ভাইরাস বা স্পাইওয়্যার এর নাম আমরা অনেক শুনেছি তবে আজ আমরা আলোচনা করব পৃথিবীর সবচাইতে ভয়ঙ্কর স্পাইওয়্যার সম্পর্কে যার নাম পেগাসাস স্পাইওয়্যার বা সফটওয়্যার। এর সম্পর্কে জানলে আপনিও আতকে উঠবেন! হ্যা আজ আমরা আলোচনা করতে যাচ্ছি প্যাগাসাস স্পাইওয়্যার (Pegasus Spyware) সম্পর্কে চলুন বিস্তারিত জেনে নেই! এটি কি কি কাজে লাগে ইত্যাদি ইত্যাদি। 

Israeli spyware Pegasus
আমাদের আজকের আলোচনায় আমরা জানবো পেগাসাস স্পাইওয়্যার কী এবং কীভাবে কাজ করে ও এর সম্পর্কে আঁতকে উঠার মত কিছু তথ্য! এবং তারপর আপনি বিচার করবেন এই ডিজিটাল বিশ্বে আপনি আসলে কতটুকু নিরাপদ!

পেগাসাস স্পাইওয়্যার সম্পর্কে জানার আগে আমরা একটু জেনে নেই স্পাইওয়্যার আসলে কি? স্পাই (Spy) শব্দটির বাংলা আভিধানিক অর্থ হচ্ছে গুপ্তচর। এবং ওয়্যার (ware) শব্দটি সফটওয়্যার শব্দের পরের অংশের থেকে নিয়ে এই স্পাইওয়্যার শব্দটির গঠন করা হয়েছে। স্পাইওয়্যার শব্দের অর্থ হচ্ছে এটি এমন একটি সফটওয়্যার যা আপনার মোবাইল ফোন বা কম্পিউটারে প্রবেশ করে আপনার অজান্তে আপনার উপর নজরদারি করবে!

পেগাসাস স্পাইওয়্যার কি? ইসরায়েলের একটি বেসরকারি সংস্থা NSO কতৃক তৈরিকৃত একটি হ্যাকিং সফটওয়্যার হচ্ছে এই প্যাগাসাস (Pegasus)!  যেটির কাজ হচ্ছে ভিক্টিমের ফোনে আড়ি পেতে তথ্য হাতিয়ে নেওয়া! গবেষনামতে পেগাসাস হচ্ছে পৃথিবীর সবচাইতে শক্তিশালী স্পাইওয়্যার (Spyware

প্রথমেই আমরা এই প্যাগাসাস স্পাইওয়্যার সম্পর্কে জানার আগে জানবো ভাইরাস স্পাইওয়্যার কিভাবে আক্রমণ করে এবং কোন কোন কাজগুলো করে থাকে সে সম্পর্কে!

ভাইরাস মূলত একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম (Computer Programme) বা সফটওয়্যার। এটি এমন ভাবে তৈরি করা হয় যাতে এটি কোন ব্যবহারকারীর ফোনে প্রবেশ করে আপনা আপনি কাজ করতে পারে। ভাইরাসের নামকরণ করা হয়েছে মূলত বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস যেমন মানবদেহে প্রবেশ করে মানব দেহের ক্ষতি সাধন করে এর উপর ভিত্তি করে।

তেমনি এই ভাইরাস বা স্পাইওয়্যার কম্পিউটার বা মোবাইল সফটওয়্যার প্রোগ্রামে প্রবেশ করার মাধ্যমে ডিভাইসের ক্ষতি সাধন এবং তথ্য চুরির মত কাজ করে থাকে।

আমাদের ফোনে বিভিন্ন ধরনের সফটওয়্যার ব্যবহার করে থাকে এগুলো প্লে স্টোর বা বিভিন্ন সফটওয়্যার ডাউনলোডের স্টোর থেকে ডাউনলোড করার পরে তা আমাদের ফোনে ইন্সটল করার মাধ্যমে সেগুলো ব্যবহার করতে পারি। তবে ভাইরাস বা স্পাইওয়্যার তো আমরা স্ব-ইচ্ছায় আমাদের ফোনে ডাউনলোড করবো না আবার ইন্সটল ও করব না। তাহলে আমাদের ফোনে এগুলো প্রবেশ করে কিভাবে?

ভাইরাস ভাইরাস স্পাইওয়্যার মূলত ফিশিং (Phishing), স্পামিং (Spam) ইত্যাদির মাধ্যমে আমাদের ফোনে প্রবেশ করে থাকে। এবং কোন ভাবে এটি আমাদের ফোনে ডাউনলোড হয়ে গেলে এটি অটোমেটিক ইন্সটল হয়ে যায়। এবং আমাদের মোবাইল ফোনের বা কম্পিউটারের প্রোগ্রাম এর সাথে মিশে যায় যা আলাদা ভাবে খুজে বের করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে বা ক্ষতি সাধন এর আগে টেরই পাওয়া যায় না।

☞ ফিশিং কি এবং ফিশিং থেকে নিরাপদ থাকতে আমাদের করণীয় কি!

এসকল ভাইরাস গুলো কি কি ধরনের কাজ করে থাকে?

ভাইরাস আমাদের ফোনের বিভিন্ন তথ্য চুরি, ব্যাংক বা বিভিন্ন ওয়ালেট বা সোস্যাল মিডিয়ার পাসওয়ার্ড ইত্যাদি ইত্যাদি চুরির মাধ্যমে ব্যবহারকারীর গোপন তথ্য জেনে নেয় এবং অর্থ আত্মসাৎ এবং ব্ল্যাকমেইলিং-এর মত কাজ করে থাকে ভাইরাসের নিয়ন্ত্রণকারী রা!

