বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২০

ক্রায়ােসার্জারি কী কেন ব্যবহৃত হয় এবং সুবিধা অসুবিধা সহ সকল তথ্য

ক্রায়ােসার্জারি কী কেন ব্যবহৃত হয় এবং সুবিধা অসুবিধা সহ সকল তথ্য

ক্রায়ােসার্জারি কী? গ্রিক শব্দ ক্রাউস (kruos) হতে ক্রায়াে (Cryo) শব্দের উৎপত্তি, যার অর্থ হলাে বরফের মতাে ঠাণ্ডা। চিকিৎসা বিজ্ঞানের শল্য (Surgery) শাখায় শব্দটিকে ব্যবহার করে যে চিকিৎসা পদ্ধতি চালু রয়েছে তার নাম ক্রায়ােসার্জারি। একে কখনাে কখনাে ক্রায়াে থেরাপি বা ক্রায়ােবােলেশন হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এটি একটি পুরাতন ও নতুন পদ্ধতি যা দীর্ঘদিন ধরে রােগ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আক্রান্ত ক্ষত চিকিৎসার জন্য খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দে ঠাণ্ডা পদ্ধতি ব্যবহারের যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাচীন মিসরীয়রা এবং পরবর্তীকালে হিপােক্রেটিসরা বুকের সংক্রমণ জনিত ক্ষত, মাথার খুলি ফেটে যাওয়া কিংবা যুদ্ধক্ষেত্রে আহত সৈনিকদের চিকিৎসায় এ পদ্ধতি ব্যবহারে সচেতন ছিল । ১৮৫০ সালে আরনট সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে ধারণা ব্যক্ত করেন তথা কোষসমূহকে অবশ করে ব্যথা নিবারণ করার চেষ্টা করেন। যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এনেসথেশিয়া বা অবশ বলা হয়। ক্যান্সার কোষ সমূলে উপড়ে ফেলার জন্য তিনি লবণের দ্রবণের সাথে বরফের কুচির সংমিশ্রণ ঘটিয়ে তাপমাত্রাকে -১৮ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে তা স্তন ও জরায়ুর ক্যান্সার আক্রান্ত স্থানে ব্যবহার করেন। পরবর্তীকালে বিভিন্ন উপাদান এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়। যেমন তরল কার্বন ডাই-অক্সাইড । বর্তমানে তরল নাইট্রোজেন গ্যাস (অথবা আরগন গ্যাস) ব্যবহার করা হয়, যা তাপমাত্রাকে -১৬৯ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড থেকে -২০০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে নামিয়ে আনতে পারে।

ক্রায়োসার্জারির জনক কে? ১৮৫০ সালে আরনট সর্বপ্রথম এ সম্পর্কে ধারণা ব্যক্ত করেন তথা কোষসমূহকে অবশ করে ব্যথা নিবারণ করার চেষ্টা করেন। এলিংটন ১৯৫০ সালে এ পদ্ধতিটি অস্বাভাবিক কোষ বৃদ্ধিকে ধ্বংস করতে প্রয়ােগ করেন। আপনারা হয়তাে লক্ষ করে থাকবে যে, খেলার মাঠে আঘাত জনিত আহত খেলােয়াড় যে স্থানে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছে সে স্থানে দ্রুত স্প্রে করা হয়। এতে করে তাৎক্ষণিক ভাবে সে ব্যথামুক্ত হয় এবং আবার খেলায় ফিরতে পারে। তবে ক্রায়ােসার্জারি চিকিৎসাতে আক্রান্ত কোষকে জমাট বাঁধাতে গ্যাসের ব্যবহারভেদে তাপ মাত্রার ভিন্নতা লক্ষ করা যায়।

কত তাপমাত্রায় ক্রায়োসার্জারি সেলগুলোকে ধ্বংস করার কাজ করে এবং কোন কোন গ্যাস ব্যাবহৃত হয় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কারন সঠিক তাপমাত্রা না হলে সার্জারি ঠিকমতো কাজ করবে না। ক্রায়াে সার্জারিতে ব্যবহৃত গ্যাসসমূহ ও প্রয়ােগকৃত তাপমাত্রা ছক আকারে দেখানাে হলাে:

★ তরল নাইট্রোজেন------------------ 196°C
★ ডাই মিথাইল ইথার প্রােপেন ----- 41°C
★ নাইট্রাস অক্সাইড------------------- 89°C
★ তরল অক্সিজেন-------------------- 182.9°C
★ সলিড কার্বন ডাই অক্সাইড-------79°C

ক্রায়ােসার্জারির উদ্দেশ্য: ত্বকের উপর বিবেচনা যােগ্য কোনাে কিছুর বৃদ্ধি যেমন ভাইরাস বা অন্য কোনো কারনে গোলাকার ফুসকুড়ি, প্রাক ক্যান্সার ক্ষত অথবা কোষের ক্ষতিকর ক্ষত ইত্যাদি বিনাশ করতে ক্রায়ােথেরাপি ব্যবহার করা হয়। এ পদ্ধতি বর্তমানে বিশ্বে বিভিন্ন চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হচ্ছে।

 ক্রায়োসার্জারি চিকিৎসা পদ্ধতি ব্যবহৃত হয় যেসব ক্ষেত্রে তা হলো-
 প্রােস্টেটের টিউমার, যকৃৎ, ফুসফুস, স্তন, মস্তিষ্ক, চোখের ছানি, প্রসূতি সমস্যাসহ অন্যান্য রােগে। ক্রায়ােথেরাপির মূল লক্ষ্য হলাে ত্বকের আক্রান্ত স্থানের কোষসমূহকে হিমায়িত করে ধ্বংস করা এবং এদের পার্শ্ববর্তী কোষসমূহকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা করা। আধুনিক যুগে ক্রায়ােথেরাপি হলাে এমন একটি পদ্ধতি যার মাধ্যমে অপ্রত্যাশিত ত্বক কোষকে হিমায়িত এবং ধ্বংস করে অপসারণ করা হয়।

ক্রায়ােসার্জারি চিকিৎসা পদ্ধতি : উপরের যে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের উল্লেখ করা হয়েছে, তার যে অংশে ক্রায়ােথেরাপি বা ক্রায়ােসার্জারি করা হবে সে অংশের আক্রান্ত কোষগুলাের যথাযথ অবস্থান শনাক্ত এবং এর সীমানা নির্ণয় করা হয় সিমুলেটেড সফটওয়্যারের মাধ্যমে। যেমন যকৃৎ ক্যান্সারের ক্ষেত্রে SKALPEL-ICT (Simulation Kernel Applied to the Planning and Evaluation of Image-guided Cryotherapy) সিমুলেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে এ ধরনের অসংখ্য সফটওয়্যার রয়েছে যার সাহায্যে একজন শিক্ষার্থী প্রকৃত সার্জারি কাজে অংশগ্রহণ করার পূর্বে বারবার অনুশীলন করে দক্ষ  হতে পারে।

কিছু কিছু অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ রয়েছে যেখানে প্রকৃতপক্ষে হাতে-কলমে কাজ করে দক্ষতা অর্জন প্রায় অসম্ভব। যেমন- পেটের নাড়ির ক্ষত, চোখের ভেতরের ক্ষত, জরায়ুর ক্ষত, মস্তিষ্কের ভেতরের ক্ষত ইত্যাদি। এ সকল ক্ষেত্রে ক্রায়ােসার্জারি বা ক্রায়ােথেরাপি সিমুলেটেড সফটওয়্যার ব্যবহার করে ত্রিমাত্রিক এমনকি বহুমাত্রিক ছবি তৈরি করে সফলভাবে চিকিৎসা কাজ করা সম্ভব। সাধারণত চামড়ায় ছােট ছিদ্র করে তার মধ্য দিয়ে ক্রায়ােপ্রােব (মাইক্রো-ক্যামেরাযুক্ত নল যা দিয়ে ক্ষতস্থানের শনাক্ত করা হয়) প্রবেশ করিয়ে মাত্রাতিরিক্ত ঠাণ্ডা তরল নাইট্রোজেন প্রয়ােগ করে ক্ষতস্থানের কোষ ধ্বংস করা হয় বলে সার্জারি বা শল্য চিকিৎসার চেয়ে এটি বেশ সহজ।

