অনলাইন থেকে আয় করার জন্য অনেক উপায় আমরা জানি। যেমন গ্রাফিক্স ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সিপিএ মার্কেটিং আরো কত কাজ। আমরা অনেকেই এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কে জানি। এখানে কাজ হচ্ছে বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটের পন্য আপনি কমিশনের ভিত্তিতে বিক্রি করেন। বিক্রি করেন বললে ভুল হবে আপনি তাদের পন্যের গ্রাহক সৃষ্টি করেন। তবে আমাদের আজকের বিষয় হচ্ছে ড্রপশিপিং বিজনেস (Drop shipping business) । আমরা আলোচনা করবো ড্রপশিপিং বিজনেস কি? এবং ড্রপ শিপিং ব্যবসা কিভাবে করবো (ড্রপশিপিং এ টু জেড গাইডলাইন) চলুন শুরু করি আজকের ড্রপশিপিং বাংলা টিউটোরিয়াল (Drop Shipping Bangla Tutorial)
ড্রপ শিপিং

ড্রপশিপিং বিজনেস কি (What Is drop shipping business):

মনে করুন এক ব্যাক্তির একটি ব্যাবসা আছে। তিনি প্রতিমাসে ১ হাজার ইউনিট পন্য সেল করেন অনলাইনে। আপনি তার সাথে ব্যাবসা নিয়ে কথা বলতেছেন। সে আরো প্রডাক্ট সাপ্লাই করার সামর্থ্য রাখে। কিন্তু ক্রেতার অভাবে তার পন্য কম সেল হচ্ছে। এখন আপনি তাকে অফার করলেন, আচ্ছা ভাই আপনার তো মাসে ১ হাজার ইউনিট পন্য সেল হচ্ছে। ক্রেতার অভাবে সেল বৃদ্ধি করতে পারছেন না। এখন যদি আপনি মাসে ১৫০০ ইউনিট পন্য সেল করেন তাহলে আপনার আয় আরো বৃদ্ধি পাবে! কিন্তু এই অতিরিক্ত ৫০০ ইউনিট পন্য সেল করার মত কাস্টমার তো নেই!


এখন আপনি তাকে প্রস্তাব দিলেন, এই অতিরিক্ত পন্য আপনি সেল করবেন। আপনি তাকে কাস্টমার জোগার করে দিবেন। তবে আপনি বিজনেসটি নিজের নামে পরিচালনা করবেন। আপনি একটি ওয়েবসাইট বা পেইজ খুলবেন এবং  আপনি থাকবেন সেখার CEO. আপনার এখানে যখন কোন অর্ডার আসবে আপনি তাকে অর্ডারের বিস্তারিত তথ্য দিবেন তিনি সেই ঠিকানায় দায়িত্ব সহকারে পন্য পৌঁছে দিবেন। এবার মনে করুন ইউনিট প্রতি তার মোট লাভ হচ্ছিল ২০ ডলার। এখানে পন্য বিক্রি করে দেওয়ার জন্য তিনি আপনাকে মোট লাভের ২৫ শতাংশ প্রদান করবে।


এর ফলে তার অতিরিক্ত ৫০০ ইউনিট পন্য সেল হচ্ছে। এতে আপনার ২৫% বাদ দিয়ে ইউনিট প্রতি লাভ হচ্ছে ১৫ ডলার। অর্থাৎ ৫০০ ইউনিটের জন্য লাভ আসছে ৫০০*১৫ = ৭৫০০ ডলার। এবং ২৫% কমিশনে আপনার ইউনিট প্রতি লাভ হচ্ছে ৫ ডলার। অর্থাৎ মোট লাভ হলো ৫০০*৫=২৫০০ ডলার। এর থেকে আপনার আরো একটি লাভ হলো তা হচ্ছে বিনা ইনভেস্টমেন্টে আপনি একটি ব্যাবসার মালিক হয়ে গেলেন। কোন প্রকার ইনভেস্ট বা পন্য স্টোর করার ঝামেলা ছাড়াই। আর এটি কিন্তু শুধুই আমার কথা না। এটি ড্রপশিপিং বিজনেস নামে পরিচিত! এবং বিশ্বব্যাপি লাখো মানুষ এই ব্যাবসার সাথে জড়িত। তাহলে আমরা বুঝতে পারলাম-


ড্রপশিপিং বিজনেস (drop shipping) হচ্ছে অন্যের পন্য সরাসরি আপনি আপনার কোম্পানির নামে বিক্রি করবেন। এখানে আপনি পন্যের অর্ডার নিবেন এবং পন্যটি সেই ভেন্ডার ডেলিভারি দিবেন। আপনি পন্যটির অর্ডার নিয়ে আবার সেই সেলার-কে অর্ডারটি এবং কাস্টমারের ঠিকানা তাকে দিবেন সে তার ঠিকানায় পন্যটি পৌঁছে দিবে। এবং পন্য বিক্রি হতে প্রাপ্ত টাকা আপনার অংশ রেখে তার অংশ তাকে দিয়ে দিবেন।


ড্রপশিপিং ব্যাবসা করতে কি কি দরকার?

আপনি যদি ড্রপশিপিং বিজনেস করতে ইচ্ছুক হন তাহলে আপনার একটি ই-কমার্স সাইটের দরকার হবে। অথবা ফেসবুক পেইজের মাধ্যমেও আপনি ব্যাবসা পরিচালনা করতে পারেন। তবে ই-কমার্স সাইটের জন্য একটি ভালো নামের ডোমেইন দরকার হবে যা হবে আপনার ই-কমার্স সাইটের ঠিকানা। অথবা সুন্দর একটি নাম ঠিক করতে পারেন ফেসবুক পেইজটির জন্য।


ই-কমার্স সাইট করলে আপনার ই-কমার্স সাইটটি ওয়ার্ডপ্রেসে করতে পারবেন। এখানে ডোমেইন সিলেকশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যে নিশ সিলেক্ট করবেন সেটির নাম অবশ্যই ডোমেইনে রাখবেন। মনেকরি আপনার নিশ হচ্ছে Yoga তাহলে আপনার ডোমেইন টি হতে পারে yogaworld.com বা এরকম কোন একটি আকর্ষণীয় নাম। তবে আপনার পছন্দসই নামেই যে ডোমেইন এভেইলএবেল পাবেন এমন নয়। তাই ডোমেইনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বিকল্প নাম ঠিক করা উচিত। তবে অবশ্যই ডটকম এক্সটেনশন নিবেন। আপনি চাইলে পছন্দসই নামেই কোম্পানি করতে পারেন।


নিশ সিলেক্ট করা হচ্ছে  আপনি কোন পন্যটি বিক্রি করবেন সেটি নির্বাচন করা। এখানে নিশ সিলেক্ট করা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সঠিক নিশ-ই পারে আপনাকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছে দিতে পারে। এবং আশানুরূপ লাভ এনে দিতে নিশ সিলেক্ট খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারন সঠিক নিশের পন্য নির্বাচন না হলে যথেষ্ট পরিমাণ সেল না হলে লাভও হবে না আশানুরূপ। এ কারনেই নিশ নির্বাচনকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত।


এরপরে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিক্রেতা বা ভেন্ডার (Vendor) নির্বাচন করা। কারন আপনি কোন পন্য বিক্রি করলেন কিন্তু বিক্রেতা যদি ভালো না হয় তাহলে ডেলিভারিতে সমস্যা হতে পারে। এছাড়াও মান সম্মত পন্য ডেলিভারি না দেওয়া, সঠিক সময়ে ক্রেতার নিকট পন্য না পৌঁছানো ছাড়াও নানাবিধ সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এ কারনে ভেন্ডার নির্বাচনে যথেষ্ট গুরুত্ব দিন। ভাল সার্ভিসের পাশাপাশি কমিশনের ব্যাপারও রয়েছে। তাই ভালো সার্ভিস এবং ভালো কমিশনের ভিত্তিতে বিক্রেতা বা ভেন্ডার নির্বাচন করুন।


সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে এরপরে কাজে নেমে পড়ুন। কাজ শুরু করার আগে মার্কেট রিসার্স করুন। কিভাবে সর্বোচ্চ সেল নিশ্চিত করা যায়। এবং ব্যাবসাটি সঠিক ভাবে পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে খুটিনাটি জেনে নিয়ে আরম্ভ করা উচিত। আমরা বেসিক একটা ধারনা অর্জন করতে পারলাম যে ড্রপশিপিং আসলে কি এবং কিভাবে শুরু করবেন ইত্যাদি। এবার আসি একটু বিস্তারিত আলোচনার মধ্যে! কারন এটি এমন কোন যাদুকরী বিষয় না যে এই আর্টিকেলটি পড়েই আপনি লাখ টাকা আয় করতে পারবেন। যখন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটাতে পারবেন ঠিক তখনই সফল হওয়া সম্ভব হবে। তবে পরিশ্রম করার আগে দক্ষতা অর্জন করতে হবে। কারন নিজেকে  দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা না গেলে পরিশ্রমের ফল শূন্য!


প্রফেশনাল ভাবে ড্রপশিপিং করতে হলে আপনাকে  অবশ্যই একটি ই-কমার্স (E-commerce) ওয়েব সাইট তৈরি করতে হবে। এছাড়াও আপনি Shopify এ বিজনেস পরিচালনা করতে পারেন। কিন্তু এক্ষেত্রে আপনার অধিক খরচা হয়ে যাবে। তাই নিজস্ব ই-কমার্স সাইট তৈরিই হবে যুক্তি যুক্ত। এতে লাভের পরিমানও বেশি হবে।


একটি ই-কমার্স ওয়েব সাইট তৈরি করতে কি কি দরকার-

•ডোমেইন এবং হোস্টিং।

•একটি ই-কমার্স থীম এবং কয়েকটি প্লাগিন •(Wordpress CMS নির্ভর করতে পারেন অথবা সম্পুর্ন কাস্টম ভাবেও করতে পারেন।)

•পেমেন্ট গেটওয়ে (Paypal, 2Checkout etc)


তবে একটি কথা মাথায় রাখতে হবে আপনি যদি সম্পুর্ন কাস্টম ভাবে করতে চান তাহলে খরচ অনেক বেশি পরে যাবে। তাই ওয়ার্ডপ্রেসে করাই ভালো। তবে বিনিয়োগে ঘাটতি না থাকলে কাস্টম ভাবে তৈরি করতে পারেন। এর জন্য আপনাকে একজন ওয়েব ডেভেলপার হায়ার করতে হবে!


আরো যেসকল বিষয় অবশ্যই জানতে হবে-

•ড্রপশিপিং (বেসিক টু এডভ্যান্স)

•ড্রপশিপিং ওয়েব সাইট বিল্ডিং (বেসিক টু এডভ্যান্স)

•ওয়েবসাইট মার্কেটিং

•ডিজিটাল মার্কেটিং

•আর্টিকেল মার্কেটিং

•ই-বুক মার্কেটিং

•সোস্যাল মিডিয়া মার্কেটিং (ফেসবুক মার্কেটিং, ইন্টাগ্রাম মার্কেটিং, রেডিট মার্কেটিং, পিনটারেষ্ট মার্কেটিং ইত্যাদি)

•ইউটিউব মার্কেটিং

•ইমেইল মার্কেটিং

•পেইড মার্কেটিং (বেসিক টু এডভ্যান্স)

•ই কমার্স সাইটে ফ্রি ট্রাফিক আনার কৌশল

অল্প সময়ে সেল করার বিশেষ ফর্মুলা এবং ফ্রিতেই সেল করার কৌশল!


যেগুলো শেখার জন্য সবচেয়ে ভালো হয়ে কোন স্বনামধন্য ইনিস্টিউট থেকে ট্রেনিং গ্রহন করা। কারন তারা আপনাকে (step by step) শিখিয়ে দিবে।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো