রাজপরিবারের কথা হলেই প্রথম যে নামটি আসে তা হল  ব্রিটেনের রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ এবং তার উত্তরসূরি এবং পূর্বপুরুষ। এই পৃথিবীটি এখনও অবধি অনেক রাজা দ্বারা শাসিত হয়েছে। কালের বিবর্তনে সেই সমস্ত রাজা ও রাজ পরিবার হারিয়ে গেছে ।তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে  ব্রিটিশ রাজ পরিবারটি কিংবদন্তি হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার বোঝা আর নেই কিন্তু তাই বলে জনপ্রিয়তা এতটুকু কমে নি।
ব্রিটিশ রাজপরিবার

বিশ্বের মানুষ তাকে এখনও তাদের  রাজতন্ত্রের আদর্শ উদাহরণ হিসাবে বিবেচনা করে। বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষ ব্রিটিশ রয়েল পরিবার সম্পর্কে ভাবেন যে- "তারা সর্বদা সঠিক কথা বলে, ফ্যাশনেবল পোশাক পরেন, তাদের সন্তানদের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখেন, ভাল লোকের সাথে মেলামেশা করেন" ইত্যাদি। আসলে কিন্তু তা নয় ।

এই রাজপরিবারের কিছু অন্ধকার রহস্য রয়েছে যা দীর্ঘকাল ধরে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে গোপন রাখা । আজ আমি আপনাদের সামনে "ব্রিটিশ রয়েল পরিবার" এর  "১০টি সেরা  বড় কেলেঙ্কারীর ঘটনা  " উপস্থাপন করব যা আপনাকে অবাক করে দেবে এবং রাজপরিবার সম্পর্কে আপনার পুরানো ধারণাগুলি পরিবর্তন করবে।

১.রানী ভিক্টোরিয়ার প্রেম
 রানী ভিক্টোরিয়া  এবং তার  দুই চাকরের সাথে  তার প্রণয় কাহিনী রাজপরিবারের ইতিহাসে অন্যতম কলঙ্কজনকঘটনা বলে মনে করা হয়। 
ঐতিহাসিকদের মতে, রানী ভিক্টোরিয়ার প্রিয় স্বামী prince আলবার্ট এর মৃত্যুর পর রানী  "জন ব্রাউন" নামক এক স্কটিস চাকরের সাথে একটি সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।  তাদের এই সম্পর্কটি বেশ প্রশ্নবিদ্ধ ছিল।
দ্বিতীয় বিতর্কিত  ঘটনা হল:রানী ভিক্টোরিয়া ও তার চাকর আব্দুল করিমের প্রণয় কাহিনী।  এই সম্পর্ক এত টাই তিক্ত ছিল যে , রানীর মৃত্যুর পর তার পরিবারের সদস্যরা রানী এবং আব্দুল করিম সম্পর্কিত সমস্ত তথ্য ধ্বংস করার জন্য তৎপর 

২.এলিজাবেথ ও মেরী
ইংল্যান্ডের রানী প্রথম এলিজাবেথ এবং স্কটসের রানী কুইন মেরি ছিলেন  ইতিহাসে রেকর্ড করা দুজন সেরা কিংবদন্তি। কুইন মেরি মাত্র ছয় দিন বয়সে স্কটসের সিংহাসনে আরোহন করেছিলেন।

 নিঃসন্তান রানী কুইন এলিজাবেথের মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারের দাবি আরো শক্ত করার জন্য ১৫৬৫ সালে মেরি তার ইংরেজ মামাতো ভাই লর্ড ডার্নল কে বিয়ে করেছিলেন এবং ১৫৬৭ সালে একটি বিস্ফোরনে মেরীর স্বামী মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মেরীর কথিত প্রেমিককে দায়ী করা হয় । 

মেরি এইসব দাবি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অভিজাতদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেন কিন্তু তিনি পরাজিত ও স্কটল্যান্ডের লচলেভেন বন্দী হন। 1568 সালে মেরি এই বন্দীদশা থেকে পালিয়ে আসেন এবং রানী এলিজাবেথ তাকে স্বাগত জানান। 

কিন্তু এলিজাবেথ কে ক্ষমতাচ্যুত করার ষড়যন্ত্র যোগ থাকার কারনে তাকে গৃহবন্দি করা হয়।  এই ঘটনার 19 বছর পর 1586 সালে এলিজাবেথ কে হত্যার ষড়যন্ত্র লিপ্ত থাকার কারনে তাকে মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। 4ফেব্রুয়ারি, 1587 সালে রাষ্ট্রদ্রোহিতার কারনে কুইন মেরির শিরশ্ছেদ করা হয়। 

৩.রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের বিতর্কিত বিবাহ
১৯৩৬ সালে রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড তার পিতার মৃত্যুর পর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হন। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই তাকে এই সিংহাসন ছাড়তে হয়েছিল। 

কারন রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড " Wallis Simpson" নামক এক তালাকপ্রাপ্তা নারীর প্রেমে পড়েছিলেন এবং তাকে বিয়ে করতে চেয়েছিলেন। তৎকালীন ব্রিটিস আইন অনুযায়ী, "একজন রাজা দুইবার তালাকপ্রাপ্তা নারী বিবাহ করতে পারবেন না। যদি বিয়ে করেন তবে সেই রাজাকে তার সিংহাসন এবং রাজপদবি ত্যাগ করতে হবে"। 