ক্রায়ােসার্জারিতে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ভূমিকা:
১. ক্রায়ােসার্জারিতে আক্রান্ত কোষ নির্ণয়ে এবং সমস্ত কার্যাবলি পর্যবেক্ষণের কাজে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা ব্যবহৃত হয়।
২. তাপমাত্রার প্রয়ােগ ও পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তির ব্যবহার করা হয়।
৩. ক্রায়ােসার্জারি চিকিৎসাব্যবস্থায় অভিজ্ঞ করে তুলতে ডাক্তারদের প্রশিক্ষণে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ব্যবহার করা হয়।
৪. ক্রায়ােসার্জারি সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির সরবরাহে ও মানােন্নয়নে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়।

ক্রায়োসার্জারির সুবিধা - বিশেষ করে ক্যান্সার চিকিৎসায় অন্যান্য চিকিৎসা পদ্ধতির তুলনায় এর সুবিধা বেশি। এ পদ্ধতিতে ব্যথা, রক্তপাত কিংবা অপারেশন জনিত অন্যান্য জটিলতা অনেক কম থাকে। হাসপাতাল ও চিকিৎসা ব্যয় তুলনামূলক অনেক কম এবং কোনাে কোনাে ক্ষেত্রে হাসপাতালে থাকার প্রয়ােজন পর্যন্ত হয় না। কখনাে কখনাে ক্রায়ােসার্জারি তাৎক্ষণিক অবশ কাজেও ব্যবহার করা হয়।

ক্রোয়োসার্জারির অসুবিধা- টিউমার শনাক্তকরণে চিকিৎসকগণ ইমেজিং টেস্টের মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরে এর উপস্থিতি জানার চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে যথাযথ অবস্থান নির্ণয় না করা গেলে টিউমার অপসারণের ক্ষেত্রে ক্রায়ােসার্জারির ব্যবহারে ক্যান্সার কোষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।

মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২০

ব্লগারে ঢুকতে পারছিনা কেন? সমাধান কি? (blogger is down!)

ব্লগারে ঢুকতে পারছিনা কেন? সমাধান কি? (blogger is down!)

আমরা অনেকেই ব্লগিং করি। এবং এদের মধ্যে সিংহভাগই ব্লগার ব্যাবহার করে থাকেন। গত ২-৩ দিন যাব আমাদের সকলের মনেই প্রশ্ন উঠছে ব্লগারে ঢুকতে পারছিনা কেন? এবং এ নিয়ে গুগল কোন মেইল বা আপডেটও আমাদের কাওকে জানায় নাই।
এবং দীর্ঘ অনেক সময় যাবৎ সমস্যাটির সমাধান ও দিচ্ছে না গুগল।  যারা অনেক পরিশ্রম করে ব্লগ তৈরি করেছেন বা নিজের ব্লগটি দাড় করিয়েছেন তারা তো একদম হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। তাহলে আসুন জানি গুগলের ব্লগার কেন বন্ধ হলো কারনই বা কি, কিভাবে ব্লগারে ঢুকবো বা সমস্যার কারনটাই বা কি!

আমরা সকলেই জানি গুগল ফেসবুক হচ্ছে জনপ্রিয় এবং সনামধন্য কোম্পানি। তাদের গ্রাহক রয়েছে মিলিয়ন বিলিয়নের উপরে। আর এ কারনেই তাদের পরিষেবার কোন ত্রুটি ঘটলে তারা খুব দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করেন। কিন্তু গত ৩০ মে ২০২০ হতে গুগলের একটি জনপ্রিয় পরিষেবা হচ্ছে ব্লগার যা বন্ধ করা হয়েছে। অকারনে ক্ষুদে বড় ব্লগার যারা যারা এই পরিষেবা গ্রহন করে তারা সকলেই চিন্তিত হয়ে পড়েছে। এবং এই দীর্ঘ সময় পার হওয়া সত্বেও সমস্যার কোন সমাধান করা হচ্ছে না। কেনইবা এমন হচ্ছে সব কিছুই যেন ধোঁয়াষার মত হয়ে যাচ্ছে।  মূলত এই সমস্যার জন্য গুগল দায়ী নয় বরংচ এর জন্য দায়ী হলো বাংলাদেশ।  এবং এ সমস্যা শুধুই বাংলাদেশের জন্য বিশ্বের অন্য কোন দেশ এ সমস্যা ফেইস করছে না। তাহলে কি কারনে বন্ধ করা হলো এই ব্লগার?

মূলত বাংলা ভাষা নির্ভর প্রচুর পরিমান চ'টি গল্পের  ব্লগ রয়েছে। যেগুলো এ'ডাল্ট কন্টেন্ট পাবলিশ করে থাকে। এবং বাংলাদেশ সরকার এগুলো বন্ধ করার জন্য খুবই তৎপর।  এ কারনে এসকল সাইট বন্ধ করার নির্দেশেই বাংলাদেশ হতে এসকল সাইট বন্ধ করা হচ্ছে।  কিন্তু হাতুরে ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করালে যা হয় আরকি। চ'টি ব্লগ বন্ধ করার নামে এরা ব্লগারকেই ব্লক করে দিল এবং সদর্পে চলছে চ'টি ব্লগ। এ কারনেই নেটওয়ার্ক ব্লক থাকার কারনে ব্লগার ডট কম-এ ঢুকতে পারছেনা কেউ।

তাহলে কবে ঠিক হবে ব্লগারের এ সমস্যা? এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর আমার জানা নেই কারন এ বিষয়ে কোন তথ্য এখনো প্রকাশিত হয়নি। যদি কোন তথ্য প্রকাশ করা হয় তাহলে অতিসত্বর আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে!

ব্লগারে কিভাবে ঢুকবো? মূলত এটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। এ প্রশ্নের সহজ উত্তর হলো আপনার আইপি পরিবর্তন করে অন্য দেশের আইপি ব্যাবহার করলেই ব্লগারে প্রবেশ করতে পারবেন। এ কারনে আপনারা Puffin Browser, Brave browser, VPN, Opera Mini ইত্যাদি ব্যাবহার করতে পারেন। তাহলে খুব সহজেই আপনি ব্লগারে প্রবেশ করতে পারবেন। 
ভালো ঘুম আসার ৫টি উপায় এবং ঘুমের গুরুত্ব ও সহজ চিকিৎসা

ভালো ঘুম আসার ৫টি উপায় এবং ঘুমের গুরুত্ব ও সহজ চিকিৎসা

রাতে একটা ফ্রেশ ঘুম দিয়ে সকালে Energise হয়ে ঘুম থেকে উঠার অনুভূতিটাই অন্যরকম।এতে সারাদিন মনটা এমনিতেই ভাল থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো এই আধুনিক যুগে অধিকাংশ মানুষই এখন এতোটা ভাগ্যবান নয়।
আর এই সমস্যার জন্য আমাদের মাশুলও গুনতে হচ্ছে। আর চিন্তার বিষয় হচ্ছে এই মাশুলের পরিমান কিন্তু সাধারণ নয় বরং খুবই ভয়াবহ।রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়া, প্রেশার, হতাশা, ক্যান্সার, ডায়াবেটিকস, স্মৃতি শক্তি কমে যাওয়া ইত্যাদি। এগুলো সমস্যার উদাহরণ মাত্র।
ঘুমের চিকিৎসা

দুঃখের বিষয় হচ্ছে আমাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষ এটা জানেই না যে তা বেশীরভাগ রোগ এমনকি তাকে কেমন দেখতে তাও নির্ভর করছে তার ঘুমের উপর। একটা রিসার্চ থেকে জানা গেছে যদি একজন মানুষ একরাত না ঘুমিয়ে কাটায় তাহলে তার শরীরে যে পরিমাণ ইনসুলিন ক্ষরণ হয় যা Type 2 ডায়াবেটিকসের সমান। এখন হয়তো অনেকেই আফসোস করছেন। কিন্তু যা সত্যি তা তো সত্যিই। এভাবে যদি আপনি ১ মাস বা ১ বছর এভাবে কাটান তাহলে ভাবুন আপনার কি অবস্থা হবে। Canadian Medical Association জার্নাল এ প্রকাশিত এক গবেষণা থেকে জানা যায় ঘুমের ঘাটতি ওজন কমানোর অক্ষমতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। 

দুটো গ্রুপের লোকদের নিয়ে গবেষণা করা হয়। এখানে এক গ্রুপ রাতে ৬ ঘন্টার বেশী ঘুমাতেন এবং অন্য গ্রুপ রাতে ৬ ঘণ্টার কম ঘুমাতেন। এরপর দেখা যায় যারা ৬ ঘণ্টার কম ঘুমাতেন তারা অন্য গ্রুপের তুলনায় অর্থাৎ যারা ৬ ঘন্টার বেশী ঘুমাতেন তাদের থেকে কম পরিমাণে ওজন কমাতে সক্ষম। তাই যারা নিজেদের বাড়তি ওজন নিয়ে চিন্তিত তারা রাতের ঘুমের ব্যাপারটা একটূ ভেবে দেখবেন। 

আশা করা যায় আপনি বুঝতে পেরেছেন যে ঘুমের ঘাটতি কেন একটা বড় সমস্যা যাকে একদমই অবহেলা করা ঠিক নয়। তাহলে এই সমস্যার সমাধান কী? সেটাই আপনি জানতে পারবেন এই পোষ্টটি পড়ার মাধ্যমে।

১ম উপায় : ঘুমের মূল্য বা গুরুত্ব জানা

আমরা অনেকেই হয়তো ভাবি দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটানো শুধুই সময় নষ্ট করা। দিনে ৮ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটালে তো জীবনের এক তৃতীয়াংশ সময়ই নষ্ট হয়ে যায়। আসলে ঘুমের সংজ্ঞা অসম্পূর্ণ। কেউই একে পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারেনি। সাধারণ বৈশিষ্ট্য থেকে বলা যায়, ঘুম হচ্ছে একটি প্রাকৃতিক ও পর্যায়ক্রমিক বিশ্রাম অবস্থা যেখানে চোখ বন্ধ থাকে আর চেতনা পুরোপুরি অথবা আংশিক ভাবে হারিয়ে যায় যাতে বাইরের কোনো উদ্দীপনার উপর শরীরের সাড়া দেওয়ার প্রক্রিয়া কম হতে পারে আর আপনি পুরোপুরি বিশ্রাম নিতে পারেন। 

তবে ঘুমের সংজ্ঞা থেকে আমাদের এটি বেশী জানা দরকার যে ঘুমের কারণে আমাদের কী কী উপকার হয় বা কেনই বা ঘুম আমাদের জন্য এতো গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যখন জেগে থাকেন তখন আপনার শরীরে এনার্জি খরচ হতে থাকে আর আপনি যখন ঘুমিয়ে থাকেন তখন আপনার শরীরে এনার্জি জমা হতে থাকে। 
এছাড়াও ঘুম আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করা, হরমোণের কার্য ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে, শারীরিক ক্ষমতা বাড়ায়, মেটাবলিজম বুস্ট করে এবং আমাদের ব্রেইনের কাজগুলিকেও আরও সূক্ষভাবে করতে সাহায্য করে। আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি, আপনি সঠিক ভাবে ঘুমানোর ফলে যে জীবনটা পাবেন তা কোনো মতেই হাত ছাড়া করতে চাইবেন না। 

২য় উপায় : আলোর সংস্পর্শ 

একটি ভালো ঘুমের জন্য সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে দেহে মেলাটোনিন নামক একটা হরমোণের স্বাভাবিক ক্ষরণ হওয়া। আমাদের মস্তিষ্ক থেকে এই হরমোন নিঃসৃত হয়। যেটা আমাদের শরীরে ঘুমের সময়টা মেইন্টেইন করতে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। মেলাটোনিনের ক্ষরণ Light Exposure এর সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। 

দিনে যত বেশী সম্ভব আলোর সংস্পর্শে থাকার চেষ্টা করুন আর রাতে যত বেশী সম্ভব আলো থেকে দূরে থাকুন। আর দেখুন কেমন জাদুর মতো আপনার ঘুমের মান ভালো হয়।

৩য় উপায় : স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন 

ভালো ঘুমের জন্য আপনি তাৎক্ষণিক যে কাজটি করতে পারেন তা হলো আর্টিফিসিয়াল ব্লু স্ক্রিন যেমন মোবাইল, টিভি, কম্পিউটার বা ল্যাপটপ থেকে থেকে যথাসম্ভব দূরে থাকা। যদি আপনি একটি গভীর ঘুম পেতে চান তাহলে এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটি আপনার দেহে Day Light Hormone নিঃসরণ কমিয়ে দেয়।যা আপনার সাধারণ ঘুমে প্রভাব ফেলে। যদি আপনি একটি গভীর ঘুম পেতে চান যা কিনা খুবই দরকার তাহলে শুতে যাওয়ার অন্তত ১ ঘণ্টা আগে এসব ব্লু স্কিন থেকে দূরে থাকবেন। আর আপনি যদি তা না করে যদি আপনি শুয়ে শুয়ে পাবজি খেলতে থাকেন তাহলে একটি ভাল ঘুমের আশা আপনি কিভাবে করতে পারেন?

আবার এমনও অনেক সময় হতে পারে যে আপনাকে বাধ্য হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত মোবাইল বা কম্পিউটারে কাজ করতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আপনি ব্লু লাইট ফিল্টার অ্যাপ ব্যাবহার করতে পারেন। প্লে স্টোরে আপনি এই রকম অনেক অ্যাপ খুজে পেতে পারেন। তবুও যদি আপনি কোয়ালিটি স্লিপ বা ভালো ঘুমের ব্যাপারে সতর্ক হন তাহলে ঘুমানোর অন্তত ১ঘণ্টা আগে এগুলো পরিহার করুন।

৪র্থ উপায়ঃ ক্যাফেইন পরিহার করুন

ক্যাফেইন একটি শক্তিশালী নার্ভাস সিস্টেম চাঙ্গা করে তোলা উপাদান। যদি আপনার নার্ভাস সিস্টেম সবসময় সজাগ থাকে তাহলে আপনি কখনোই ভালো ঘুমাতে পারবেন না। তাই বিকাল চারটার পর চা,কফি ইত্যাদি থেকে বিরত থাকুন। 

