বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

রচনা: একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা
বাংলা রচনা একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা
একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা রচনা
একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা অনুচ্ছেদ
একটি বর্ষণমুখর সন্ধ্যা
অনুচ্ছেদ বর্ষণমুখর সন্ধ্যা
বর্ষণমুখর সন্ধ্যা রচনা
বর্ষণমুখর সন্ধ্যা

[সংকেত: ভূমিকা—বর্ষায় পরিবেশ–বর্ষণমুখর সন্ধ্যার বর্ণনা- উপসংহার]
বর্ষনমূখর সন্ধ্যা
ভূমিকা; একথা সত্য, বর্ষার যে একটি বিশেষ রপ সৌন্দর্য আছে, তা পল্লীগ্রামে যতখানি উপলব্ধি ও উপভােগ করা যায়, ততখানি শহরে করা যায় না। শহরে নেই আমবাগান, বাঁশবাগান কিংবা হাওর, বিল। অনন্ত প্রসারিত আকাশই বা কোথায়? আসলে গ্রামবাংলা তথা পল্লীর বর্ষার সৌন্দর্যের সাথে শহরের বর্ষার সৌন্দর্যের পার্থক্য অনেক খানি। আমার বন্ধুর বড় বােনের বিয়ে । আগ্রহের প্রবল ঘাটতি ছিল বিয়েতে যাওয়ার ব্যাপারে। এরপরও বন্ধুর পীড়াপীড়িতে ওদের বাড়ি যেতে হলাে। পৌঁছার পর থেকে সেই যে বৃষ্টি শুরু হলাে তা থামার কোনাে লক্ষণ নেই। তখন সন্ধ্যা। বর্ষণ মুখর এমন সন্ধ্যা আগে কখনাে দেখি নি। তাই অভিজ্ঞতাটা লিখে রাখাই শ্রেয় মনে করছি।


বর্ষায় পরিবেশ: বর্ষা মৌসুম চলছে। ইতােমধ্যে নদীনালা, খালবিল ভরে গেছে পানিতে। সারাদিন অঝাের ধারায় বৃষ্টি ঝরছে। জানালার ধারে বসে প্রকৃতির বর্ষণ সংগীত শুনছি সারাদিন। নীরব-নিথর পরিবেশ। কোথাও নেই প্রাণের কোলাহল । আকাশ বডড বেয়াড়া। ফলে ঘরে বসেই কাটালাম সারাদিন। আর প্রকৃতিকে তখন আবিষ্কার করলাম এক নতুন রূপে।

বর্ষণমুখর সন্ধ্যার বর্ণনা: বিয়ে উপলক্ষে বাড়ির সামনে বিশাল প্যান্ডেল বানানাে হবে। শামিয়ানা, চেয়ার-টেবিল সব কাদায় লুটোপুটি খাচ্ছে। পাড়ার দুষ্টু ছেলের দল সর্বাঙ্গে কাদা মেখে শামিয়ানার ওপর আছড়ে পড়ছে। এসব দেখে বাড়ির মুরব্বি আর স্থির থাকতে পারলেন না। লাঠি নিয়ে সেই বৃষ্টির ভেতর তেড়ে যাওয়ার সময় নজ শরীরটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে মৃদু আছাড় খেলেন । দুষ্ট ছেলের দল লাঠ্যাঘাত থেকে বেঁচে গিয়ে দ্বিগুণ উল্লাসে দাপাদাপি শুরু করল। এ সুযােগে বাড়ির নাতি-নাতনিরা রসিকতা করতে কমে ছাড়ল না। গীত গাওয়া ছাড়া পাড়াগাঁয়ের বিয়ে জমেই না। নান্টুর বাবার প্রবল আপত্তি আমলে না এনে কনের পাড়াত চাচি, খালা, ফুফুরা গীত গাওয়া শুরু করল। এ উপলক্ষে কয়েক পণ পান ও সুপারি আগেই সংগ্রহ করা হয়েছিল। মুষলধারে বৃষ্টি ও গগনবিদারি বিবাহ সঙ্গীত যুগপৎ চলতে লাগল। খুলনা থেকে আগত কনের ফুফুর নেতৃত্বে শুরু হলাে কনের নাজ-গােজের মহড়া। ফুফুর সহযে হিসেবে আছে কনের। ডজন খানেক চাচাত, ফুফাত, খালাত, পাড়াত বােন ও বান্ধবীরা। সন্ধ্যা যত ঘনীভূত হতে লাগল তত বেশি ভালাে লাগছিল। দেখলাম দূরে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরছে এক কৃষক। মনে পড়ছে কত আনন্দ-বেদনা কত ঘটনার কথা । এমনি এক সন্ধ্যায় ঢাকাতে আমার বােন শাপলার সাথে বাদাম ভাগাভাগি নিয়ে ঝগড়ার কথা। ভীষণ ঝগড়া হয়েছিল। পরে বুঝলাম ভুলটা আমারই ছিল। থাক এসব কথা। সারাদিনের অবিরাম বর্ষণের কারণে কাঠাল গাছের পাতা গুলাে নুয়ে পড়েছে। মনে হচ্ছে ওরাও ক্লান্ত। হঠাৎ দেখলাম কয়েকটি কবুতর পাশের বাড়ির চালের ওপর বসে ভিজছে। খুব ভালাে লাগল। এমন বর্ষণমুখর সন্ধ্যাতেই রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন,

