ডোমেইন বাই সেল ব্যাবসার খুটিনাটি এবং বিজনেস আইডিয়া

সকলের বেঁচে থাকার জন্য দরকার অর্থ। আর এই অর্থের জন্য মানুষ বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হয়।কেউ ডাক্তারি পেশায় আবার কেউ ইঞ্জিনিয়ার। কেউবা চাকুরীজিবী।

পেশা যাই হোক প্রথম লক্ষ হলো টাকা আয় করা।কেউবা করে ব্যবসা আর এরই উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন বিজনেস আইডিয়া তৈরি হয়।কারন স্বল্প বিনিয়োগে সর্বাধিক মুনাফা অর্জন সকলেরই আশা। এর উপর ভিত্তি করে আপনাদের জন্য আজ দাড়ুন একটি ইউনিক বিজনেস আইডিয়া নিয়ে এলাম।এটি একটি ইউনিক বিজনেস আইডিয়া কারন এটি স্মার্ট আয়ের উপায়।এখানে আপনার পন্য পরিবহন, মার্কেটিং, প্রতিষ্ঠান বা লাইসেন্স এর দরকার হবে না।এটি হলো ডোমেইন ব্যবসা। আপনি ডোমেইন কিনবেন এবং বিক্রি করবেন এটিই হলো আপনার প্রধান কাজ।
ডোমেইন বাই সেল
ডোমেইন বিজনেস
কম পুজির বিজনেস আইডিয়া হিসেবে এটি একটি জনপ্রিয় ব্যাবসা হতে পারে। আমরা সাধারণ ডোমেইন ব্যবসায় বলতে ডোমেইন রেজিস্টার কে বুঝি। যাদের থেকে আমরা ওয়েবসাইট তৈরির জন্য ডোমেইন ক্রয় করি। এবং তাদের ডোমেইনের মূল্য পরিশোধ করি।এছাড়াও প্রতি বছর রিনিউ করতেও তাদের টাকা প্রদান করতে হয়। কিন্তু আমরা ডোমেইন ব্যবসা বলতে আজ ডোমেইন রেজিস্ট্রার সম্পর্কে আলোচনা করবো না। আমাদের মূল কাজ হবে এই রেজিস্ট্রার থেকে ডোমেইন কিনে অন্য মানুষের নিকট দাম হাকিয়ে বিক্রি করা। আসুন একটু বিস্তারিত আলোচনা করা যাক।দেখি এই ব্যাবসা কেমন, কতোটা ঝুকিপূর্ণ এবং লাভ ক্ষতি কেমন হতে পারে।

ধরুন আমরা একটি সাইট তৈরি করবো। তাহলে আমাদের প্রথম প্রয়োজন একটি ডোমেইন। আপনি ব্লগ করুন বা আপনার প্রতিষ্ঠানের নামেই ওয়েবসাইট করুন। আপনার একটি নির্দিষ্ট বা পছন্দসই নাম তো থাকবে। যে আমি ওই নামে সাইট করবো বা আমার প্রতিষ্ঠানের নাম প্রান গ্রুপ তাহলে আমাদের সাইটের ডোমেইন নাম ও হবে Prangroup.com বা pran.com।এর জন্য কি করতে হবে? আমাদের আগে একটি ডোমেইন কিনতে হবে। যার মাধ্যমে সকলে বুঝতে পারে যে সাইটটি ঔ নির্দিষ্ট কোম্পানির। এখন এর জন্য তাদের একটি ডোমেইন রেজিষ্ট্রেশন করতে হবে। কিন্তু একটি ডোমেইন একাধিক বার ক্রয় করা যায় না। কেউ যদি আপনার প্রয়োজনীয় ডোমেইনটি আগেই ক্রয় করে থাকে তাহলে আপনি ডোমেইনটি পাবেন না। যদি না প্রথবার রেজিস্ট্রেশন করা ব্যাক্তি আপনার কাছে হস্তান্তর করে।

এখন সে তো তার প্রয়োজনে বা মুনাফা অর্জনের জন্য ডোমেইনটি কিনেছিল। সেক্ষেত্রে ডোমেইনটি আপনাকে কখনোই ফ্রি দিবে না। আবার সে যদি ১০০০ টাকা দিয়ে কিনে থাকে।

এবং ৫ বছর রিনিউ করে তার খরচ পড়ল প্রায় ৬ হাজার টাকা। তাহলে আপনাকে সেটি তো আর ১০০০ টাকায় দিবে না। আবার ৬ হাজার টাকায় ও দিবে না। অবশ্যই আপনাকে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধ করতে হবে। এবং কতটা বেশি টাকা পরিশোধ করতে হবে তা নির্ভর করে কতটা ভ্যালু রয়েছে ডোমেইন নামটির। এটি ১০০০০/২০০০০/১০০০০০/১০০০০০০  এমনকি কয়েক কোটি টাকাও হতে পারে। তাহলে ডোমেইন ব্যবসাটি সম্পর্কে কিছুটা হলেও ধারনা পেয়েছেন। আপনি কতগুলো ভাল নামের ডোমেইন কিনবেন এবং প্রতিবছর রিনিউ করে রাখবেন। যখন কারো সেটি দরকার হবে আপনাকে অতিরিক্ত পরিমান টাকা দিয়ে তবেই নিতে পারবে। আপনার একটি যথেষ্ট ভ্যালুয়েবল ডোমেইন এক্সটেনশন থাকলে আপনি এক ধাক্কায় কোটিপতি বনে যেতে পারেন।