৫ম উপায়ঃ পরিবেশ বা ঘর ঠান্ডা রাখুন

ঘুমানোর সময় আমাদের শরীরে অটোমেটাক্যালি তাপমাত্রা কমতে থাকে। কিন্ত পরিবেশ বা আমাদের ঘরের তাপমাত্রা বেশী থাকলে তা আমাদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়। তাই সবসময় চেষ্টা করুন যাতে ঠান্ডা ঘরে ঘুমানো যায়। এক রিসার্চে জানা গেছে ২০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা আমাদের ঘুমের জন্য আদর্শ। তবে ১২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের কম এবং ২৩ ডিগ্রী সেলসিয়াসের বেশী তাপমাত্রা ঘুমের জন্য একদমই উপযুক্ত নয়। 

বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয় কিভাবে ও কয়েকটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ হয় কিভাবে ও কয়েকটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়

সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে গেল ঘূর্ণিঝড় আমফান। যার বিধ্বংসী রুপ সম্পর্কে সকলেই কম বেশি জানে। প্রতিবছর বৈশাখ জৈষ্ঠ্যমাসে আমাদের দেশে ঘূর্ণিঝড় হানা দেয়। যেগুলোর নতুন নতুন নাম থাকে যেমন ঘূর্ণিঝড় বুলবুল, সিডর আরো কতো কি। তবে আমরা অনেকেই জানতে চাই ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হয় কিভাবে।
একারনেই আজ কয়েকটি প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য এবং ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কিভাবে হয় ও কেনইবা মেয়েদের নামে নাম রাখা হয়।

Naming of cyclone

১.হারিকেন ইরমা  
হারিকেন ইরমা সৃষ্টি ২০১৭ সালের ৩০শে আগস্ট। এটি ৬ সেপ্টেম্বর বারবুডা দ্বীপে আঘাত হানে এবং দ্বীপটির ৯০ শতাংশই এর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে ১০ সেপ্টেম্বর এটি ক্যাটাগড়ি ৫ মাত্রার হারিকেনে পরিণত হয়। এর সর্বোচ্চ গতি ছিল প্রায় 300 কিলোমিটার। ইরমা ঘূর্ণিঝড় এর প্রবলতার জন্য একাধিক রেকর্ড করেছিল। ঝড়টি দীর্ঘসময় পূর্ণশক্তি ধরে রেখেছিল। এটি গতিপথে পুয়ের্তোরিকো, হাইতি, কিউবা এবং ফ্লোরিডায় আঘাত হানে। ঘূর্ণিঝড়টির কারণে অনেক এলাকায় ভূমিধস হয়। ঘূর্ণিঝড় ইরমার কারণে ৭৭.১৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয় এবং ২৮ জন মানুষ নিহত হয়।      

২. হারিকেন মাইকেল 
ঘন্টায় প্রায় ২৫০ কিলোমিটার বেগে এই ঘূর্ণিঝড় যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা উপকূলে আঘাত হানে। এটি ক্যাটাগরি ৫ মাত্রার ঘূর্ণিঝড়। হারিকেন মাইকেল যুক্তরাষ্ট্রেই একাধিক রেকর্ড গড়ে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের তৃতীয় শক্তিশালী ঝড়। এর আগে এই ১৯৩৫ সালের শ্রমিক দিবসের হারিকেন ও ১৯৬৯ সালের হারিকেন মাইকেল ছিল প্রলয়ঙ্কারী। এটি ফ্লোরিডার প্যানহান্ডলে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিধসকারী হারিকেন এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ শক্তিশালী ভূমিধসকারী হারিকেন। এই হারিকেনের চাপ ছিল ৯১৯ মিলিবার। ২৫.১ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি সহ ৭৪ মানুষ নিহত হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে এটিই নাকি ১০০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ঝড়।   

৩.টাইফুন জেবি 
১৯৯৩ সালের পর জাপানে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় এটি এবং ২৫ বছরের মধ্যে পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়। ২৬ শে আগস্ট গ্রীষ্মমণ্ডলীয় নিম্নচাপের প্রভাবে এটি সৃষ্টি হয় এবং পরেরদিন এটি তীব্রতর ও শক্তিশালী হয়। ৩১শে আগস্ট এটি মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে আঘাত হানে এবং ২রা সেপ্টেম্বর ঘন্টায় ২১৬ কিলোমিটার বেগে জাপানে আঘাত হানে। এছাড়াও যে যে জায়গায় এটি প্রভাবে ফেলে তারমধ্যে আছে তাইওয়ান ও রাশিয়ার সুদূর পূর্ব। বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ২৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। ১৭ জন মারা যায় এবং ১২.৬ বিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়।

৪.টাইফুন নিনা 
টাইফুন নিনা ১৯৭৫ সালের ৩০শে জুলাই তৈরি হয় এবং ৩১শে জুলাই এটি চীনে আঘাত হানে। এটি ভয়াবহ একটি ঘূর্ণিঝড় ছিল । অন্তত ২ লাখ ২৯ হাজার মানুষ এই ঘূর্ণিঝড়ের কারণে মারা যায়। টাইফুন নিনা ছিল চতুর্থ প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড়। এর গতিবেগ ছিল ২২২ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা।
বৃষ্টিপাতও হয় প্রচুর(৭০০ মিলিমিটার)। যার কারণে বন্যা দেখা দেয় এবং ৩ হাজারেরও বেশী ঘরবাড়ি নষ্ট হয়ে যায়। আর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাড়ায় ১.২ বিলিয়নের উপরে। 

৫.হারিকেন প্যাট্রিসিয়া 
হারিকেন প্যাট্রিসিয়া একটি ভয়াবহ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। এটি বাতাসের গতির দিক দিয়ে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড় গুলোর মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী এবং বায়ুমন্ডলীয় চাপের দিক দিয়ে ২য়। এর সর্বনিম্ন বায়ুমন্ডলীয় চাপ ছিল ৮৭২ মিলিবার এবং বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ছিল ৩৪৫ কিলোমিটার প্রতি ঘন্টা। সেন্ট্রাল আমেরিকা, টেক্সাস ও মেক্সিকো আক্রান্ত হয় এই হারিকেন দ্বারা। আর্থিক ক্ষতি হয় ৪৬২.৮ মিলিয়ন ডলার এবং মোট নিহতের সংখ্যা দাড়ায় ১২ জনে।     

ঝড়ের নামকরণ হয় কীভাবে? 
ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কিভাবে করা হয় এ নিয়ে হয়তো অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে। আসলে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা(WMO)-এর অধীনে বিভিন্ন আঞ্চলিক কমিটি। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা ২৩ মার্চ ১৯৫০ সালে গঠিত হয়। এর সদস্য রাষ্ট্র ১৯৩। উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট সকল ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করে এই সংস্থার ৮টি সদস্যরাষ্ট্র। এগুলো হলো- বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, মিয়ানমার, ওমান, থাইল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কা। প্রথম প্রথম ঝড়ের নামকরণ করা হতো নারীর নামে কিন্তু পরবর্তীতে আবার বিভিন্ন বস্তু বা জিনিসের নাম দেওয়া হয়। এর মধ্যে কিছু হলো বায়ু, মেঘ, সাগর ইত্যাদি। উত্তর ভারত মহাসাগরে সৃষ্ট ঝড়গুলোর মধ্যে বাংলাদেশ এই পর্যন্ত ৮টির নামকরণ করেছে। এগুলো হলো- অগ্নি, নিশা, গিরি, হেলেন, চপলা, অক্ষি ও সর্বশেষটা হলো ফণী।

ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ কেন নারীর নামে করা হয়?
ঘূর্ণিঝড় নিয়ে প্রচলিত বহুল প্রশ্নগুলোর একটি হচ্ছে, বেশীরভাগ ঘূর্ণিঝড়ের নাম কেন নারীর নামে করা হয়? যেমন- নার্গিস, বিজলী, ক্যাটরিনা, ইত্যাদি।
এ নিয়ে আবার অনেকে হাসি-ঠাট্টা ও করে থাকেন। আগে ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণ করা হতো অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশের উপরে ভিত্তি করে। আসলে ঘূর্ণিঝড়ের ধরনের উপর নির্ভর করে একে সহজ নামকরণ করার চেষ্টা করা হয় যাতে মানুষ সহজেই মনে রাখতে পারে। আর মানুষ নারীর নাম সহজে মনে রাখতে পারে এবং ভুলে না বিধায় ঘূর্ণিঝড়ের নামকরণের ক্ষেত্রে নারীদের নামকে বেশী প্রাধান্য দেওয়া হয়ে থাকে। ১৯৭৯ সালের পর পুরুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যেমন - ২০১৩ সালের মে মাসে বাংলাদেশে আঘাত হানা এক ভয়ংকর ঘূর্ণিঝড় ছিল মহাসেন। তৃতীয় শতকের সিংহল রাজার নাম থেকে এর নামকরণ করা হয় ঘূর্ণিঝড় মহাসেন। ঘূর্ণিঝড় সরাসরি মৃত্যু ও ধ্বংসের সাথে জড়িত বিধায় কোনো ঘূর্ণিঝড়ের নাম দুইবার করা হয় না।

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২০

বিশ্বের ভয়ংকর এবং মারাত্মক ৫টি জন্তু জানোয়ার

বিশ্বের ভয়ংকর এবং মারাত্মক ৫টি জন্তু জানোয়ার

এই রহস্যময় পৃথিবীতে রয়েছে হাজারো রকমের জীবজন্তু। কতগুলো দেখতে সুন্দর এবং স্বভাবের দিক থেকেও শান্ত স্বভাবের কতগুলো আছে ভয়ংকর আবার কত গুলো রয়েছে দেখতে সুন্দর হলেও ভয়ংকর। মনে হয় এই সুন্দর কিন্তু বিপদ জনক জিনিস গুলোর জন্যই "ভয়ংকর সুন্দর" নামক শব্দটার উৎপত্তি হয়েছে।
আজ আমরা এমন কয়েকটি জঙ্গলের সবচেয়ে ভয়ংকর জন্তু-জানোয়ার সম্পর্কে জানবো। যা আপনার জানার আগ্রহ - কে আরো বাড়িয়ে দিবে! 


১: সবুজ অ্যানাকোন্ডা (Green Anaconda) 

Green Anaconda
গ্রীণ অ্যানাকন্ডা বা সবুজ অ্যানাকন্ডা সাপ বিষহীণ।তবে বিষহীন বলে কখনোই দূর্বল মনে করবেন না! এটি সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড় আকারের প্রজাতি । দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশে এদের পাওয়া যায় বিশেষ করে অ্যামাজন জঙ্গলে। এই প্রজাতির সাপ সবচেয়ে লম্বা ও মোটা হয়। এগুলো আকারে প্রায় ২৩ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তবে ২৮ ফুট অ্যানাকন্ডাও রয়েছে বলে শোনা গেছে। প্রাপ্তবয়স্ক সবুজ অ্যানাকন্ডা সাপের ওজন সাধারণত ১০০ কেজির বেশি হয়। স্ত্রী সাপ পুরুষ সাপের চেয়ে আকারে বড় এবং ওজনে ভারি হয়। এটি প্রথমে শিকারকে কামড়ে পেচিয়ে ধরে হাড়গোড় ভেঙ্গে ফেলে। যারা ফলে শিকারটি নড়াচড়া করতে পারে না এবং অতিরিক্ত চাপের ফলে শিকারের দম বন্ধ এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ফলে মারা যায়।এর পরে এটি গোটা শিকারকে আস্ত গিলে খেয়ে নেয়! এটির শিকারের তালিকাতে রয়েছে বড় আকারের মাছ সহ হরিণ, কেইমান, ক্যাপিবারা, মানুষ এমনকি কুমির ও জাগুয়ারও বাদ যায় না!

২: বিষ ডার্ট ব্যাঙ (Poison Dart Frog)
Poison Dart Frog
এই প্রজাতি পৃথিবীর সুন্দরতম ব্যাঙের একটি। দেখতে অসম্ভব সুন্দর হলেও এটিকে অনেক ভয়ংকর বা বিষধর ব্যাঙের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়। এই ব্যাঙগুলো আকৃতিতে বেশ ছোট হয়। এটিতে এত পরিমাণ বিষ রয়েছে যে এটি এক কামড়ে ১০ জন মানুষকে একসাথে মেরে ফেলার ক্ষমতা রাখে। এই ব্যাঙ শিকারের কাজে তার বিষের ব্যবহার খুব ভালো করেই করতে জানে। প্রথমে শিকারকে জিহ্বা দিয়ে আটকিয়ে ধরে এরপর ধীরে ধীরে বিষ ঢুকিয়ে দেয় শিকারের গায়ে। অ্যামাজন জঙ্গলের আদিবাসীরা এই ব্যাঙের বিষ সংগ্রহ করে শিকারের কাজে লাগায়৷ এর জন্য তারা প্রথমে ব্যাঙের বিষ সংগ্রহ করে তীরের মাথায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় লাগায়। এরপর শিকারকে লক্ষ্য করে তীর নিক্ষেপ করে এবং তীর যদি সঠিক ভাবে লাগে তাহলে প্রাণীটি বিষের প্রভাবে মারা যায়। এই ব্যাঙের বিষ চিকিৎসা ক্ষেত্রে ব্যবহারের চেষ্টা চলছে।   

৩: হার্পি ঈগল (Harpy Eagle)
Harpy Eagle
হার্পি ঈগলের কথা সর্বপ্রথম জানা যায় ১৭৫৮ সালে সুইডেনের জীব বিজ্ঞানী কার্ল লিনেয়াসের লেখা বই ‘সিস্টেমা নেচার’-এর মাধ্যমে। হার্পি ঈগল পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রজাতির ঈগল। আকাশের সবচেয়ে বড়, শক্তিশালী এবং হিংস্র প্রজাতির পাখির মধ্যে হার্পি ঈগল অন্যতম। এই প্রজাতির ঈগল অ্যামাজন জঙ্গলে পাওয়া যায়। স্ত্রী হার্পি গুলো পুরুষ হার্পিদের তুলনায় বড় হয়। স্ত্রী হার্পিগুলোর ওজন সর্বোচ্চ ১২ কেজি পর্যন্ত হয়। আর পুরুষ হার্পিগুলোর ওজন হয় সাধারণত ৫ কেজির মতো। এই ঈগলের দেহ প্রায় ৪০ ইঞ্চি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এগুলোর পা একটি মানবশিশুর হাতের সমান মোটা হয়। এর পায়ের নখ অনেক লম্বা যার সাহায্যে এটি হরিণ, বড় আকারের মাছ এবং সাপ এমনকি চিতাবাঘ পর্যন্ত শিকার করে খেয়ে থাকে।
এগুলো সাত-আট কেজি ওজনের প্রাণী খুব সহজেই শিকার করে ফেলে। এর পাখা লম্বায় প্রায় সাড়ে সাত ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে।


