বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার শিরা উপশিরায় যৌতুক নামের ক্ষতের দুর্গন্ধ বিরাজ করছে। এর নেতিবাচক ফল হিসেবে সমাজে দেখা দিচ্ছে অশান্তি, নষ্ট হচ্ছে পারিবারিক বন্ধন।
যৌতুক নামের এ ব্যাধি সমাজকে করছে অভিশপ্ত।
সম্প্রসারিত ভাব : কন্যাকে পাত্রস্থ করার সময় তার অভিভাবক যে অর্থ-সম্পদ দিয়ে থাকে তাকেই যৌতুক হিসেবে গণ্য করা হয়।অন্য কথায়, বিয়ের পর বরপক্ষ কন্যাপক্ষের নিকট থেকে জোর করে বা বাধ্য করে যে অর্থ-সম্পদ আদায় করে তাই যৌতুক। তবে
যৌতুকের সংজ্ঞা যাই হােক না কেন, এর বিষাক্ত ছােবলে আক্রান্ত আমাদের গােটা সমাজ। বেশ গভীরে প্রােথিত এর শিকড়। যৌতুক প্রথাটি সমাজে এমনভাবে আজ জড়িত যেন এটা ছাড়া বিয়ে অনুষ্ঠান কল্পনাও করা যায় না। আমাদের সমাজজীবনে যৌতুক প্রথা তাই এক বিরাট অভিশাপ হিসেবে ডানা মেলছে প্রতিনিয়ত। নারীদের জন্য যৌতুক প্রথা যে কত ভয়ঙ্কর তা প্রতিদিন পত্রিকার পাতা।খুললেই চোখে পড়ে। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের বর্বর চিত্র দেখে পাষাণের বুকও ভয়ে কেঁপে উঠে। যৌতুক নিয়ে পারিবারিক বিরােধ এবং সংঘাতের তীব্র মাত্রা আজ নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার।

 স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লােকদের নির্মম অত্যাচারে জীবন হারাচ্ছে।গৃহবধূ। আবার নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বহু নারী আত্মহননের পথ বেছে নিচ্ছে প্রতিনিয়ত। দেশের মানুষ আজ এই সামাজিক ব্যাধিকে মূলােৎপাটন করার জন্য সদা সােচ্চার। কিন্তু কোনােভাবেই যৌতুক প্রথা প্রতিরােধ করা যাচ্ছে না বরং এর ফলে সমাজে হত্যা, নির্যাতন ও নৃশংসতা বেড়েই চলেছে। দেশে যৌতুক বিরােধী আইন রয়েছে। কিন্তু সে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যৌতুক যেন
স্বমহিমায় সংক্রমিত হচ্ছে সমাজের প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গে। এভাবে চলতে থাকলে একদিন হয়তাে নারীদের সাথে গােটা সমাজটাই হবে যৌতুকের বলি।

মন্তব্য: বর্তমান সামাজিক ব্যবস্থার মাথা ব্যথার অপর নাম হলাে যৌতুক। একে প্রতিরােধ করার জন্য প্রয়ােজন জনসচেতনতা।তাহলে সমাজ মুক্ত হবে যৌতুকের এই করাল গ্রাস থেকে।

1 মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন