর মধ্যে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল প্রযুক্তিটি নতুন তাই অপটিক্যাল ফাইবার সম্পর্কে আমাদের অনেকেরই ধারণা খুবই কম। তাই আমি আপনাদের জানাতে চেষ্টা করেছি অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কি এবং এর সুবিধা ও অসুবিধা সমূহ।
অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল কি!
বিভিন্ন ধরনের উপাদানে তৈরি আলো পরিবহনে সক্ষম অতি স্বচ্ছ মাল্টি কম্পোনেন্ট কাঁচ বা প্লাস্টিকের আঁশ দিয়ে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল তৈরি করা হয়।  ভিন্ন ভিন্ন প্রতিসরাঙ্ক বিশিষ্ট দুটি আলোক পরিবাহকের ভেতরের দিকে বলা হয় কোর এবং বাইরের দিকে বলা হয় ক্ল্যাডিং। কোরের প্রতিসরাঙ্ক ক্লাডিংয়ের প্রতিসরাঙ্ক এর তুলনায় বেশি হয়, হলে কোরের মধ্য দিয়ে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে আলোক ডেটা ট্রান্সফার করা হয়।

 সম্পূর্ণ ব্যবস্থা থেকে একটি প্লাষ্টিকের জেকেট দিয়ে আবৃত রাখা হয়। এর ডাটা ট্রান্সফার রেট 1 থেকে 2 জিবিপিএস  বা তার বেশি হতে পারে।
অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল তৈরীর উপাদান এর উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো:
১- অতি স্বচ্ছতা
২- সহজ পরিবহন যোগ্যতা
৩- রাসায়নিক নিষ্ক্রিয়তা

 কম্পিউটার বা অন্যান্য ব্যবস্থা সৃষ্ট এনালগ ডিজিটাল বৈদ্যুতিক সংকেত কে প্রয়োগ যন্ত্রের সাহায্যে প্রয়োজনীয় মডুলেশন এর মাধ্যমে ক্যাবলের পরিবহন উপযোগী আলোক তরঙ্গে পরিণত করে কেবল এর মধ্য দিয়ে প্রক্ষেপ (transmit)  করা হয়। এজন্য প্রেরক যন্ত্রের মডুলেটর  এবং আলোক উৎস হিসেবে লেজার বা লাইট ইমিটিং ডায়োড (এলইডি) ব্যবহার করা হয়। কোরের মধ্য দিয়ে আলো বারবার পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনের মাধ্যমে গ্রাহক যন্ত্রে পৌঁছায়। গ্রাহক যন্ত্রের ফটোদেতেক্টর ইউনিট অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল থেকে বিতাড়িত করে এবং প্রসেসিং ইউনিট এর  ডিমডুলেটর, এমপ্লিফায়ার এবং ফিল্টার ডেটাকে ব্যবহার উপযোগী করে।
অপটিক্যাল ফাইবার এর সুবিধা সমূহ
অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল এর সুবিধা সমূহ-
১- উচ্চ ব্যান্ডউইথ।
২- আলোর গতিতে ডাটা ট্রান্সফার হয়। অর্থাৎ অত্যন্ত দ্রুতগতিতে।
৩- ট্রান্সমিশন লস কম হয়।
৪- সরু আকৃতির এবং ওজনে অত্যন্ত হালকা।
৫- বৈদ্যুতিক চুম্বক প্রভাব থেকে মুক্ত।
৬- পারিপার্শ্বিক অবস্থা ডেটা ট্রান্সফারের বাধা সৃষ্টি করতে পারে না ফলে ডেটার নিরাপত্তা রক্ষা হয়।
অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের অসুবিধাগুলো 
অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের অসুবিধা সমূহ-
 ১-এটি ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক তৈরি করা বেশ ব্যয়বহুল।
২- এই তার ব্যবহার করে নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য অনেক বেশি কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন কর্মীর প্রয়োজন হয় ও সতর্ক হতে হয়।
৩- অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল U আকৃতিতে বাঁকালে ডাটা ট্রান্সফারের বিঘ্ন ঘটে।

তবে সামান্য কিছু অসুবিধা থাকলে ও বর্তমান সময়ের উন্নত নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল ব্যবহার করা হয়।কারণ এর গতি অন্যান্য ফলের তুলনায় অনেক বেশি। 

ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার কি এবং এগুলো আমাদের কি ক্ষতি করে ও এর থেকে বাঁচার উপায়

আমরা সবাই ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সম্পর্কে সামান্য হলেও জানি।এবং এ নাম টি আগে অনেকবার শুনেছি।আমাদের ব্যবহৃত কম্পিউটার বিভিন্নভাবে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। তাই আজ আমরা জানবো ভাইরাস কি, কিভাবে কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়, ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে আমাদের কম্পিউটারের কি কি ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে, ভাইরাস বা ম্যালওয়ারের হাত থেকে বাচার উপায়।
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার কি এবং এগুলো আমাদের কি ক্ষতি করে ও এর থেকে বাঁচার উপায়  চলুন দেখে নেওয়া যাক-
ভাইরাস বা ম্যালওয়ার কি?
ভাইরাস বা ম্যালওয়ার কি?
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার হচ্ছে এমন একটি প্রোগ্রাম যা আমাদের কম্পিউটারে প্রবেশ করার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি সাধন করে থাকে। এবং এটি থাকে ব্যবহারকারীর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এছাড়া ব্যবহারকারি বুঝতেও পারেনা তারা কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে কিনা।কারণ এটি তার কাজ চালিয়ে যায়  কম্পিউটারের  অভ্যান্তরীণ অন্যান্য অ্যাপস বা সফটওয়্যার এর মাধ্যমে।এটি আলাদা কোন সফটওয়্যার বা এপ্লিকেশন হিসেবে থাকে না। যার ফলে ব্যবহারকারী বুঝতেও পারেনা যে তার কম্পিউটারে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে কিনা।
ভাইরাস আমাদের কম্পিউটারের সকল ক্ষতি করে ।
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আমাদের কম্পিউটারে কি কি ধরনের ক্ষতি করে থাকে-
ভাইরাস আমাদের কম্পিউটারের বিভিন্ন ধরনের ক্ষতি করে থাকে যেরকম কম্পিউটারের হার্ডওয়ার কে দুর্বল করে দেওয়া। কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সৃষ্টি করা। বিভিন্ন সফটওয়্যার বা ফাইল কে নষ্ট করে দেওয়া। ডাটা চুরি অর্থাৎ আপনার কম্পিউটারের ডাটা আপনার বিনা অনুমতিতে অন্য কোন সার্ভারে প্রেরণ করা। যা থাকে সম্পূর্ণ হ্যাকার বা ভাইরাস টি যে তৈরি করেছে তার নিয়ন্ত্রণে।যেহেতু এটি তৈরি করা হয়েছে মানুষের ক্ষতি সাধন করার লক্ষ্যে।সে ক্ষেত্রে বুঝে নিতে হবে ভাইরাসটির কোনো না কোনো ক্ষতি অবশ্যই করছে আপনার। তবে ভাইরাসের প্রকারভেদ ও খতিব ভিন্নতা দেখা দিতে পারে। বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস তৈরি করা হয়। এর ভিতরে কতগুলো আছে কম শক্তিশালী।আবার কতগুলো আছে ভয়ানক ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াতে পারে।
কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হলে বোঝার উপায় ।
কিভাবে বুঝবেন আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে কিনা-
 স্বাভাবিকভাবে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে কিনা সেটি বোঝা খুবই দুস্কর। তবে কিছু কিছু লক্ষণ থেকে বুঝতে পারেন আপনার  কম্পিউটারে কি ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।যেমন বিভিন্ন এপ্লিকেশন অটোমেটিক চালু হয়ে যাওয়া।ফাইলগুলো খুলতে না পারা ইত্যাদি। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের এন্টিভাইরাস পাওয়া যায় যার মাধ্যমে জানা যায় কম্পিউটারে ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে কিনা। এবং এ সকল অ্যান্টিভাইরাস এর মাধ্যমে ভাইরাসকে নিষ্ক্রিয় করা যায়। তবে ভাইরাস এর হাত থেকে বাঁচতে আপনার সচেতন থাকা অত্যন্ত জরুরী।
ভাইরাস যেভাবে প্রবেশ করে কম্পিউটারে
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার কিভাবে আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করতে পারে-
 ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার বিভিন্নভাবে আপনার কম্পিউটারে প্রবেশ করতে পারে। তার মধ্যে অন্যতম উপায় হচ্ছে ফাইল আদান প্রদানের সময়। আপনি যদি কারো কাছ থেকে কোন ফাইল গ্রহণ করেন এবং তার কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকে সেক্ষেত্রে আপনার কম্পিউটারটি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে বেড়ে যায়। এছাড়া ইন্টারনেট ব্রাউজিংয়ের সময় ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। যেমন আপনি ইন্টারনেট থেকে কোন ফাইল ডাউনলোড করলেন যেটি বিশ্বস্ত কোন সাইট নয়। ওই সাইটে যদি কোন ভাইরাসের সমস্যা থেকে থাকে তাহলে আপনার কম্পিউটার টি ও ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। কারণ ঐ সেট থেকে আপনি যে ফাইল ডাউনলোড করবেন তার মাধ্যমে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে।
ভাইরাস বা ম্যালওয়ার থেকে বাঁচার উপায়
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার এর হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কয়েকটি উপায়-
ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সবচাইতে কার্যকরী উপায় হচ্ছে আপনার সচেতনতা অবলম্বন করা। আপনি যদি কম্পিউটার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সচেতন হন তাহলে আপনার কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমে যায়।যেসকল সতর্কতাঃ আপনি গ্রহণ করতে পারেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল, কারো সাথে ফাইল আদান প্রদানের সময় সতর্ক থাকা। এবং ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া তার কম্পিউটারটি কোন প্রকার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত কিনা। বা তার কম্পিউটারে ভাইরাস থাকার আশঙ্কা রয়েছে কিনা। ইন্টারনেট ব্যবহার সংক্রান্ত বিষয়ে সর্তকতা অবলম্বন করা। কোন অবিশ্বস্ত সাইট থেকে কোন কিছু ডাউনলোড করা থেকে বিরত থাকা। অযাচিত কোন যদি কোন প্রকার লিংক দেয় সে গুলোতে প্রবেশ না করার।আপনি এন্টিভাইরাস ব্যবহার করতে পারেন।অনেক নামিদামি এন্টিভাইরাস আছে যেগুলো ভাইরাসের আক্রমণের হাত থেকে কম্পিউটারে রক্ষা করে। এরমধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য এন্টিভাইরাস হলো ক্যাস্পারস্কি, avast  ইত্যাদি।

