বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

রচনাঃ বেকার সমস্যা ও এর প্রতিকার
অথবা, বেকারত্ব সমস্যা সমাধান।
অথবা, বাংলাদেশের বেকার সমস্যা রচনা।
অথবা, বাংলাদেশের বেকারত্বের কারণ।
অথবা, বাংলাদেশে কর্মসংস্থান সমস্যা ও সমাধান।
ভূমিকা : একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে যে যুবক শিক্ষাঙ্গন থেকে শিক্ষাজীবন শেষ করে বেরিয়ে যায়, স্বভাবতই তার প্রত্যাশা থাকে একটি কমসংস্থান নিশ্চিত করা। বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র এ দেশ সেই শিক্ষিত যুবকটির কর্মসংস্থানের কোনাে গ্যারান্টি দিতে পারে না।স্বাধীনতার তিন দশক পরও এ অবস্থাকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলাদেশ। হাজারাে সমস্যায় জর্জরিত এ দেশটির সবচেয়ে করুণ ও মর্মস্পশা সমস্যার নাম বেকারত্ব। এ মুহূর্তে এদেশে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত বেকার যুবকের সংখ্যা প্রায় দুই কোটি। যতই দিন যাচ্ছে বেকার সমস্যা ততই বেড়ে চলেছে। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা যেহেতু আগে থেকেই দুর্বল তাই ক্রমবর্ধমান এ বেকার সমস্যা সার্বিক অর্থনীতিকে হুমকির সম্মুখীন করে তুলেছে।


বেকার সমস্যার উদ্ভব : এমন এক সময় ছিল যখন বাংলাকে বলা হতাে সােনার বাংলা। তখন এদেশে কর্মহীন লােক ছিল খুবই কম।তখন ছিল কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। কিন্তু ইংরেজ শাসনামলে যখন কৃষি ব্যবস্থা এবং কুটির শিল্পকে ধ্বংস করে দেওয়া হয় তখন থেকেই এ সমস্যার উদ্ভব। ইংরেজরা এ অঞ্চলে কোনাে শিল্প গড়ে উঠতে দেয় নি। আবার কৃষিকে দুর্বল করে দেওয়ায় দ্রুত বেকারত্বের হার বাড়তে থাকে। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশ ব্যাপকভাবে শােষণের শিকার হওয়ায় বেকার সমস্যা আরাে বৃদ্ধি পায়। স্বাধীনতার পর সামরিক শাসন এবং রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণে বেকার সমস্যা আজ প্রকট আকার ধারণ করেছে।

বেকার সমস্যার কারণ : বাংলাদেশে বিভিন্ন কারণে বেকার সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। নিচে এ সম্পর্কে যথাযথ বর্ণনা উপস্থাপন করা হলাে :
ক) এদেশে দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি বেকারত্বের অন্যতম কারণ। যে হারে জনসংখ্যা বাড়ছে সে হারে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। আর জনসংখ্যার বৃহৎ অংশ শিক্ষা থেকে এখনও পিছিয়ে।
খ) এদেশের কৃষকরা বছরের ৬ মাস কৃষির সাথে জড়িত থাকে। বাকি ছয় মাস বেকার জীবনযাপন করে।
গ) মধ্যবিত্ত শ্রেণির বেকার সমস্যা সবচেয়ে বেশি। এ শ্রেণি শ্রমশিল্পে এবং কৃষিকাজে একেবারে অনভ্যস্ত। আবার মূলধনেরও সমস্যা।এদের একমাত্র ভরসা চাকরি। কিন্তু চাকরি এখন সােনার হরিণ।
ঘ) দেশের মধ্যে যারা অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, তারা শিল্প-কারখানা স্থাপনে আগ্রহী না হওয়ায় কর্মসংস্থানের সুযােগ কম।
ঙ) তাছাড়া আমাদের দেশ কারিগরি শিক্ষায় পিছিয়ে। অথচ বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা অপরিহার্য।
চ) এদেশে দক্ষ জনশক্তিরও অভাব রয়েছে।

ক্ষতিকর দিক ; বেকার সমস্যার কারণে দেশে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, অপহরণ এবং খুনের পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। সর্বোপরি এ বিপুল বেকার সমাজ এখন দেশের বােঝা হিসেবে পরিগণিত। বেকার সমস্যা দূর করা সম্ভব না হলে হলে এ অবস্থা আরাে ভয়াবহ রূপ ধারণ করবে- এ কথা নির্ধিধায় বলা যায় । কথায় আছে, “অভাবে স্বভাব নষ্ট"

বেকার সমস্যা সমাধানের উপায় : রাতারাতি এ সমস্যা দূর করা সম্ভব হবে না। তাই এ সমস্যা দূরীকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে।যেমনঃ
ক) শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে হবে। যাতে শিক্ষার্থীরা কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন হয়।
খ) শিক্ষিত বেকার যুবকদেত্ত যুব প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল কাজে নিয়ােগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
গ)দেশে বিদেশি বিনিয়ােগের পরিমাণ বাড়ানাের জন্য সরকারকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ঘ) কাছিখাতকে সারা বছরব্যাপী উৎপাদনের আওতায় আনতে হবে এবং কৃষকদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে।
ঙ) আমাদের শিক্ষিত বেকারদেরকে আত্ম-কর্মসংস্থানে উদ্বুদ্ধকরণ এবং সে জন্য প্রয়ােজনীয় সরকারি সাহায্য নিশ্চিত করতে হবে।
চ) দেশে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে হবে।

বেকার সমস্যা সমাধানে বিভিন্ন পদক্ষেপ : বেকার সমস্যা সমাধানে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন পদক্ষেপ ইতােমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে ।গ্রামীণ ব্যাংক, ব্র্যাক, প্রশিকা সহ শত শত এনজিও এ ক্ষেত্রে কাজ করছে। তাছাড়া বাংলাদেশ সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর বিশেষ ভূমিকা পালন করছে। কর্মসংস্থান ব্যাংক বেকারত্ব দূরীকরণে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।


উপসংহার : বেকারত্ব একটি অভিশাপ। তাই এ সমস্যা থেকে উত্তরণে নিজেদেরকেই সচেষ্ট হতে হবে। বেকার যুবকদেরকে সমবায়ের মাধ্যমে সুসংগঠিত হতে হবে। তাদের মনে রাখতে হবে বর্তমানে মূলধনপ্রান্তি কোনাে সমস্যা নয়। সমস্যা শুধুই উদ্যোগের ।

নবীনতর পূর্বতন