তাহলে বুঝতেই পারছেন একটি ডোমেইন কতোটা মূল্যবান হতে পারে।

এবং আপনি যদি এনালাইসিস করে ভালো মানের ডোমেইন নেম কিনতে পারেন তাহলে বিক্রির সম্ভাবনা অনেক বেশি। এবং প্রচুর পরিমান দামও পাবেন ডোমেইন বিক্রি করে।

যেভাবে ব্যাবসা শুরু করবেন এবং পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বৃদ্ধি করবেন।
আপনি যদি প্রথমেই প্রচুর পরিমাণ ডোমেইন কিনে ফেলেন তাহলে আপনার লাভবান হওয়ার সম্ভবনা কম থাকবে। কারন প্রথম পর্যায়ে আপনি ভালো নাম নির্বাচন করতে দক্ষতা অর্জন করতে পারবেন না। বরং আপনি যদি প্রথমে কয়েকটা ডোমেইন কিনে সেগুলো মার্কেটে বিক্রির জন্য যুক্ত করেন তাহলে এটি বিক্রির সম্ভাবনা তৈরি হবে। এবং এরই মধ্যদিয়ে আপনি নিয়মিত ডোমেইন মার্কেট এনালাইসিস করা শুরু করবেন। যখন দেখবেন কোন ধরনের ডোমেইন বেশি বিক্রি হচ্ছে। কোন ধরনের নামের চাহিদা বেশি। একটি মিনিংফুল ডোমেইন নেম বিক্রির সম্ভাবনা অনেক বেশি। সেই সাথে এর চাহিদা এবং দাম সব সময় বেশি থাকে। এছাড়াও কম লেটারের ডোমেইন যেমন ২/৩/৪/৫/৬ এর চাহিদা বেশি থাকে।আপনি যদি কম লেটারের মিনিংফুল ডোমেইন সংগ্রহ করতে পারেন তাহলে তা বিক্রি করতে পারবেন খুবই সহজে। এভাবে যখন আপনি আপনার ডোমেইন রিসার্চ দক্ষতা বাড়িয়ে নেবেন এবং নতুন নতুন নামের আইডিয়া জেনারেট করতে পারবেন ও সেই সাথে মার্কেট ভ্যালু এনালাইসিস করতে পারবেন তখন আপনার সংগ্রহ আরো বড়ো করে তুলতে পারবেন। এবং নিয়মিত ডোমেইন বিক্রিও করতে পারবেন।

মনে করুন আপনার সংগ্রহে ২০০ টি ডোমেইন রয়েছে।তাহলে এর থেকে প্রতি মাসে সেল পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এবং ব্রান্ডেবল নেইম এই সম্ভবনা কে আরো বাড়িয়ে তোলো। এবং আপনি এগুলো বিক্রি করে নতুন ডোমেইন ক্রয় এবং পুরাতন গুলো রিনিউ করতে পারবেন। একইসাথে এভাবেই আপনি আপনার ব্যাবসাকে বাড়িয়ে তুলতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে। ধরুন আপনার ২০০ ডোমেইন রয়েছে এর থেকে যদি আপনি একটি বিক্রি করলেন ১০,০০০ ডলার তাহলে সকল ডোমেইন এই টাকা দিয়ে রিনিউ করে পকেটেও প্রচুর পরিমাণ টাকা অতিরিক্ত থাকবে। যদি আপনার আয় এবং এই টাকা দিয়ে নতুন ডোমেইন ও কিনতে পারবেন।

এক্সপায়ার্ড ডোমেইন কি এবং কেন কিনবেন?

প্রতিদিন যেমন হাজার হাজার ডোমেইন এক্সটেনশন রেজিষ্ট্রেশন করা হয়। ঠিক তেমনি প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণ ডোমেইন এক্সপায়ার্ড হয়ে যায়। যেগুলো আর রিনিউ করা হয় না। অনেক ক্ষেত্রে সাইট ভালো ভাবে রান করাতে না পারার কারনে আর রিনিউ করে না।আবার বিভিন্ন কারনে এক্সপায়ার্ড হয়ে যায় ডোমেইন এ কারনেই তারা আর রিনিউ করে না। কিন্তু এই ডোমেইন গুলো ভালো মানের এবং সার্চ ইঞ্জিনেও ভালো পজিশনে থাকে। এসকল ডোমেইনে পেনাল্টি আছে কিনা চেক করুন।পেনাল্টি থাকলে তাহলে সার্চ ইঞ্জিনে ভ্যালু পাওয়া যায় না। এবং সার্চ ইঞ্জিনে র‌্যাংক করানোও কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু ইউনিক নামের ক্ষেত্রে এসকল বিষয় না ভাবলেও চলে।এক্সপায়ার্ড ডোমেইনের ভ্যালু অনেক বেশি পাওয়া যায়। এ কারনেই এক্সপায়ার্ড ডোমেইন খুজুন এবং ভাল নামের পেলে তাৎখনিক ভাবে কিনে ফেলুন। 