“এমন দিনে তারে বলা যায় 
এমন ঘন ঘাের বরিষায়।”

সন্ধ্যা আরাে ঘনীভূত হচ্ছে। কানে ভেসে এলাে কাছের ডােবা থেকে ব্যাঙের ডাক। মনে হচ্ছিল ওটা ব্যাঙদের সংগীত সন্ধ্যা। কয়েকজন লােককে দেখলাম ছাতা মাথায় দিয়ে বাড়ির উদ্দেশে এগিয়ে যাচ্ছে। অবাক হলাম যখন দেখলাম কচু পাতা মাথায় দিয়ে কয়েকজন লােক যাচ্ছে। খুব ভালাে লাগল। আসলে জানালাটি এমন এক জায়গায় যেখান থেকে রান্স এবং পার্শ্ববর্তী নদীর বালুচর পর্যন্ত দেখা যায়। তবে বৃষ্টি এবং সন্ধ্যার কারণে ততটা স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছিল না। সন্ধ্যা আরাে বাড়ল। লক্ষ করলাম দূরে লণ্ঠন হাতে কে যেন তার গােয়ালে গরু বাঁধছে। সন্ধ্যা বাড়ার সাথে সাথে বৃষ্টি বাড়তে লাগল, সেই সাথে শুরু হলাে আকাশে বিজলির চমক। এ দৃশ্য দেখে মনের মাঝে কেবলই ভেসে উঠল সেই গান-

“পাগলা হাওয়ার বাদল দিনে
পাগল আমার মন জেগে উঠে।”

বৃষ্টির বেগ এবং বিদ্যুৎ চমক আরাে বাড়তে থাকায় জানালা বন্ধ করে দিলাম। তৃণা আপা আমার কাছে এলেন। তৃণা আপাকে মজা করে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কখনাে পােড়া ভাত খেয়েছেন কিনা? তৃণা আপা মৃদু হাসলেন এবং জানালেন পাশের রুমে সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। বিয়ের দিন-ক্ষণ খুবই আনন্দের। বিয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই এ মুহূর্তে আপনজনকে কাছে পেতে চায়। বন্ধুর বােনের বিয়েতে গেছি। ওরা চায় এ আনন্দে আমিও শরিক হই। কনেকে ঘিরে সবাই জড়াে হয়েছে। শিরিনা আপাকে আগেও বহুবার দেখেছি। আজ অন্য রকম। দূরদেশের কোনাে অতিথির অপেক্ষায় উতলা। সবার মধ্যে উকণ্ঠা-এ অজ পাড়াগাঁয়ে বরযাত্রীরা আসছে দুর্যোগ মাথায়  নিয়ে।

উপসংহার : বর্ষণমুখর সন্ধ্যা যে কত সুন্দর হয় তা এই প্রথম অনুভব করলাম। বর্ষণমুখর সন্ধ্যার এ অতুলনীয় সৌন্দর্য আমার স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

নবীনতর পূর্বতন