বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বাচ্চাদের জন্য আমরা কেন টেলিস্কোপ কিনতে চাই? বা কিনবো ও বাচ্চাদের টেলিস্কোপ এর ব্যবহার। শিশুদের খেলনা সামগ্রী রয়েছে অনেক এগুলোর মাধ্যমে বাচ্চারা বিনোদন পায়। তবে বাচ্চাদের খেলনা যদি বিনোদনের পাশাপাশি শিক্ষনীয় হয় তাহলে তো ডাবল লাভ। আর এমনি একটি খেলনা হলো বাচ্চাদের টেলিস্কোপ (astro baby telescope)। টেলিস্কোপ কিভাবে কাজ করে আমরা সকলেই জানি মূলত মহাকাশের বিভিন্ন গ্রহ উপগ্রহ নিয়ে গবেষণার জন্য টেলিস্কোপ এর ব্যবহার করা হয়। 
Astro Baby telescope
টেলিস্কোপটি সেটআপ করতে  পারবেন আপনি নিজে অথবা আপনার ৭ বছরের সন্তানও। যা দিয়ে আপনার সন্তান রাতের বেলায় চাঁদ-তারা আর দিনের বেলায় সাদা মেঘের ভেলার লুকোচুরি দেখতে দেখতে গৃহবন্দী সময়টা পার করতে পারবে। উন্নত বিশ্বে শিশুদের বিষয় ভিত্তিক শিক্ষা হাতে কলমেই দেয়া হয়ে থাকে। যার মাধ্যমে শিশুরা খুব সহজেই নির্মল আনন্দ নিয়ে তাদের শিক্ষা জীবন শেষ করে। যে কারণে তাদের মানবিক ও সামাজিক দক্ষতাও অনেক বেশি হয়ে থাকে। সৃষ্টিশীল মানসিকতার কারণে তারা পরবর্তীতে নিজেরাও নতুন কিছু আবিষ্কার করতে উৎসাহ বোধ করে।


যেখানে আমরা আমাদের সন্তানদের কে স্মার্ট ফোন, টিভি, কম্পিউটারের আসক্ত করে ফেলছি। দিনের অধিকাংশ সময় তাদেরকে ঘরের ভেতর বন্দি করে টেলিভিশনে কার্টুন বা স্মার্ট ফোনে গেমস খেলতে বাধ্য করছি। দিনের পর দিন এভাবে চলতে চলতে বাচ্চারা ওই সকল গ্যাজেটের উপর বেশি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে যা তাদের ভবিষ্যতের জন্য মারাত্মক বিপজ্জনক হয়ে উঠে। ফলে দিন দিন তাদের চিন্তা শক্তি গুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে অসুস্থ এক জীবনের সৃষ্টি করছে। এমনটি দেখা যায় যে টিভি দেখতে না দিলে শিশু কান্না শুরু করে দেয়। এখনতো মায়েরা শিশুদের টিভি না দেখিয়ে খাওয়াতেও পারে না।

ফলস্রোতে শিশুটি হয়ে উঠে আত্মকেন্দ্রিক, অসামাজিক ও অসহনশীল। আর শারীরিক সমস্যার ভেতর দেখা যায় শিশুর মাথাব্যথা, চোখব্যথা, চোখ দিয়ে পানি পড়াসহ চোখের দৃষ্টিশক্তির সমস্যা। আর ভবিষ্যতে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে যা তাকে শেষ পর্যন্ত মৃত্যু পর্যন্ত টেনে নিতে পারে। তাই কোনো ভাবেই প্রতিদিন আধঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার বেশি টিভি দেখতে দেবেন না। সপ্তাহে এক দিন ওই সকল গ্যাজেট থেকে শিশুকে বিরত রাখুন।

শিশুকে সময় দিন, তার কথা মন দিয়ে শুনুন। অন্যদিকে আমরা আমাদের  স্কুল গুলোতে সনাতন পদ্ধতিতে শুধু মাত্র বই খাতার ভেতর তাদেরকে বন্দি করে ফেলি। যদিও বর্তমানে সরকার শিশুদের শিক্ষা ক্ষেত্রে এ ব্যাপারে ব্যাপক কাজ করছে, তবে তা শুধু সরকারি স্কুল গুলোতেই  সীমাবদ্ধ। আর এখন যেহেতু করোনা সংকটের কারণে সমগ্র বিশ্বের শিশুরাই ঘরের ভেতর বন্ধি তাই শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য এই একটি টেলিস্কোপ গ্যাজেট খুবই সহায়ক। কারন এর ফলে তারা যেমন নতুন নতুন জিনিসপত্র চিনতে ও জানতে পারবে তেমনি নতুন কিছু জানার প্রতি তাদের আগ্রহ ও তৈরি হবে।

বাচ্চাদের জন্য বর্তমানে বিভিন্ন কোম্পানি বানিজ্যিক ভিত্তিতে টেলিস্কোপ তৈরি করে। এবং একটিকে একদিকে যেমন শিশুদের বিনোদনের বস্তু হিসেবে ধরা হয় তেমনি শিক্ষা উপকরণ হিসেবেও এটি ব্যাবহার করতে পারেন। এবং বাচ্চাদের জন্য তৈরি এ ধরনের টেলিস্কোপ খুবই অল্প টাকার মধ্যে সংগ্রহ করা যায়। বিভিন্ন অনলাইন শপিং সাইটে আপনি এনকল টেলিস্কোপ  কিনতে পাবেন। তবে বাংলাদেশে এসকল বাচ্চাদের খেলনা টেলিস্কোপ সহজেই পাওয়া যায় না। কিন্তু বিদেশে শিশুদের খেলনা হিসেবে সচারাচর এটি ব্যাবহার করা হয়। 

এসকল টেলিস্কোপ কিভাবে তৈরি হয়? এসকল টেলিস্কোপ তৈরির প্রক্রিয়া খুবই সহজ। একবার দেখিয়ে দিলে আপনার সন্তানই পবর্তীতে নিজে নিজেই তৈরী করতে পারবে। কাঠ বোর্ড, অল্প কিছু প্লাষ্টিক, লেন্স ও আয়না দিয়ে এই টেলিস্কোপটি তৈরি তাই এটি পরিবেশ বান্ধবও বটে। 16x ম্যাগনিফিকেশন ক্ষমতা সহ এটিতে রয়েছে রিয়েল গ্লাস অপটিক লেন্স, স্লাইডিং ফোকাস টিউব, অ্যাঙ্গেল ফাইন্ডার ও শক্ত কাঠ বোর্ড যেটিতে খাঁচ কাটা রয়েছে। শুধু মাত্র একটির সাথে অন্যটি  যুক্ত করে তৈরী হয়ে যায় সহজেই বহনযোগ্য এই টেলিস্কোপটি।

দূরের গাছ, পাখি বা পাখির বাসা সহ আকাশ জগতের বিষয় গুলো শিশুকে আরো রোমাঞ্চকর অনুভূতির সৃষ্টি করবে। গাছগুলিতে বসে থাকা গান গাওয়া পাখি আর রাতের আকাশে চাঁদের ভেতরের পাহাড় খুঁজে শিশু অনেক আনন্দ পাবে। শিক্ষা ও সৃজনশীল বিনোদন সবটাই একসাথে পাবে আপনার শিশু।

টেলিস্কোপ তৈরি করে চারপাশের বিশ্বকে নতুন করে চিনবে আপনার সন্তান আর সাথে ঘটবে তার মানসিক বিকাশ। অল্পবয়সী মনকে অনুপ্রাণিত করতে যুক্তরাজ্যের কোম্পানি পেপার ইঞ্জিন লিমিটেড এই গ্যাজেটটি প্রথম তৈরী করেছে। তারা বহু বছর ধরে শিশুদের মানুসিক বিকাশে নিত্য নতুন গ্যাজেট আবিষ্কার করছে। যুক্তরাজ্যের মাত্র ১৯ ডলারে বিনিময়ে মিলবে এই টেলিস্কোপটি। তবে আরও বিভিন্ন কোম্পানি বিভিন্ন ধরনের টেলিস্কোপ তৈরি করে শিশুদের জন্য। 

নবীনতর পূর্বতন