তবে বিভিন্ন উপায় রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি এই ভাইরাস বা স্পাইওয়্যার এর হাত নিজেকে রক্ষা করতে পারেন! তার জন্য দরকার সম্যক জ্ঞান এবং একটু সর্তকতা অবলম্বন ইন্টারনেট এবং মোবাইল বা কম্পিউটার ডিভাইস ব্যবহারের ক্ষেত্রে।

তবে সত্যিই কি আপনি এসকল সর্তকতা অবলম্বন করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন?

যদি ভাবেন হ্যাঁ আপনি নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন তাহলে আপনি বোকার স্বর্গে বাস করছেন!

পেগাসাস স্পাইওয়্যার (Pegasus spyware)  এমন একটি ভাইরাস যেটা আপনার যেকোনো ধরনের সতর্কতাঃ বা সুরক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে আপনার মোবাইল ফোন ডিভাইস এ প্রবেশ করতে পারে। এর জন্য হ্যাকারকে কোন ফিশিং বা স্পামিং এর সাহায্য নিতে হবে না। শুধুমাত্র একটি এসএমএস বা ফোন কলের মাধ্যমে আপনার ফোনে প্রবেশ করানো সম্ভব এই পেগাসাস স্পাইওয়ার।

আগে কোন মোবাইল ফোন হ্যাক করার জন্য ব্যবহারকারীকে ইমেইল বা মেসেজের মাধ্যমে বিভিন্ন ওয়েবসাইটের লিঙ্ক পাঠানো হতো যেখানে ক্লিক করার মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ফোনে ইন্সটল হয়ে যেত ভাইরাস। তবে এই পেগাসাস স্পাইওয়্যার কারো ফোনে প্রবেশ করাতে হলে কোন লিংক পাঠানোর দরকার হয় না। এটি ফোন কল বা টেক্সট মেসেজ এর মাধ্যমে ভিকটিমের ফোনে প্রবেশ করানো সম্ভব! এবং এটি যেকোন ধরনের সিকিউরিটি ব্যবস্থা কে ভেঙে ফেলতে সম্ভব!


এবার আসি পেগাসাস স্পাইওয়্যার কি কি ধরনের কাজ করতে পারে:

সাধারণ ম্যালওয়ার বা স্পাইওয়্যার যেখানে ফোনের কন্টাক্ট বা যে কোন ডেটা চুরি সহ পাসওয়ার্ড চুরি এবং সোশ্যাল মিডিয়া হ্যাক এর কাজে ব্যবহার করা হয় এবং ভিকটিমের ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইলয়ের মত কাজ করা হয় সেখানে পেগাসাস স্পাইওয়্যার কয়েক গুণ বেশি ক্ষতিসাধন করতে পারে।

পেগাসাস স্পাইওয়্যার দ্বারা ভিকটিমের ব্যক্তিগত তথ্য চুরির সাথে সাথে সম্পুর্ন মোবাইল ফোনের কন্ট্রোল নিতে পারে হ্যাকাররা। যেমন আপনার কন্ট্যাক দেখা, আপনি কোন সময় কার সাথে যোগাযোগ করছেন, কারো সাথে মেসেজিং বা চ্যাটিং করলে সেগুলো সরাসরি হ্যাকাররা দেখতে পারে, এছাড়াও আপনি কারো সাথে কথা বললে তারা আপনার কল রেকর্ড করে নিতে পারবে, আপনার লোকেশান বা মুভমেন্ট ট্রাক করা, এবং আপনার ফোন দিয়ে কাউকে কল পর্যন্ত করা সম্ভব এই পেগাসাস স্পাইওয়্যার এর মাধ্যমে।

এছাড়াও এই স্পাইওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত মোবাইল ফোনের যেকোন অবৈধ ছবি বা ক্লিপ প্রবেশ করিয়ে আপনাকে ফাসিয়ে দিতে পারে হ্যাকাররা। যে সব বিষয়ে আপনি জানেনও না সেইসব অপরাধে।

তবে এই স্পাইওয়্যার টি ব্যবহার করা খুবই ব্যয়বহুল। এই পেগাসাস এস্পাইওয়্যার এর সার্ভিস কিনতে খরচ যায় চার কোটি টাকা এবং প্রতি ১০ জনের মোবাইলে এটি ইন্সটল করতে খরচ পড়ে পাঁচ কোটি টাকা করে। তাহলে এত ব্যয়বহুল সফটওয়্যার কেন তৈরি করা হয়েছিল? ইজরায়েলের সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি NSO এর ভাষ্যমতে সফটওয়্যারটি ডেভলপ করা হয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ব্যবহারের জন্য এবং জঙ্গিগোষ্ঠীকে ধরা ও বিভিন্ন সন্ত্রাসী দের উপর নজরদারির কাজে।

তবে স্পাইওয়্যার সবচাইতে বেশি ব্যবহার করা হয়ে থাকে রাজনৈতিক ক্ষেত্রে। বিরোধীদলীয় বড় বড় মন্ত্রীদের গতিবিধির উপর নজরদারি করার জন্যই মূলত সবচাইতে বেশি ব্যবহৃত হয় এই স্পাইওয়্যার টি।

নবীনতর পূর্বতন
close