পোল্ট্রি মুরগির কলিজা বাচ্চাকে খাওয়াচ্ছেন?দেখুন এর ক্ষতিকর দিক গুলো

বর্তমান সময়ের আমাদের দেশে ৯০% এর বেশি মাংসের চাহিদা পুরন করে থাকে পোল্ট্রি মুরগি ও কক জাতিয় ফার্মের পোষা মুরগি।এ সকল মুরগিকে খাওয়ানো হয় বিভিন্ন খাবার যা মুরগি কে দ্রুত বড় করে তুলে।এক মাসের ভিতর একটি ফার্মের মুরগি ১-২ কেজি পর্যন্ত বড় হয়ে যায়।এসকল মুরগির খাবারে থাকে অনেক বিশাক্ত পদার্থ যা মুরগির মাধ্যমে আমাদের শরিরে প্রবেশ করে।
চিত্র:মুরগির কলিজা

কলিজা বাচ্চার জন্য উপকারী বিধায় বেশিরভাগ মায়েরাই বাচ্চাকে কলিজা খাইয়ে থাকেন। কিন্তু বর্তমানে কলিজা খাওয়ানো আর নিজের হাতেরবাচ্চাকে বিষ খাওয়ানো সমান হয়ে গিয়েছে।
বাজার থেকে কিনে আনা কক আর ফার্মের পোল্টি মুরিগীকে যে ট্যানারির বর্জ্য থেকে তৈরীকৃত খাদ্য খাওয়ানো হয় তা আমরা বিভিন্ন খবরের কাগজ,সোশ্যাল মিডিয়া,টিভিতে দেখে থাকি।চামড়া প্রক্রিয়াজাত করার জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন বিষাক্ত ক্যামিকেল।আর এসকল বিশাক্ত বর্জ্য দিয়ে তৈরি হয় পোল্ট্রি মুরগির খাবার।  ট্যানারির চামড়া থেকে যে বর্জ্য পদার্থ হয় তাতে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর বিষাক্ত ক্রোমিয়াম থাকে।আর এই বিষাক্ত ক্রোমিয়াম হতে পারে আমাদের মৃত্যুর কারণ। 
কলিজা হলো প্রতিটি জীবের দেহের শোধনাগার। তাই মুরগির কলিজা মুরগীকে বাচানোর জন্য বেশিরভাগ ক্রোমিয়াম সংগ্রহ করে নিজের মধ্যে জমিয়ে রাখে।সাম্প্রতিক কালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ডঃ আবুল হোসেনের গবেষনায় দেখা গিয়েছে মুরগীর দেহের মধ্যে কলিজাতে ৬১২ মাইক্রোগাম ক্রোমিয়াম জমে।যেখানে ক্রোমিয়াম খাওয়ার নিরাপদ মাত্রা হলো ৩৫ মাইক্রোগাম।
চিত্র:পোল্ট্রি মুরগি


তবে প্রথম ও দ্বীতিয় স্থানে আছে মগজ (৪৫২০ মাইক্রোগ্রাম) ও হাড় (২০০০ মাইক্রোগ্রাম)। আর সবচেয়ে কম আছে মাংসে। তবে সেটাও নিরাপদ মাত্রায় না। তাই কলিজা,মগজ আর হাড়ের সুপ খাওয়ানোর সময় অবশ্যই আরেকবার ভাবা উচিত।
খাওয়াতে চাইলে একদম ঘরে পালা মুরগী অথবা গরু/খাসীর কলিজা খাওয়ানো উচিত।কারন এসকল মুরগির খাবারে ক্রোমিয়াম থাকে না।
আর স্যুপ খাওয়াতে চাইলে, বাচ্চা মুরগীর খাওয়ানো উচিত, কারণ তাতে ক্রোমিয়াম কম জমা থাকে কারন বয়সের সাথে সাথে জমার পরিমাণ বাড়ে।
ক্রোমিয়াম এর ধারণাটি নতুন তাই এটা নিয়ে কেউ ভাবেনা।
আপনাকে যদি ১ গ্লাস পানি দিয়ে বলা হয় এতে আর্সেনিক আছে, অথবা ফল দিয়ে বলা হয় এটা এই মাত্র ফরমালিন এ চুবিয়ে আনা হয়েছে, আপনি কি বাচ্চাকে খাওয়াবেন?

কারণ ফরমালিন আর আর্সেনিক সম্পর্কে আমরা ছোটবেলা থেকে শুনে এসেছি এবং জানি।তাই আমরা ফরমালিন এবং আর্সেনিক  থেকে ব্যাপক সচেতনতা গ্রহণ করি। কিন্তু আমরা ক্রোমিয়াম সম্পর্কে ততটা সচেতন নয় বলে আমরা কোন গুরুত্ব দেই না।কিন্তু এটি কতটা মহামরি আকার ধারন করতে পারে তা আমরা কল্পনা করেও দেখছি না।এর ফলে ক্যান্সের মত ব্যাধি আমাদের খুব সহজেই আক্রান্ত করতে পারে।
তাই ঘরে ঘরে রোগাক্রান্ত মানুষ দেখার আগেই আমাদের ক্রোমিয়াম সম্পর্কে সচেতন হওয়া উচিত।
আমাদের সকলে সচেতনতা পারে আমাদের সুস্থ ও সুন্দর শরির নিশ্চিত  করতে পারে।আমাদের উচিত এসকল কিছু বর্জন করে চলা।

0 comments:

কমেন্ট করুন!