 ইত্যাদি এই সকল সর্তকতা অবলম্বন করলে আপনি ভাইরাসের আক্রমণ থেকে সুরক্ষিত থাকতে পারবেন।  কম্পিউটার ব্যবহারের  ক্ষেত্রে সচেতন হোন এবং ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা পান।

সাইবার ক্রাইম কি ও সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রনে আমাদের করনীয় কি

 বর্তমান সময়টা ইন্টারনেট কেন্দ্রীক! ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে গতিশীল করেছে। এরই পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংগঠিত হচ্ছে বিভিন্ন অপরাধ। যা সাইবার ক্রাইম নামে পরিচিত। আজ আমরা এই সাইবার ক্রাইম কি এবং সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমাদের করণীয় কি সে বিষয়ে জানব।ইন্টারনেট কে কেন্দ্র করে সংগঠিত অপরাধকে সাইবারক্রাইম বলে। বর্তমানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির বিকাশের ফলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে সেইসাথে সাইবার ক্রাইম বেড়ে চলছে। আমাদের সাইবার ক্রাইম কি সে বিষয়ে জানতে হবে এবং সাইবার ক্রাইমের শিকার হলে আমাদের কি করতে হবে সে বিষয়ে জানা অত্যন্ত জরুরী।
সাইবার ক্রাইম কি ও এর নিয়ন্ত্রনে করনীয় কি?
কী কী ধরনের সাইবার ক্রাইম হয়ে থাকে তা হলো-
১- বিনা অনুমতিতে কোন প্রোগ্রামের মাধ্যমে অন্যের কম্পিউটার নেটওয়ার্কে প্রবেশ করে অন্যের কম্পিউটার ব্যবহার করা বা ক্ষতি সাধন করা।এ ধরনের কাজ হলো হ্যাকিং। হ্যাকিং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে হ্যাকার বলা হয়।এক কথায় বলা যায় অনিয়ম তান্ত্রিক প্রোগ্রামার ই হলো হ্যাকার।

২- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির মাধ্যমে কোন ব্যক্তির গতিবিধি অনুমতি ছাড়া ট্রাক বা অনুসরণ করা। এভাবে ট্রাকিং করে অন্যের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করাবার চেষ্টা করা কে সাইবার আক্রমণ বলে। যা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অনৈতিক বিষয়।

৩- সফটওয়্যার পাইরেসির মাধ্যমে বিনা অনুমতিতে কারো সফটওয়্যার কপি করা। অন্যের সফটওয়্যার নিজের নামে বিতরণ করা কিংবা সামান্য পরিবর্তন করে নিজের নামে চালিয়ে দেওয়া অনৈতিক বিষয়।

 এছাড়া সামাজিক অপরাধ গুলো করার পেছনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার করা।তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে কোন ব্যক্তিকে সামাজিক ভাবে হেয় করা,মানসিক চাপে রাখা, কিংবা দূরবর্তী এলাকা থেকে কোন কিছুকে নিয়ন্ত্রণ করা যা সমাজের বা ব্যক্তি বিশেষ ক্ষতি করতে পারে ইত্যাদি কাজ ও অনৈতিক পর্যায়ে পড়ে। এগুলো সাইবার ক্রাইম এর আলোচ্য বিষয়।
সাইবার অপরাধের প্রকারভেদ
বর্তমানে আমাদের দেশে তথ্য প্রযুক্তি আইন 2006 এর 57(1) ধারা তে বলা হয়েছে,
 " যদি কোন ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইট বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে মাধ্যমে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করে যা মিথ্যা ও অশ্লীল যার দ্বারা কারো মন মানহানির ঘটে বা ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়।আর এ ধরনের তথ্যগুলোর মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে উস্কানি প্রদান করা হলে অনধিক 10 বছরের কারাদণ্ড এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রয়েছে"

 আবার,পর্নোগ্রাফি আইন 2012 তে বর্ণিত আছে,
" কোন ব্যক্তি ইন্টারনেট বা ওয়েবসাইট বা মোবাইল ফোন বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মাধ্যমে পর্ণোগ্রাফি সরবরাহ করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড এবং 2 লক্ষ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হবেন"

 অনেকেই এসব আইন সম্পর্কে জানেন না বলে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের শামিল হচ্ছে। ফলে এসব অপরাধ ও অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়েছে।
সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রনে করনীয় 
সমাজের কাছে নিজের দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা এআইটিপি নির্দেশিত বিষয়গুলো অনুসরণ করতে পারি।
যেমন-
১- আমরা নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কে জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করব।
২- আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সকল কাজ সামাজিক দায়িত্বশীলতার সাথে পালন করব।
৩- সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সকল নিয়ম কানুন শ্রদ্ধার সাথে মেনে চলবো।
৪- ব্যক্তি এবং সমাজের সমস্যা তৈরি হয় বা জন-উদ্যেগের কারণ হয় এমন কোনো তথ্য তুলে ধরবো না।
৫- ব্যক্তিগত স্বার্থে অবৈধভাবে কোন বিষয়ে ধারণা বা জ্ঞানকে ব্যবহার করব না।

 উপরোক্ত সকল বিষয়গুলো আমরা যদি সবাই মেনে চলি তাহলে সাইবার অপরাধ বা সাইবার ক্রাইম অনেকাংশে কমে যাবে। আমাদের ব্যক্তিগত প্রাতিষ্ঠানিক ও সামাজিক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার করে থাকি। প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমাদের বিবেক- বুদ্ধি ও বিবেচনাকে নৈতিকতার মানদন্ড হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে কোন ক্ষতির সম্ভাবনা থাকে না।নিজস্ব সুচিন্তা কে কাজে লাগিয়ে যে কোন অপরাধমূলক কাজকে প্রতিহত করা যায়। পেশাগত ও সামাজিক আচরণ আইসিটি প্রফেশনালদের  সিদ্ধান্ত গ্রহণের সহায়ক ভূমিকা পালন করে।সকল ক্ষেত্রে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার একটি নৈতিক মাত্রা থাকে, যা অবশ্যই বিবেচনায় আনতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নৈতিকতা রক্ষা করতে পারলে কম্পিউটার অপরাধ, সাইবার অপরাধ, হ্যাকিং, সফটওয়্যার পাইরেসি  প্রকৃতি অনৈতিক ও অপরাধমূলক কাজের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা যায়।

