আইসিটিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থা (ICT Dependent Production)
ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য বৃহৎ আকারে পণ্যের প্রস্তুতকরণ, খনি হতে উত্তোলন কিংবা বৃদ্ধিকরণ করাকেই সাধারণভাবে উৎপাদন হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায় অর্থাৎ ভােক্তাদের জন্য অত্যাবশ্যক পণ্য ও পরিসেবা তৈরির বা প্রদানের জন্য নিযুক্ত একটি পদ্ধতি হলাে উৎপাদন। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যা সৃজনশীলতা, গবেষণা, জ্ঞান, প্রজ্ঞা ইত্যাদির ব্যবহার বা কর্মের জন্য অদৃশ্য ইনপুট হয়। এদেরকে রূপান্তর করে দৃশ্যমান ইনপুট করা হয়, যা কাঁচামাল হিসেবে চিহ্নিত হয়।

এখন প্রশ্ন হলাে, যে পণ্য উৎপাদন হচ্ছে তার গুণগতমান এবং পরিমাণ কতটা নিখুঁত ও কম সময়ে করা যায়? কারণ এর ওপর নির্ভর করে ব্যবসার সূচক বৃদ্ধি। মানুষের চাহিদা ও পছন্দের বৈচিত্র্যের কারণে প্রতিদিন পণ্যের নতুন নতুন মডেল বাজারে আসছে এ চাহিদা মেটাতে। এতে পণ্যের নকশা, উন্নয়ন ইত্যাদির জন্য কম্পিউটার/প্রােগ্রামনির্ভর যন্ত্রপাতি/রােবটের সাহায্য নিতে হচ্ছে। আমাদের দেশ কৃষিনির্ভর দেশ। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ না হলেও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


এ খাতে তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তির ব্যবহার উল্লেখযােগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যেকোনাে তথ্য তার ব্যবহারকারীর কাছে পৌছে দিতে বিভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করা হয়। এদের মধ্যে উল্লেখযােগ্য হলাে ইলেকট্রনিক মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়া ইত্যাদি। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, কৃষি তথ্যকেন্দ্র, সার্ক কৃষি তথ্যকেন্দ্র ইত্যাদি সংস্থা কৃষির জন্য ব্যবহৃত প্রযুক্তি বিস্তারে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত আছে। এ সকল সংস্থা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ যাবৎ শতাধিক স্পট, ফিলার, ফিল্ম তৈরি করেছে। এসব ডকুমেন্টারির মাধ্যমে শস্য উৎপাদন, মৎস্য চাষ, প্রাণিসম্পদ, বন সৃজন, মৃত্তিকাসম্পদ সংরক্ষণ সহ বিভিন্ন কৃষিবিষয়ক প্রযুক্তি খুব সহজ, সরল ও আকর্ষণীয়ভাবে দর্শকশ্রোতা তথা কৃষকদের কাছে তুলে ধরছে। এখান থেকে প্রাপ্ত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। বর্তমানে সার্ক কৃষি তথ্যকেন্দ্র থেকে সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময়ের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী হচ্ছে এ খাতটি।

 ই-কৃষি ধারণাটি বর্তমানে বহুল প্রচলিত। এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ের একজন কৃষক তার সমস্যার সম্ভাব্য সমাধান তাৎক্ষণিকভাবে পেতে পারে। এমনকি জিপিএস পদ্ধতিতে তার সমস্যার সমাধানের জন্য মাঠকর্মী সরাসরি উপস্থিত হয়ে সাহায্য করতে পারে ।

বর্তমানে আমাদের দেশ পােশাক শিল্প, মৎস্য খাত, ওষুধ শিল্প, নিত্যপ্রয়ােজনীয় সামগ্রী ইত্যাদি উৎপাদনের ক্ষেত্রে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে উৎপাদনের ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে। আইসিটিনির্ভর এ সকল যন্ত্রপাতির প্রত্যক্ষ ব্যবহার মানুষের চাহিদা পূরণে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নিচের উদাহরণটি হতে তােমরা উৎপাদন ব্যবস্থায় কীভাবে আইসিটি ব্যবহার হচ্ছে তার একটি ধারণা পাবে। মালয়শিয়াতে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ২০০৯ সালে ৮০ হাজার গরুর কানে Radio-Frequency Identification (RFID) সংযােজন করেছে। এতে প্রতিটি পশুকে সহজে শনাক্ত করা যাবে এবং এর মালিকের নাম, লিঙ্গ, জন্ম উৎস ইত্যাদি তথ্যও পাওয়া যাবে। এশিয়াতে এটিই প্রথম এ ধরনের উদ্যোগ। এতে করে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযােগিতা করতে সুবিধা হবে। তাছাড়া সংক্রমিত রােগ প্রাদুর্ভাব রােধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। আমাদের দেশেও বর্তমানে অনেক ভারী ও মাঝারি শিল্প উৎপাদন ব্যবস্থায় আইসিটি ব্যবহার করছে। অধিকাংশ যন্ত্রাংশ কম্পিউটার বা প্রােগ্রামনির্ভর। যেমন খাদ্যশিল্প,  আবাসন শিল্প, বস্ত্রশিল্প ইত্যাদি।

��একটি মন্তব্য করুন��

নবীনতর পূর্বতন