৪: জাগুয়ার (Jaguar)
Jaguar
পৃথিবীতে চারটি বাঘ জাতীয় প্রাণীর মধ্যে জাগুয়ার একটি। অন্য তিনটি হলো সিংহ, বাঘ ও চিতাবাঘ। জাগুয়ার চিতাবাঘের মতোই শরীরে ছাপওয়ালা। তবে এটি চিতাবাঘের অনেক বড় এবং শক্তিশালী।   লম্বায় প্রায় সাত ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি যেমন গাছে চড়তে দক্ষ তেমনি জলে সাতার কাটতেও। কোনো জায়গায়ই তেমন কোনো কিছু এর বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না। এর প্রধান খাদ্য দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন স্তন্যপায়ী এবং সরীসৃপ। এটি মানুষ থেকে শুরু করে হরিণ, মাছ সবই খায়। এটি প্রায় ৮০ প্রজাতির প্রাণী শিকার করে। এমনকি কুমিরও এর খাবারের তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায় না।  

৫: ব্ল্যাক ক্যামন (Black Caiman)
Black Caiman
অ্যামাজন জঙ্গলে পাওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে বড় প্রজাতির কুমির হচ্ছে ব্ল্যাক ক্যামন।
এটি লম্বায় ১২ থেকে ১৩ ফুট পর্যন্ত হয়ে থাকে। এটি মাছ,শূকর,হরিণ সহ আরো নানা খাবার খায়। এটিকে অনেক সময় অ্যামাজন নদীর রাজা বলা হয়। বর্তমানে এই প্রজাতির কুমিরের চামড়া দ্বারা বিভিন্ন ব্যাগ ও জ্যাকেট বানানো হয় যা বাজারে চড়া মূল্যে বিক্র‍য় করা হয়।

রবিবার, ১৭ মে, ২০২০

সর্বপ্রথম যেভাবে আবিষ্কার হয়েছিল বিমান বা উড়োজাহাজ

সর্বপ্রথম যেভাবে আবিষ্কার হয়েছিল বিমান বা উড়োজাহাজ

মানুষের মনে-মগজে পরিব্রাজনের চেতনা ও স্বপ্ন। কূপমণ্ডুকের মতন সময় যারা আলস্যে নিঃশেষ করতে চায়, সেই নির্বোধদের সংখ্যা সর্বকালে, সর্বসময় ও  সর্বদেশে ব্যাপক নয় বলেই মনুষ্য সভ্যতা নিঃশেষিত হবার পরিবর্তে নতুন বৈচিত্র্যে পল্লবিত হয়ে উঠেছে।
সব প্রয়াসের মূলেই রয়েছে স্বপ্ন ও বাসনা। স্বপ্ন ও বাসনা থেকেই আসে নিরলস সাধনা। অর্জিত হয় বিবিধ বৈজ্ঞানিক ভেলকি। এককালে এই পৃথিবীর কিছু সংখ্যক মানুষ স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারা
নীলাকাশে পাখি হয়ে উড়ে যাবেন । খুশিমতন এখানে ওখানে যাচ্ছেন, নামছেন, অনেক উঁচু থেকে দেখছেন নীচের সুন্দর পৃথিবীকে। আপন ডানার ছন্দে নিজেকে বিভাের করে রেখেছে। ব্যাপারটা অলীক। অবিশ্বাসীরা তাচ্ছিল্যে ঠোট নাড়বে।
বিমান তৈরির ইতিহাস
Image Source : Internet 
সেই ছবির আদলে প্রথম যিনি পাখি হতে চাইলেন, তিনি বেসিমা শহরের এক যন্ত্রবিদ ফ্রাঙ্কি। তিনি চওড়া লােহার পাতের ওপর কাপড় জড়িয়ে জড়িয়ে একজোড়া ডানা তৈরি করলেন। তারপর ওই ডানা জোড়াকে নিজেই দুই হাতের সঙ্গে বেঁধে উড়তে প্রস্তুত হলেন। স্ত্রী একবার সংশয় প্রকাশ করাতে তিনি ক্ষেপে গেলেন। এরপর সে বিশেষ ভঙ্গিমায় চারতলার ছাদে উঠে গেলেন। সেখান থেকে কার্ণিশের ওপর । নীচে দলে দলে নর-নারী সকৌতুকে চেয়ে আছে। মা মেরীর নাম স্মরণ করে ছাদ থেকে ঝাঁপ দিলেন ফ্রাঙ্কি। 

দুই হাতের সঙ্গে সেট করা ডানা প্রাণপণে ঝাপটাবার চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু কিছুতেই দেহটা তার ওপরের দিকে ওঠে না, শূন্যেও ভাসমান থাকে না, বরং অনিবার্যভাবে নেমে আসতে থাকে নীচের দিকে। তবে দুই ডানায় বাতাস কাটাবার জন্য তিনি তার দেহ নিয়ে মাটিতে প্রবল বেগে আছড়ে পড়লেন না; একটু দূরে সরে গিয়ে নেমে গেলেন অন্য এক তিনতলা বাড়ির ছাদে। ফ্রাঙ্কির প্রয়াস ব্যর্থ । এই বাহ্য ব্যর্থতা বলে কোন শব্দ নেই। আপাতভাবে যা ব্যর্থ, পরবর্তী সফল প্রয়াসের সেটাই হয়তাে শুভ সূচনা।

ফ্রাঙ্কি যেখানে শেষ করলেন, ব্যাকভিল সেখান থেকেই শুরু করলেন। ইনিও একজন ফরাসী। ছােটবেলা থেকেই যন্ত্র-টন্ত্র নিয়ে সময় কাটাতে ভালবাসতেন। তাঁর একটা হিল্লে হবে বলে বাবা-মা ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতে পাঠান ভার্সাইতে। ডিগ্রি পেলেও চাকরি নিলেন না ব্যাকভিল । আসলে তদ্বির-তদারকির মাধ্যমে চাকুরি একটা জুটিয়ে সারাটা জীবন অপরের গাধাবােট হয়ে থাকতে তাঁর মন সায় দেয়নি। তাঁরও মনে সেই দুর্নিবার বাসনা, পাখির মতােন ডানা মেলে মহাশূন্যে পাড়ি জমাবাে। নিছক স্বপ্ন দেখা বা হেঁদো কথায় আসর মাৎ করা নয়। ব্যাকভিল সত্যি সত্যি তাঁর কারিগরী বিদ্যাকে কাজে লাগিয়ে এক জবরদস্ত ডানা তৈরির সাধনায় ব্রতী হলেন। 


ফ্রাঙ্কির মতােন মােটা ও সরল বস্তু নয়, অনেক পাতলা, অথচ মজবুত এবং জটিল। ঢাক-ঢােল পিটিয়ে লােকজন জোগাড় করে অনেককে ভাবনায়-ব্যাকুলতায় চঞ্চল রেখে ব্যাভিল শূন্যে উড়লেন। দুই ডানার ভীষণ ব্যস্ততায় বাতাস তােলপাড়-যন্ত্রবিদ মানুষটা উড়ে উড়ে সীন নদী পার হচ্ছেন। অল্প দূরত্ব পাড়ি দেওয়া নয়। সে সবুরও তাঁর ছিল না। প্রথম প্রয়াসেই দুনিয়ার সব মানুষকে তাক লাগিয়ে দিতে চান তিনি। কিন্তু সেই জোরজবরদস্তি চুপসে গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই। মাঝ নদীর আকাশে পৌঁছে গিয়ে প্রমাদ গুণলেন ব্যাকভিল। তার ডানা দুটো আর তেমন কাজ করছে না, ওই প্রাথমিক হুজুতিতেই কেমন যেন নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে এতদিনের প্রয়াসী সৃষ্টি ডানাদুটো আদতে নেহাৎ ক্ষীণজীবী।