লিভার ভালো রাখে যে খাবার গুলো এমন ১০ টি

লিভার আমাদের শরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং কার্যকরী একটি অঙ্গ।লিভার আমাদের দেহের কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজের সাথে জড়িত। যেমন খাদ্য সঠিকভাবে পরিপাকের কাজে সহায়তা করে লিভার।আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে। পুষ্টির যোগান দিতে সহায়তা করে।
 তবে প্রতিদিন বিভিন্ন কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের লিভার। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে আমাদের খাদ্যাভ্যাস এবং  দৈনন্দিন কাজের মধ্যে কিছু অনিয়ম।
লিভার ভাল রাখতে যা খাবেন
তবে আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখা অত্যন্ত জরুরি। কারণ যদি আমরা লিভারকে সুস্থ রাখতে পারি তাহলেই আমাদের শারীরিক সুস্থতা বজায় থাকবে। আর যদি একবার অনিয়মিতভাবে চলাফেরার কারণে লিভার কি অসুস্থ করে ফেলি তাহলে আমাদের ভুগতে হবে বিভিন্ন জটিলতায়। আসুন তাহলে জেনে নেয়া যাক কিভাবে আমরা আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে পারি। লিভারকে সুস্থ রাখার জন্য কয়েকটি খাবার সম্পর্কে আমরা আজকে আলোচনা করবো।লিভার ভালো রাখে যে খাবার গুলো এমন ১০ টি। যে সকল খাবার আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

যে সকল খাবার আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখে সেগুলো হলো-

১-রসুন:
লিভারকে ভালো রাখতে রসুন
লিভারকে সুস্থ রাখতে রসুনের  কথা না বললেই নয়। কারণ রসুন আমাদের শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর করতে সহায়তা করে। আর তাই আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে এবং আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে রসুন খাওয়া উচিত। এতে একদিকে যেমন আমাদের শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল দূর হবে তেমনি আমাদের লিভার থাকবে সুস্থ।

২-কালোজাম:
কালোজাম লিভারের জন্য উপকারি
মৌসুমী ফল হিসেবে কালোজাম এর জনপ্রিয়তা প্রচুর। আর যা আমাদের লিভারকে সুস্থ রাখতে প্রচন্ড কার্যকরী। এ কারণেই আমাদের প্রচুর পরিমাণে জাম খাওয়া উচিত। জামের  জীবন আমাদের এবার কে রাখবে সুস্থ।

৩-কফি:
লিভারের জন্য নিয়মিত কফি
আমরা জানি কফি আমাদের শরীরকে চাঙ্গা রাখে। এছাড়া নিয়মিত কফি পান এর ফলে আমাদের লিভারের সমস্যা অনেকটা দূরে চলে যাবে। নিয়মিত কফি পান করা লিভারকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

৪-লেবু:
ক্ষষতিকর টক্সিন দুর করতে লেবু
লেবু আমাদের শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।  সকল ক্ষতিকর টক্সিন দূর করার পাশাপাশি লেবু আমাদের যকৃত কেও সুস্থ রাখতে  প্রচন্ড কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

৫- টক দই:
টক দই যকৃতের উপকারে
দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে এবং দইয়ে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। তাই আমাদের নিয়মিত টক দই খাওয়া উচিত। কারণ টকদই আমাদের লিভার কে রাখে সুস্থ।

৬-আপেল:
যকৃতের সুরক্ষায় আপেল
আপেল  আমাদের  যকৃত থেকে টক্সিন দূর করতে সহায়তা করে।এবং আমাদের লিভার কে রাখে সুস্থ এবং সবল। এছাড়া আপেল আমাদের খাদ্যনালী থেকেও  টক্সিন দূর করে।

