অপূর্ব বসে অঙ্ক করছিল। অঙ্ক করার এক পর্যায়ে 268 কে 57 দিয়ে গুণ করতে গিয়ে অপূর্বের হঠাৎ মনে হলাে, যে চিহ্নগুলাে দিয়ে অর্থাৎ 2, 6, 8, 5, 7 ব্যবহার করে সে যে অঙ্কটি করছে সে গুলাে কি মানব সভ্যতার শুরু থেকেই এ রকমই ছিল? নাকি গণনার জন্য অন্য কোনাে চিহ্ন বা বস্তু ব্যবহার করা হতাে? তন্ময় তার মনে সৃষ্ট প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে জানতে পারল, প্রাচীনকালে মানুষ গণনা করার জন্য বিভিন্ন প্রকার জিনিস ব্যবহার করত । বিভিন্ন পর্যায়ে মানুষের মধ্যে নুড়িপাথর, আঙুলের গিঁট, কাঠি, রশিতে গিট দেয়া, মাটিতে বা দেয়ালে দাগ কেটে হিসাব করার প্রচলন ছিল। তবে সভ্যতার পরিক্রমায় গণনার সুবিধার্থে বিভিন্ন প্রকার সাংকেতিক চিহ্ন, বর্ণ, সংখ্যা ইত্যাদির ব্যবহার করা হয়। সাংকেতিক চিহ্নসমূহ ব্যবহার করে কোনাে কিছুর পরিমাণ বুঝানাের কৌশলই হলাে গণনা পদ্ধতি। এরকম বিভিন্ন প্রকার গণনা পদ্ধতি প্রচলিত রয়েছে। যেমন- রােমান, মেয়্যান, ডেসিমাল ইত্যাদি।

সংখ্যা আবিস্কারের ইতিহাস

ইতিহাসে বহু বছর পূর্বে সংখ্যা উদ্ভাবন (অথবা আবিষ্কার নির্ভর করে ব্যক্তি বিশেষের দর্শনের দৃষ্টিকোণের ওপর) হয়েছিল। এটি তখন ঘটেছিল যখন মানুষ কতগুলাে বিষয়টি কী?' তা জানার প্রয়ােজনীয়তা ছাড়াই ‘কতগুলাে?' সম্পর্কে ধারণা করার বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছিল। ফলে বস্তুগত পৃথিবীতে গণনাকৃত বস্তুকে পৃথক করার মাধ্যমে সংখ্যার একটি ধারণা তৈরি হয়।

Numbers were 'invented' long before history (or discovered, depending on one's philosophical point of view). This happened when people realized that they could think about 'how many' without needing to know 'how many WHAT?'- That there is an idea of number that is separate from the world of things that can be counted.

শতভাগ সঠিক না হলেও আনুমানিক খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ৩৫০০ (তিন হাজার পাঁচশত) বছর পূর্বে হায়ারােগ্লিফিক্স (Hieroglyphics) চিহ্ন বা সংখ্যা পদ্ধতির মাধ্যমে সর্ব প্রথম গণনার কাজে লিখিত চিহ্নের প্রচলন শুরু করা হয়। পরবর্তী কালে পর্যায় ক্রমে মেয়্যান ও রােমান সংখ্যা পদ্ধতির প্রচলন হয়। প্রায় ৫০০ (পাঁচশত) খ্রিষ্টাব্দের দিকে ভারতবর্ষ এবং আরব দেশে ডেসিমাল (Decimal) সংখ্যা পদ্ধতির প্রচলন শুরু হয় যার বাস্তব রূপ প্রদান করেন আরব বিজ্ঞানী আল খারীজমি।

কম্পিউটার তার অভ্যন্তরীণ কাজে বিট ব্যবহার করে থাকে। আবার আমরা দৈনন্দিন ও প্রচলিত নিয়মে হিসাব-নিকাশের জন্য অংক এবং সংখ্যা ব্যবহার করে থাকি। নিচে এই অংক এবং সংখ্যা সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা করা হলাে:

বিট (Bit): কম্পিউটারে ব্যবহার্য ডেটার সবচেয়ে ক্ষুদ্র তম অংশের নাম হলাে বিট। তথা একক বাইনারি মান “O” অথবা “1” হলাে বিট। Bit এর পূর্ণরূপ হলাে Binary digit.

নিবল (Nibble): ১ বাইটের অর্ধেক তথা ৪ বিট মিলে হয় ১ নিবল, যা সাধারণত একটি হেক্সাডেসিমাল সংখ্যা দ্বারা প্রকাশ করা যায়।

বাইট (Byte) : এক সেট বিট হলাে বাইট যা কম্পিউটারে কোডিং এর ক্ষেত্রে ব্যাবহার করা হয়। সাধারণত ৮ বিট মিলে ১ বাইট হয়ে থাকে।

ওয়ার্ড (Word) : কম্পিউটারের স্বাভাবিক ডেটা সাইজের নাম হলাে ওয়ার্ড। এটি নির্ভর করে ভিন্ন ভিন্ন কম্পিউটারের কেন্দ্রিয় প্রক্রিয়াকরণ অংশের উপর। যেমন ২ (দুই) বাইট মিলে একটি ওয়ার্ড হতে পারে।

সংখ্যা (Number) : সংখ্যা হচ্ছে একটি উপাদান যা গণনা, পরিমাণ এবং পরিমাপ করার জন্য ব্যাবহার করা হয়। গণনা করার মাধ্যমের নাম হচ্ছে সংখ্যা। অর্থাৎ কোনাে কিছুর পরিমাণ বুঝানাের জন্য যা ব্যবহার করা হয় তাকেই সংখ্যা বলো। যেমন : পৃথিবীতে মোট ৭টি মহাদেশ আছে; এখানে ৭ একটি সংখ্যা। তেমনি ১০ দিক, এখানে ১০ একটি সংখ্যা।

অঙ্ক (Digit) : সংখ্যা গঠনের প্রতীক বা চিহ্নকে অঙ্ক বলা হয়। সংখ্যা গঠিত হয অঙ্ক দ্বারা। সংখ্যা তৈরির ক্ষুদ্রতম প্রতীক-ই হচ্ছে অঙ্ক। সকল অঙ্ক সংখ্যা কিন্তু সকল সংখ্যা অঙ্ক নয়। যেমন: 786 তিন অঙ্কবিশিষ্ট একটি সংখ্যা, যা 7, 8 ও 6 পৃথক ৩টি অঙ্ক দিয়ে গঠিত। যারা প্রতিটি-ই পৃথক ভাবে একেকটি সংখ্যা।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো