মোবাইল ফোনের চার্জ দীর্ঘস্থায়ী করার উপায় এবং দ্রুত চার্জ শেষ হওয়ার কারন

সাধারনত এন্ড্রয়েড মোবাইল চার্জ হতে অনেক সময় লাগে। কিন্তু চার্জ বেশি সময় থাকে না। যার ফলে বার বার মোবাইল টি চার্জিং করা লাগে। যা একদিকে সময়সাপেক্ষ তেমনি বিরক্তিকর। এ কারনে অনেকেই খুঁজে থাকেন কোন কোম্পানির ব্যাটারি ভালো। কিন্তু ব্যাটারি যতই ভালো হোক এক চার্জে একটি ফোন সারাদিন চালানো সম্ভব হয় না। তবে কিছু উপায় অবলম্বন করতে পারলে আপনার ফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হবে না এবং দীর্ঘ সময় চার্জ থাকবে।
আজ আমি আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি এন্ড্রয়েড মোবাইলের জন্য অসাধারণ এক টিপস। টিপ্সটা হচ্ছে এন্ড্রয়েড সেটের বেটারী চার্জ কিভাবে বাড়ানো যায় সেই বিষয়ে। তাহলে আসুন শুরু করি আজকের টিপস!

স্মার্ট ফোনের গুরুত্বপুর্ণ বিষয় হচ্ছে ব্যাটারি। হাই লেভেল স্মার্ট ফোনের ব্যাটারি অনেক সময় এক দিনেরও বেশী যায় না। আপনি ইচ্ছে করলে আপনার এন্ড্রয়েড স্মার্ট ফোনের ব্যাটারি কিছু কাজের মাধ্যমে বাড়াতে পারেন।

১. আপনার মোবাইলে যদি OLED, AMOLED অথবা Super AMOLED ডিস্প্লে থাকে তাইলে আপনার ২০% চার্জ এমনিতেই শেষ হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে ডার্ক মোড অন করে চালালে চার্জ কিছুটা সেভ হবে।

২) Amoled  ডিসপ্লে সমৃদ্ধ ডিভাইস  গুলোতে ডার্ক হোম স্ক্রীনের পাশাপাশি আপনি অ্যাপ ড্রয়ারে ডার্ক ওয়ালপেপার এবং বিভিন্ন লঞ্চার এর ক্ষেত্রে একটু ডার্ক থিম গুলো ব্যবহার করে দেখুন, অবশ্যই আপনার ব্যাটারি সেভ হবে।


৩) আমরা অনেকেই মনে করি অটো ব্রাইটনেস অন করা থাকলে চার্জ কিছুটা সাশ্রয় হয়। এই ধারণা সম্পুর্ন ভূল।অটো ব্রাইটনেস অনেক সময় প্রয়োজনের তুলনায় বেশী চার্জ গ্রহন করে। সে ক্ষেত্রে আপনাকে লো ব্রাইটনেস সেট করা চার্জ সেভের পক্ষে বেটার।

৪) অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের আরেকটি ফিচার আছে যা আপনার ফোনের বেশী চার্জ গ্রহন করে, ফিচারটি হচ্ছে ভ্রাইবেশন। আপনি আপনার সেটের ভাইব্রেশন অফ করে দিন, দেখবেন অনেক চার্জ সাশ্রয় হবে। অফ করার নিয়মঃ Settings > Sound এ যেয়ে vibrate when ringing এবং Vibrate on touch অপশন দুইটি অফ করে দিন।

৫) ভালো ব্যাটারী ব্যাকআপ এর জন্য প্রয়োজন অরিজিনাল ব্যাটারি। আপনি যদি আপনার সেটের জন্য লো বাজেটের ব্যাটারি চুজ করেন তাহলে সেটা আপনার চার্জ সেভের পক্ষে ক্ষতিকর।