৭-পালংশাক ও ব্রকলি:
পালংশাক ও ব্রকলি লিভারের জন্য
পালং শাক এবং ব্রোকলি জাতীয়   খাবার লিভারের জন্য অনেক উপকারী। তাই নিয়মিত পালং শাক এবং ব্রোকলি জাতিয় খাবার খান।

৮-করলা:
করলার গুন লিভার রক্ষায়
যকৃতের সমস্যা দেখা দিলে এবং যকৃত থেকে টক্সিন জাতীয় পদার্থ বের করতে হলে আমাদের নিয়মিত করলা  খাওয়া উচিত।

৯-পানি:
পানি পান করলে লিভার সুস্থ থাকে
পানি হচ্ছে আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। কারণ পানির মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর পদার্থ বের হয়ে যায়। লিভারকে সুস্থ রাখতে পানির কোন বিকল্প নেই। লিভার সহ অন্যান্য  অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তথা আমাদের সম্পূর্ণ দেহকে সুস্থ রাখতে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা উচিত।

১০-বাঁধাকপি:
বাঁধাকফি যকৃতের সুরক্ষা কবচ
রসুনের মত বাঁধাকপিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে  সালফার এটি আমাদের লিভার বা যকৃৎ ওকে সুস্থ রাখতে কাজ করে। এর মধ্যে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ফ্রি রেডিক্যাল ডেমেজ হতে বাচতে সহায়তা করে।

যে সকল বদ অভ্যাসের কারনে লিভার ক্ষতিগ্রস্থ হয়!

 আমাদের যকৃত বা লিভার কে সুস্থ রাখতে হলে উপরোক্ত সকল খাবার খাওয়া উচিত। কারণ আমাদের দেহের গুরুত্ব পূর্ণ  একটি অঙ্গ হচ্ছে লিভার তাই এর যত্ন সঠিক সময় নেওয়া উচিত!

নেকলেস লেখক গী দ্য মোপাসাঁ অনুবাদ:পূর্ণেন্দু দস্তিদার পর্ব-১

নেকলেস একটি অসাধারন গল্প যেটির লেখক গী দ্য মোপাসাঁ বাংলা অনুবাদ করেন পূর্ণেন্দু দস্তিদার। গল্পটি খুবই সুন্দর। আপনি পড়লে অবশ্যই আপনার ভালো লাগবে। তাই এই কারণে আমরা গল্পটি তিনটি পর্ব করে আমাদের সাইটে আপডেট করেছি।আশাকরি সম্পুর্ন গল্পটি পড়বেন।
নেকলেস-গী দ্য মোপাসাঁ
সে ছিল চমৎকার এক সুন্দরী তরুণী। নিয়তির ভুলে যেন এক কেরানীর পরিবারে তার জন্ম হয়েছে।তার ছিলনা কোন আনন্দ, কোন আশা,পরিচিত হবার, প্রশংসা পাওয়ার, প্রেম লাভ করার এবং কোন ধনী অথবা বিশিষ্ট লোকের সঙ্গে বিবাহিত হওয়ার কোন উপায় ছিল না।তাই শিক্ষা পরিষদ অাফিসের সামান্য এক কেরানির সঙ্গে বিবাহ সে স্বীকার করে নিয়েছিল।

নিজেকে সজ্জিত করার অক্ষমতার জন্য সে সাধারণভাবেই থাকতো। কিন্তু তার শ্রেণীর অন্যতম হিসেবে সে ছিল অসুখি। তাদের কোন জাতি, বর্ণ নেই। কারণ জন্মের পরে পরিবার থেকেই তার শ্রী সৌন্দর্য ও মাধুর্য সম্পর্কে সজাগ হয়ে ওঠে।সহজাত চাতুর্য,  সুরুচি আর বুদ্ধির নমনীয়তায় হলো তাদের আভিজাত্য, যার ফলে অনেক সাধারন পরিবারের মেয়েকে ও বিশিষ্ট মহিলার সমকক্ষ করে তোলে।