ব্যাভিলের কোষে কোষে আতঙ্ক ও হতাশা। তিনি দ্রুত নেমে আসছেন নদীর দিকে। ডানা দুটো কেবল এখন অক্ষম নয়, বেঢপ ওজনদারও লাগছে তাঁর কাছে। নদীতে অবশ্য পড়লেন না ব্যাভিল । পড়লে ভালই হতাে, হয়তাে এতটা আহত হতেন না। কিন্তু আছড়ে পড়লেন ভাসমান একটি আদিকালের পালতােলা নৌকার ওপর। ভেঙ্গে গেল তার কোমর ও শিরদাঁড়া ।

জীবনের বাকিদিনগুলিতে ব্যাভিল আর সােজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন নি। অন্য পাঁচজনের দয়া ও যত্ন আত্তির ওপর নির্ভর করে বেঁচে থাকতে হয়েছে তাকে।

ওই দুই ঘটনায় ধারণা হল, ডানা বানিয়ে আকাশে ওড়ার চেষ্টাটা নিছক ছিরিছাদহীন পাগলামি, ভয়ঙ্কর বিপদ সূচক। উড়তে যদি হয়ই, অন্য কোন উপায়ের কথা ভাবতে হবে । উপায়ের সন্ধানে নেমে পড়লেন ফ্রাঙ্কের দুই ভাই। তারা খুব যত্ন করে পরিচর্যা চালিয়ে প্রস্তুত করলেন এক অতিকায় বেলুন । বেলুনটাতে ভরা হল গ্যাস। দুই ভাই নিয়ত অভ্যাসে ওই বেলুন ধরে শূনে কিছুক্ষণ দাপাদাপি করেন আবার নিশ্চিন্তে মাটিতে ফিরে আসেন। একদিন সাহস করে দুই ভাই বেলুনে কায়দা করে বসে পড়লেন। বেলুন তাদের নিয়ে হেলে-দুলে উঠল আকাশে । অনেক উঁচুতে অবশ্য ওঠা গেল না; তবে অনেক সুউচ্চ অট্টালিকার মাথা ছাপিয়ে তারা ভাসতে থাকেন । পরে এক সময় গ্যাস কমে এলে ধীরে ধীরে তারা মাটির বুকে নেমেও এলেন।

ঘটনাটির দর্শক কয়েক'শ নর-নারী । মাটিতে দিব্যি বেলুন ও তার আরােহীদের নিরাপদ শয্যা রচনা করতে দেখায় দর্শককূল সহর্ষে হাততালি দিয়ে ওঠে। দুই হামাগুড়ি দেওয়া শিশুর মতন দুই ভাই ও সানন্দে লাফিয়ে উঠলেন । সেই সাফল্যে যেন নব উদ্দীপনায় উদ্বেল । হরেক মানুষ রুটিন মাফিক তৎপরতায় বেলুন আর বেলুন তৈরি করতে থাকে। বেলুনে ধোয়া ঢুকিয়ে সকলের প্রয়াস, আকাশ পথে পাড়ি জমানাে। কেউ খানিকটা বা অনেকটা উঠে নিরাপদে ভূমিতে অবতরণ করেন। অনেকেরই আবার নামতে গিয়ে বিপত্তি। হাত ভাঙ্গে, পা ভাঙ্গে মাথা ফাটে । সব মিলিয়ে কিছু মানুষের পাগলামি বা বিচ্ছিন্ন প্রয়াস। নানা রকম দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রাণহানির ঘটনা তখনাে ঘটেনি।

বেলুনে চেপে উড়তে গিয়ে প্রথম যিনি বলি হলেন, তিনি রেজিসান । রােজিয়ার তার বেলুনে ধোয়ার পরিবর্তে ঢুকিয়ে ছিলেন হাইড্রোজেন গ্যাস। তারপর সেই বেলুনে ঝুলে যখন তিনি মাঝ আকাশে, অবশেষে বেলুনে ধরে গেল আগুন। আকাশ থেকে রােজিয়ারের মৃতদেহ আছড়ে পড়ল একটা পাহাড়ের ওপর। সেই দুঃখজনক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই সতর্ক হলেন । কিন্তু দমে গেলেন না। 

রােজিয়ারের মৃত্যুর তিনমাসের মধ্যেই আকাশে উড়বার
চমকপ্রদ কৃতিত্ব দেখালেন জেফ্রিস। জেফ্রিসের বাড়ি অ্যামেরিকায়। বয়সে তরুণ, মনে অদম্য সাহস । তিনি

বেলুনে চেপে ইংল্যাণ্ডের উপকূল থেকে উড়ে ইংলিশ চ্যানেল পার হয়ে অবতরণ করলেন ফ্রান্সের মাটিতে। চারিদিকে একেবারে ধন্য ধন্য পড়ে গেল ।

কিন্তু বেলুন যুণ থেকে বিমান যুগে মানুষ সহজে প্রবেশ করতে পারেনি জেফ্রিসের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেবার পর আরাে কয়েক যুগ অতিবাহিত হল। অভিযাত্রীরা ক্রমশ উচুতে আরাে উচুতে উঠতে লাগলেন । কিন্তু বিমান তৈরির কলাকৌশল তখনও তাদের কব্জায় এল না। ওই উঁচুতে উঠবার ব্যাপারে সবচেয়ে বাহাদুরি দেখালেন দুই তরুণ কক্সওয়েল এবং গ্লানিয়ার । কক্সওয়েল ও গ্ল্যানিয়ার তাঁদের হাইড্রোজেন ভর্তি বেলুন চেপে এতদূরে উঠলেন, যা এতকাল ছিল অকল্পনীয়।
 মাটি থেকে তারা উঠে গেলেন দশ মাইল ওপরে । কিন্তু ওই অত উচ্চতায় অক্সিজেনের যে বেশ অভাব! ফলে
মহাশূন্যে দু'জনেরই শ্বাসকষ্ট উপস্থিত হয়। বুদ্ধিমান কক্সওয়েল ওই সময় তাঁদের বেলুন থেকে অনেকটা হাইড্রোজেন গ্যাস বের করে দেন। ফলে বেলুনটা আবার ধীরে ধীরে তাদের নামিয়ে আনল মাটিতে। প্রাণে বেঁচে গেলেন কক্সওয়েল ও গ্লানিয়ার ।

প্রত্যেক অভিযাত্রীই স্বীকার করলেন, বেলুনে চেপে শূন্যপথ পাড়ি দেওয়ার ঝকমারি অনেক। বেলুন তার খুশিমতন ওড়ে, এগিয়ে যায়, যেখানে-সেখানে নেমে পড়ে; অভিযাত্রীর কোন নিয়ন্ত্রণ নেই তার ওপর। সবটাই একটা অনিশ্চিত, ঝুঁকিবহুল ব্যাপার। সুতরাং, এমন যন্ত্র আবিষ্কার করতে হবে, যার দ্বারা বেলুনের উডডীন তথা গতিপথ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

মাটিতে যেমন মটোর গাড়িকে ইচ্ছামতন নিয়ন্ত্রণ করা যায়, আকাশযানকেও তেমনি সুনিশ্চিত নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে। আকাশযানকে যন্ত্রের অধীনে আনবার নির্দিষ্ট গবেষণায় প্রথম সাড়া তুললেন অটো লিলিয়েন্থাল নামক এক যন্ত্রবিদ। তিনিই যন্ত্র চালিত গ্লাইডারের আবিষ্কারক। সেই গ্লাইডারে চেপে তিনি খানিকটা আকাশে উঠেও গেলেন। তারপর মর্মান্তিক পরিণতি-গ্লাইডারটা আছড়ে পড়লাে মাটিতে। মারা গেলেন অটো লিলিয়েন্থাল ।