৬) ডিসপ্লে টাইম আউট অপশনের সাথে আমরা সবাই পরিচিত। ডিসপ্লে টাইমআউট কাজ হল একবার আপনি আপনার ডিভাইস স্ক্রীন অন করার পর কত সময় পর এটি অফ হবে তা নিয়ন্ত্রন করা। আমরা সবাই জানি সাধারণত অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইস গুলোতে সবচেয়ে বেশি চার্জ খরচ করে থাকে ডিসপ্লে। কারণ এক পরিসংখ্যানে দেখা যায় একজন ইউজার দিনে প্রায় ১৫০ এর অধিকবার স্ক্রীন অন করে থাকেন। তাই যত বেশি সময় আপনার ডিভাইস স্ক্রীন অন থাকবে তত চার্জ যাবে। তো এক্ষেত্রে আপনি ডিসপ্লে টাইমআউট কমিয়ে রাখলে যথেষ্ট পরিমাণে ব্যাটারি সেভ হবে। সাধারণত ডিসপ্লে টাইমআউট ১৫ সেকেন্ড সেট করাই ভাল।

৭) অনেক ডিভাইসে ”sleep times” এবং স্যামসাঙ ডিভাইস গুলোতে ”blocking mode” নামে একটি অপশন রয়েছে। এই অপশন গুলোর মাধ্যমে আপনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আপনার ডিভাইসের ডাটা কানেকশন, ওয়াইফাই, ফোন ভাইব্রেশন ইত্যাদি অফফ করে রাখতে পারবেন। তাই ব্যাটারি সেভ করার জন্য আপনি এই অপশনটি কাজে লাগাতে পারেন।

৮) স্যামসাং ডিভাইস গুলোতে কিছু স্মার্ট ফিচার যেমন air gestures, smart scrolling ইত্যাদি দেয়া থাকে। এই ফিচার ব্যাপক হারে আপনার ডিভাইসের চার্জ খরচ করে। তাই যখন এই ফিচার গুলো আপনার প্রয়োজন হয় না, তখন স্মার্ট ফিচার গুলো অফ করে রাখাই ভাল।

৯) অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসে ফাইল আদান প্রদান করার জন্য আমরা সাধারণত Bluetooth, NFC এবং ইন্টারনেটের জন্য আমরা ডাটা কানেকশন এবং ওয়াইফাই ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু প্রয়োজন শেষে GPS, Bluetooth, NFC, Wi-Fi অবশ্যই টার্ন অফ করে দিন। এছাড়া প্রয়োজন শেষে লোকেশন ডাটাও অফ করে রাখুন।

১০) লকস্ক্রীনে ডিভাইসে দেয়া ডিফল্ট উইজেট গুলো ব্যবহার করাই ভালকারণ এতে উইজেট এর জন্য কোন আলাদা অ্যাপ ব্যবহার করার প্রয়োজন পড়বে না, যা প্রতিনিয়ত আপনার ডাটা কানেকশন ব্যবহার করে রিফ্রেশ হবে এবং চার্জ খরচ করবে।

১১) অনেক সময় আমরা হোমস্ক্রীনে কাস্টমাইজেশন করার জন্য এবং অন্যান্য প্রয়জনে বিভিন্ন উইজেট ব্যবহার করে থাকি। ব্যাটারি সেভ করার জন্য অপ্রয়োজনীয় উইজেট গুলো হোম স্ক্রীন থেকে রিমুভ করে দিতে পারেন।

১২)  আপনার ডিভাইসের এপ্স গুলা আপডেট করে নিন। এতে আপনার বেটারী ব্যাকআপ ভালো হবে।

১৩) বর্তমানে অনেক ডিভাইসে power saving mode অথবা অন্যান্য ব্যাটারি ম্যানেজমেন্ট অপশন দেয়া থাকে। আপনি আপনার বেটারীর কার্যক্ষমতা বাড়াতে সেগুলো ট্রাই করতে পারেন।

১৪) আপনার ডিভাইসে যদি auto-sync অন করা থাকে তাহলে তা অফ করে দিন। কারণ auto- sync অন থাকলে প্রতি ১৫ মিনিট পর আপনার ডিভাইসের গুগল অ্যাকাউন্ট রিফ্রেশ হয়। তাই ডিভাইসের Settings>Google account এ যেয়ে auto-sync অফ করে দিন।

১৫) সর্বশেষ টিপস হল আপনার ডিভাইসে থাকা গুগল প্লে স্টোর এর অটো আপডেট বন্ধ কর দিন। প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যাপ গুলো ম্যানুয়ালি আপডেট করে নিন।

যে কোন ক্যাটাগরির বাংলা পিডিএফ বই পেতে ভিজিট করুন Bangla PDF Books
Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url