 সর্বদা তার মনের দুঃখ। তার ধারণা,যতসব সুরুচিপূর্ণ ও বিলাসিতার বস্তু আছে, সে গুলোর জন্যই তার জন্ম হয়েছে। তার বাস কক্ষের দারিদ্র, হতশ্রী দেয়াল, জীর্ণ চেয়ার এবং বিবর্ণ জিনিসপত্রের জন্য সে ব্যতীত হতো। তার মতো অবস্থার অন্য কোন মেয়ে এসব জিনিস যদিও লক্ষ্য করতো না,সে এতে দুঃখিত ও ক্রুদ্ধ হত। যে খর্বকায় ব্রেটন এই সাধারণ ঘড়টি তৈরি করেছিল তাকে দেখলেই তার মনের বেদনা ভরা দুঃখ আর বেপরোয়া সব স্বপ্ন জেগে উঠতো। সে ভাবতো তার থাকবে প্রাচ্য- চিত্র -শোভিত, উচ্চ ব্রঞ্চের আলোক মন্ডিত পার্শ্ব কক্ষ। আর থাকবে দুজন বেশ মোটাসোটা গৃহ ভৃত্য। তারা খাটো পায়জামা পড়ে যেই বড় আরামকেদারা দুটি নরম করার যন্ত্র থেকে বিক্ষিপ্ত ভারী হাওয়ায় নিদ্রালু হয়ে উঠছে তাতে শুয়ে ঘুমিয়ে থাকবে। সে কামনা করে একটি বৈঠকখানা পুরনো রেশমি পর্দা সেখানে ঝুলবে। থাকবে তাতে বিভিন্ন চমৎকার আসবাব যার ওপর শোভা পাবে অমূল্য সব প্রাচীন কৌতূহলোদ্দীপক সামগ্রী। যেসব পরিচিত ও আকাঙ্ক্ষিত পুরুষ সব মেয়েদের কাম্য সেসব অন্তরঙ্গ বন্ধুদের সঙ্গে বিকাল 5 টায় গল্পগুজব করবার জন্য ছোট সুরভিত একটি কক্ষ সেখানে থাকবে।
তিনদিন ধরে ব্যবহৃত একখানা টেবিল ক্লথ ঢাকা গোল একটি টেবিলে তার স্বামীর বিপরীত দিকে সে যখন সন্ধ্যা ভোজে বসে এবং খুশির আমেজে তার স্বামী বড় সুরুয়ার পাত্রটির ঢাকনা তুলতে তুলতে বলে:ও! কি ভালো মানুষ!
এর চেয়ে ভালো কিছু আমি চাই না- তখন তার মনে পড়বে আড়ম্বরপূর্ণ সন্ধ্যা ভোজের কথা, উজ্জ্বল   রৌপ্যপাত্রাদি, মায়াময় বনভূমির মধ্যে প্রাচীন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিরল পাখি চিত্রসহ কারুকার্য পুর্ন পর্দা দিয়ে ঢাকা দেওয়ালের কামনা। সেভাবে অপরূপ পাত্রে পরিবেশিত হবে অপূর্ব খাদ্য আর গোলাপি রঙের রোহিত মাছের টুকরা অথবা মুরগির পাখনা খেতে খেতে মুখে সিংহ মানবীয় হাসি নিয়ে কান পেতে শুনবে চুপিচুপি বলা প্রণয়লীলা কাহিনী।

 তার কাছে ফ্রক বা জড়ানো গহনা নেই- নেই বলতে  কিছু নেই। অথচ ঐ সব বস্তুই তার প্রিয়। তার ধারণা ওইসব এর জন্যই তার সৃষ্টি। সুখী করার, কাম্য হওয়ার, চালাক ও প্রণয়যাচিকা হবার কতইনা তার ইচ্ছা।

 তার 'কনভেন্টের' সহপাঠিনী এক ধনী বান্ধবী ছিল। তার সঙ্গে দেখা করতে তার ভালো লাগতো না। কারণ দেখা করে ফিরে এসে তার খুব কষ্ট লাগতো বিরক্তি, দুঃখ, হতাশা ও নৈরাশ্যে সমস্ত দিন ধরে সে কাঁদত।

 এক সন্ধ্যায় হাতে একটি বড় খান নিয়ে বেশ উল্লাসিত হয়ে তার স্বামী ঘরে ফিরল-

 সে বলল,'এই যে,তোমার জন্য একটা জিনিস এনেছি!