কোন বিষয় নিয়ে কাজ করবেন বা নিশ নির্বাচন -
ডোমেইন বিজনেস শুরু করার জন্য আপনি কোন নিশ নিয়ে কাজ করবেন তা ঠিক করে নেওয়া উচিত। যেমন এডুকেশন, নিউজ,ই-কমার্স ইত্যাদি। কারন প্রতিটি ব্যবসারই কতগুলো নির্দিষ্ট নিয়ম কানুন রয়েছে। এজন্য অবশ্যই নির্দিষ্ট কোন নিশ নিয়ে কাজ করাই সঠিক সিদ্ধান্ত হবে।

ডোমেইন বিজনেস এর ঝুঁকি বা অনিশ্চয়তা কেমন?
বিজনেস মানেই লাভ/ক্ষতি/ঝুঁকি এবং অনিশ্চয়তার সমন্বয়। এই চারটি জিনিস উপস্থিত না থাকলে কখনোই আপনার কাজটি ব্যবসায় বলে চিহ্নিত হবে না। আর এ কারনেই এখানেও এসকল বিষয় বিদ্যমান। যেমন আপনি যদি ভ্যালুয়েবল ডোমেইন নেম সিলেক্ট করতে না পারেন তাহলে তা বিক্রির সম্ভাবনা খুবই কম থাকে।অপরদিকে প্রতিবছরই এটি রিনিউ করতে হয় বলে আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভবনা থাকে কিন্তু এ ক্ষতির পরিমান খুবই কম।

কিভাবে বিক্রি করবো ডোমেইন?


বিজনেস আইডিয়া
ডোমেইন ফ্লিপিং বা পার্কিং
একটি ডোমেইন আপনি কিনেছেন বিক্রির উদ্দেশ্যে তাহলে কেউ যদি না যানে আপনার ডোমেইনটি বিক্রির উদ্দেশ্যে কিনছেন তাহলে কিভাবে বিক্রি সম্ভব!  তাই এইসকল ডোমেইন বিক্রির জন্য রয়েছে হাজারো মার্কেট প্লেস। যেখানে আপনার ক্রয় করা ডোমেইনটি অনায়াসে বিক্রি করে দিতে পারবেন। ডোমেইন ব্যাবসা করার জন্য সকল কিছুই তো জানলাম তাহলে এই ক্রয় করা ডোমেইন গুলো কিভাবে বিক্রি করতে হয় তা জেনে নেই।

আমরা আগেই শুনেছি ডোমেইন এক্সটেনশন বিক্রির জন্য রয়েছে বিভিন্ন মার্কেট প্লেস রয়ছে। এখানে ডোমেইন পার্কিং বা ফ্লিপিং করার মাধ্যমে বিক্রি করতে হয়। আপনার কাঙ্খিত মূল্য নির্ধারণ করে ডোমেইনটি যুক্ত করুন এই সাইট গুলোতে। এবং এখানে যখন আপনি ডোমেইন পার্কিং করবেন তখন কেউ আপনার ডোমেইনে  কেউ প্রবেশ করে তাহলে বিক্রির ডিটেইলস দেখতে পাবেন। এবং কেউ কিনতে চাইলে বিড করতে পারবেন। কেউ বিড করলে আপনাকে মেইল করে জানানো হবে। যেসকল সাইটে পার্কিং বা ফ্লিপিং করবেন এগুলো হলো -

পরামর্শ - ডোমেইন বিজনেস কখনোই ক্যারিয়ার হিসেবে না নেওয়াই ভালো।আপনার ক্যারিয়ারের প্রধান পেশার পাশাপাশি আপনি ডোমেইন বাই সেল করার বিজনেস করতে পারেন।

তাহলে এ সেক্টরে ভালো ফলাফল পাবেন।এবং ডোমেইন হোল্ড করার জন্য যথেষ্ট সময় পাবেন।সর্বোপরি এই সেক্টর আপনার জিবন বদলে দিতে পারে!
Next Post Previous Post
2 Comments
  • আকাশ গোলদার
    আকাশ গোলদার ৯ মে, ২০২০ এ ৮:২৮ PM

    গ্রেট ইনফরমেশন ব্রাদার ��

    • তিমন দে
      তিমন দে ৯ মে, ২০২০ এ ৯:০১ PM

      সময় নিয়ে পড়ার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ ভাই আপনাকে 💓

Add Comment
comment url