বুধবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী-Michael Madhusudan Dutta Bangla life story

আধুনিক বাংলা কবিতার অগ্রদূত মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি যশাের জেলার সাগরদাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম রাজনারায়ণ দত্ত, মাতা জাহ্নবী দেবী।
মাইকেল মধূসূদন দত্তের জীবনী
মায়ের তত্ত্বাবধানে গ্রামেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়। মধুসূদন ১৮৩৩ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার হিন্দু কলেজে সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। সেখানে
ছাত্রাবস্থাতেই তাঁর সাহিত্য-প্রতিভার স্ফুরণ ঘটে। ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে খ্রিষ্টধর্ম গ্রহণ করে তিনি পিতৃপ্রদত্ত নামের শুরুতে ‘মাইকেল’ শব্দ যােগ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার কারণে তাঁকে হিন্দু কলেজ পরিত্যাগ করে শিবপুরের বিশন্স কলেজে ভর্তি হতে হয়। সেখানেই তিনি গ্রিক, লাতিন ও হিব্রু ভাষা শিক্ষার সুযােগ পান।
মধুসূদন ব্যুৎপন্ন ছিলেন বহু ভাষায়। ইংরেজি ও সংস্কৃতসহ ফরাসি, জার্মান এবং ইতালীয় ভাষাতেও তিনি দক্ষতা অর্জন করেছিলেন।হিন্দু কলেজে ছাত্রাবস্থায় তাঁর সাহিত্যচর্চার মাধ্যম ছিল ইংরেজি ভাষা। কিন্তু বিদেশি ভাষার মােহ থেকে মুক্ত হয়ে।
তিনি মাতৃভাষার কাছে ফিরে আসেন।

মধুসূদন-পূর্ব হাজার বছরের বাংলা কবিতার ছন্দ ছিল পয়ার। একটি চরণের শেষে আর একটি চরণের মিল ছিল ওই ছন্দের অনড় প্রথা। মধুসূদন বাংলা কবিতার এ প্রথাকে ভেঙে দিলেন। তার প্রবর্তিত ছন্দকে বলা হয় ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ। তবে এটি বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দেরই নবরূপায়ণ।বাংলায় চতুর্দশপদী কবিতা বা সনেটেরও প্রবর্তক মাইকেল মধুসূদন দত্ত । বাংলা নাটকের উদ্ভবযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নাট্যকার তিনি।
Michael Madhusudan Dutta 
আধুনিক নাটক ‘শর্মিষ্ঠা', ‘পদ্মাবতী’ ও ‘কৃষ্ণকুমারী’ এবং প্রহসন ‘একেই কি বলে সভ্যতা?’ ও ‘বুড় সালিকের ঘাড়ে রো’ তাঁর অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। তাঁর কাব্যগ্রন্থগুলাে হলাে : ‘তিলােত্তমাসম্ভব কাব্য’, ‘মেঘনাদবধ-কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’, ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলি’ ।

১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৯এ জুন কলকাতায় মাইকেল মধুসূদন দত্ত মৃত্যুবরণ করেন।
Disqus Comments

ইমেইল সাবস্ক্রিপশন