 মেথি তাড়াতাড়ি খামতি ছিল তার ভিতর থেকে খানা ছাপানো কার্ড বের করল। তাতে নিচের কথাগুলি মুদ্রিত ছিল:

' জনশিক্ষা মন্ত্রী ও মাদাম জর্জ রেমপন্নু আগামী ১৮ ই  জানুয়ারি সন্ধ্যায় তাহাদের নিজ বাসগৃহে মসিয়ে ও মাদাম লোইসেলের উপস্থিতি কামনা করেন।'

 তার স্বামীর যেমন আশা করেছিল তেমন ভাবে খুশি হওয়ার পরিবর্তে মেয়েটি বিদেশের ভাব নিয়ে আমন্ত্রণ-লিপি খানা টেবিলের উপর নিক্ষেপ করে,বিড়বিড় করে বলল:

' ওখানা নিয়ে তুমি আমায় কি করতে বল?'

 'কিন্তু লক্ষীটি আমি ভেবেছিলাম এতে তুমি খুশি হবে! তুমি বাইরে কখনো যাও না তাই এই সুযোগ, চমৎকার এক সুযোগ!

 এটা জোগাড় করতে আমাকে অনেক কষ্ট করতে হয়েছে! সবাই একখানা চায়, কিন্তু খুব বেছে বেছে দেওয়া হচ্ছে কর্মচারীদের বেশি দেওয়া হয়নি। সেখানে তুমি গোটা সরকারি মহল কে দেখতে পাবে।'

 বিরক্তির দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে মেয়েটি অধীর ভাবে বলে উঠলো:

 সে ঐ সম্পর্কে কিছু ভাবেনি। তাই সে বিব্রত ভাবে বলে-

 কেন আমরা থিয়েটারে যাবার সময় তুমি যে পোশাকটা পড়ো সেটা পড়বে। ওটা আমার কাছে খুব সুন্দর লাগে-'

 তার স্ত্রীকে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদতে দেখে সে আতঙ্কে নির্বাক হতবুদ্ধি হয়ে গেল।তার চোখের পাশ থেকে বড় বড় দুঃফোটা অশ্রু তার গালের উপর গড়িয়ে পড়ল। সে থতমত ভাবে বলল-

' কি হল?কি হল তোমার?'

 প্রবল চেষ্টায় মেয়েটি তার নিজের বিরক্তি দমন করে,তার সিক্ত গন্তু  মুছে ফেলে শান্ত কণ্ঠে জবাব দেয়:

 কিছুই না শুধু আমায় কোনো পোশাক নেই বলে আমি ওই ব্যাপারে যেতে পারবো না। তোমার যে কোনো সহকর্মীর স্ত্রীর পোশাক আমায় চেয়ে যদি ভাল থাকে কারখানা নিয়ে তাকে দাও।

 সে মনে মনে দুঃখ পায়।তারপর সে জবাব দেয়:

'মাতিলদা, বেশতো চলো আলাপ করি আমরা। এমন কোন পোশাক, অন্য কোন উপলক্ষেও যা দিয়ে কাজ চলবে অথচ সাদাসিধা, তার দাম আর কত হবে?

 কয়েক সেকেন্ড মেয়েটির চিন্তা করে দেখে এমন একটি সংখ্যার বিষয়ে স্থির করলো যার চেয়ে বসলে হিসেবে রাণীর কাছ থেকে সঙ্গে সঙ্গে এক আতঙ্কিত প্রত্যাখ্যান যেন না আসে।

 শেষপর্যন্ত ইতস্তত করে মেয়েটি বলল:


' আমি ঠিক করতে পারছি না,তবে আমার মনে হয় 400 ফ্রাঁ হলে তা কেনা যাবে'

 শুনে তার মুখ ম্লান হয়ে গেল। কারণ,তার যেসব বন্ধু গত রবিবারে নানতিয়ারের সমভূমিতে ভরতপাখি শিকারে গিয়ে ছিল, আগামী গ্রীস্মে তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার ইচ্ছা একটি বন্দুক কিনবার জন্য ঠিক ততটা অর্থই সে সঞ্চয় করেছিল।তা সত্ত্বেও জবাব দিল:

নেকলেস লেখক গী দ্য মোপাসাঁ অনুবাদ:পূর্ণেন্দু দস্তিদার পর্ব-২