অটো লিলিয়েন্থাল মারা গেলেও তার প্রদর্শিত পথেই সাফল্য এল ।
বহু যন্ত্রবিদই গ্লাইডার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করলেন। শেষাবধি সফল হলেন দুই মার্কিন ভ্রাতা-রাইট ভ্রাতৃদ্বয় । তারা দু'জনে প্রথম আবিষ্কার করলেন নিখুঁত যন্ত্রচালিত বিমান, যার সাহায্যে তারা আকাশে উড়লেন, ইচ্ছেমতন গতিপথ পরিবর্তন করলেন, আবার নিরাপদে মাটির বুকে ফিরেও এলেন ।
মিউজিক থেরাপি (Music Therapy) সঙ্গীত এক চিকিৎসার মাধ্যম

মিউজিক থেরাপি (Music Therapy) সঙ্গীত এক চিকিৎসার মাধ্যম

Music Therapy (সঙ্গীত এক চিকিৎসার মাধ্যম) : 
Music therapy
Photo Copyright : Wikipedia 

গান শোনেনা এমন মানুষ পাওয়া কঠিন ।
গান আমাদের জীবনে অঙ্গাঙ্গিভাবে যুক্ত। গান শুনলে নাকি মন ও ভাল হয়ে যায়  সত্যি তাই। কিন্তু গান যে চিকিৎসার এক মাধ্যম (মিউজিক থেরাপি) বিশ্ব জুড়ে , তা বোধহয় আমরা খুব কম মানুষই জানি।আজ তাই মিউজিক থেরাপি নিয়ে কিছু জানাই ,আর এই নিয়ে কিছু লিখতে গেলেই এক বিখ্যাত দ্যানিস লেখকের উক্তিটি মনে পড়ে যায় "Where words fall, Music speaks"- H C Anderson সত্যি আমাদের জীবনে সঙ্গীতের অবদান অনস্বীকার্য।
এবার আসল আলোচনায় আসা যাক :-

মিউজিক থেরাপি আসলে কি ?
এটি একপ্রকার চিকিৎসা যা সঙ্গীতের সাহায্যে করা হয় মানুষের বা রুগীর জীবনের গুনগতমান উন্নত করার জন্য। একজন থেরাপিষ্ট যিনি তার রুগি বা ক্লায়েন্টের ওপর করে থাকেন ।

মিউজিক থেরাপির ইতিহাস:
বিখ্যাত দার্শনিক প্ল্যাটো ও অ্যারিষ্টটল বহু কাল আগেই চিকিৎসায় মিউজিক থেরাপি ব্যবহার করেছিলেন। গ্রীস ও মিশরে রোগের নিরাময়ের জন্য মিউজিক থেরাপি ব্যবহার করা হত। মিউজিক থেরাপি প্রথম অফিশিয়ালি ব্যবহার করা হয় প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের পর পরই।
বিশ্বে প্রথম ডি্গ্রী প্রোগ্রাম মিউজিক থেরাপির ওপর শুরু হয় আমেরিকার মিসিগান এ

মিউজিক থেরাপি কেন করা হয় ?
অবশ্যই চিকিৎসার কারণে ব্যবহার করা হয়। সাধারণত কমিউনিকেশন স্কিল ,সোশ্যাল স্কিল , ডেভেলপমেন্ট স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির , কথা বলা ও ভাষাগত সমস্যা দূর করার জন্য, ব্যথানাশক হিসেবে, পারকিনসন্স, স্কিৎজোফ্রেনিয়া , এলজাইমার ও অটিজম রুগীর চিকিৎসায় এবং ভার্বাল ও নন ভার্বাল কমিউনিকেশন উন্নত করার ক্ষেত্রে মিউজিক থেরাপি সারা বিশ্বে ব্যবহৃত হয় ।

কোথায় ও কখন মিউজিক থেরাপি ব্যবহার করা হয় ?
১. লেবার রুম
২. কেমোথেরাপির সময়
৩.ডায়ালিসিশ সেন্টার এ
৪.অপারেশন থিয়েটার
৫ . সংশোধনাগারে
৬ . নিওন্যাটাল কেয়ার ইউনিটে (সদ্যজাত শিশুদের জন্মানোর পর যেখানে চিকিৎসা করা হয় .
৭ এডিকশন হোম এ যেখানে নেশাগ্রস্তদের চিকিৎসা হয় ।

এখন প্রশ্ন আসে মিউজিক থেরাপি কেন ব্যবহার করা হয় ? কি হয় এই থেরাপিতে?
আমরা যখন গান শুনি তখন তখন "ডোপামাইন " নামক এক "feel good hormone" নিঃসৃত হয় যা আমাদের মন ভাল ও হালকা রাখতে সাহায্য করে ।মিউজিক থেরাপি নিউরোট্রপিন নি:সরণ ও নিয়ন্ত্রণ করে যা আমাদের স্ট্রেশ কমাতে সাহায্য করে । ডাক্তার বাবুরা বা দিদিরা অতিরিক্ত যন্ত্রণা কমাতে রুগিকে এক ধরনের সিনথেটিক ওপিওয়েড ঔষধ ট্রামাডল ইনজেকশন ব্যবহার করে থাকেন । কিন্তু আমরা যখন গান শুনি তখন আমাদের মস্তিষ্কে র হাইপোথ্যালামাস থেকে এক ধরনের ন্যাচারাল অপিওয়েড নিঃসৃত হয় যার নাম "Endorphine " 

প্রধানত তিন ধরনের এনডরফিন নিঃসৃত হয় -
আলফা এনডরফিন
বিটা এনডরফিন
গামা এনডরফিন
এই তিন ধরনের এনডরফিন এর প্রধান কাজ ই হল ব্যাথা কমানো। তাই ব্যাথা কমানো জন্য কেমোথেরাপি ও অপারেশন থিয়েটারে গান বাজানোর চল আছে বিদেশে। শুধু তাই নয় ,এই এনডরফিন নিঃসৃত হয়ার পরেই আমাদের মনে এক "নূতন অবস্থার" সৃষ্টি হয় ,আনন্দ ও আত্মতুষ্টি বৃদ্ধি পায় যাকে মেডিকেল টার্ম এ বলে "Euphoria " .
বর্তমানে মনে করা হয় আমাদের মস্তিষ্কে র দুটি হেমিস্ফিয়ারেই মিউজিক প্রসেস হয় আর সেই কারণেই অটিজম,এলজাইমার,স্কিৎজোফ্রেনিয়া ও পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসায় মিউজিক থেরাপির ব্যবহার সর্বাধিক ।

আরো কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য :
★ Voices একটি বিশ্ব ব্যাপি জার্নাল যেখানে মিউজিক থেরাপির উপর গবেষণা সম্মন্ধীয় রিসার্চ আর্টিকেল নিবন্ধীকরণ করা হয়।
★ "World Federation of Music Therapy" প্রতি চারবছর অন্তর।
World Congress of Music Therapy উৎযাপন করে থাকে  বিশ্বব্যাপি এ যাবতীয় আলোচনার আসর বসে।
★ শুধু মানুষের জীবনেই নয় উদ্ভিদ জীবনেও মিউজিক থেরাপির ভাব আছে । বীজের অঙ্কূরোদগম ত্বরান্বিত করতে,  সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে ও উদ্ভিদের সামগ্রিক বৃদ্ধি তে সফট মিউজিক এর প্রভাব অনস্বীকার্য।

লেখক : সৌভিক পাল
লেখা: ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও কিছু রিসার্চ আর্টিকেল এর সাহায্যে।
বাংলায় অনুবাদ : ১৬/০৫/২০২০ (৫ টা ০৭ মিনিট)
ইংরেজি : 27/04/2020 (Link