সুতরাং স্বাভাবিক ভাবেই এই প্রেমটি ছিল সামাজিক, রাজনৈতিক, এবং ধর্মীয় নীতির বিরুদ্ধে। রাজা অষ্টম এডওয়ার্ড এর সামনে দুটি উপায় ছিল; হয় রাজ সিংহাসন ত্যাগ করে সিম্পসন কে বিবাহ করা ,নয়তো সিম্পসন কে বিবাহ করে রাজসিংহাসন ত্যাগ করা। 

এডওয়ার্ড এবং সিম্পসন ১৯৩৭ সালে বিয়ে করেছিলেন এবং ১৯৭২ সালে এডওয়ার্ডের মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তারা একসাথে ছিলেন। 

৪. প্রিন্সেস মার্গারেটের-একটি অসমাপ্ত প্রেম কাহিনী
ক্যাপ্টেন পিটার টাউনসেন্ড ছিলেন একজন  রয়্যাল এয়ার ফোর্সের অফিসার।  যিনি একটি অশ্বারোহী হিসাবে কাজ করেছিলেন ।

তিনি  মূলত রাজপরিবারের পরিচারক ছিলেন। ক্যাপ্টেন পিটার টাউনসেন্ড তার দিনের বেশীর সময় princess মার্গারেটের সাথে কাটাতেন । তাদের এই ঘনিষ্ঠতা প্রেমে রূপান্তরিত হতে খুব বেশী সময় নেয় নি। 

 খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তারা দুজন  দুজনের প্রেমে পড়েন। তবে এই সম্পর্কের প্রধান সমস্যা ছিল ,Capten Peter Townsend বিবাহিত ছিলেন।

১৯৫৩ সালে  টাউনসেন্ড তার স্ত্রীকে তালাক দিয়েছিলেন এবং মার্গারেটের কাছে বিবাহের  প্রস্তাব পাঠান। কিন্তু সামাজিক ও ধর্মীয় ভাবে এই ধরনের বিয়ের ইংল্যান্ডে নিষিদ্ধ ছিল। সর্বোপরি, মার্গারেটের চাচা এডওয়ার্ড অষ্টমকে বিবাহবিচ্ছেদের বিয়ের জন্য সিংহাসন ত্যাগ করতে হয়েছিল। 

১৯৫৫ সালে যখন তারা এই বাগদান বন্ধ করে দেয় এবং এই সম্পর্কের ইতি টানার সিদ্ধান্ত নেয়।  ক্যাপ্টেন টাউনস্যান্ড এবং প্রিন্সেস মার্গারেটের এই বিচ্ছেদ ছিল খুবই বেদনাদায়ক যা তখনকার মানুষের মনকে ব্যথিত করেছিলো।

৫.মার্গারেট এবং এক চিত্রশিল্পী 
Captain Peter Townsend এর সঙ্গে বিচ্ছেদ এর পর princess Margaret Anythony Armstrong Jones নামক এক চিত্রশিল্পীকে বিয়ে করেন। তাদের বিয়েটা এতটাই রাজকীয়ভাবে হয়ে ছিল যে সেটা টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছিল। 

এটিই ছিল প্রথম কোনো রাজকীয় বিবাহ যা টেলিভিশনে প্রচারিত হয়েছিল। তবে দুঃখের বিষয় হল , চমত্কার এই রাজকীয় বিয়েটি বেশিদিন টেকে নি। 

এক বছরের মধ্যেই Margaret এবং Anthony এর সম্পর্কে তিক্ততা শুরু হয়।  তারা জনসম্মুখে ঝগড়া এবং মারামারিত ঘটনা ঘটিয়েছিলেন যার ফলে তাদের এই সম্পর্কটি জনসাধারণের উপহাসের বিষয় হয়ে ওঠে। 

জনসমক্ষে নিজেদের ঝগড়া, স্বামীকে ছাড়া দীর্ঘ সময় Margaret এর অবকাশ যাপন ইত্যাদি ঘটনা তাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদের দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিল। গুজব ওঠে যে, Margaret তার থেকে 17 বছরের জুনিয়র কারো সাথে সম্পর্কে আবদ্ধ আছেন। 

1976 সালে এই দম্পতি তাদের বিচ্ছেদের ঘোষনা দেয় এবং 1978 সালে তারা official ভাবে তাদের বিচ্ছেদ সম্পন্ন করে। 

৬.প্রিন্সেস ডায়ানার গোপন প্রেমিক
Princess Diana কে ব্রিটিস রাজপরিবারের অন্যতম সুন্দরী নারী বলা হয়। তার fasion, hair style, makeup sense , ইত্যাদির জন্য মানুষ এখনো তাকে মনে রেখেছে। এমনকি রাজপরিবারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হওয়ার পর ও মানুষ তাকে princes নামে সম্বোধন করতে পছন্দ করত। রাজপরিবারের  সদস্য হওয়ার পর থেকেই ঝামেলা যেন ডায়ানার পিছু ছাড়ছিলো না। তবে যে কেলেঙ্কারির ঘটনা ডায়ানার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছিল সেটি হল ডায়ানা এবং তার বন্ধু James Gilbay এর ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার ঘটনা । 1992 সালে যখন Diana prince Charles  এর স্ত্রী ছিল, যখন ডায়ানা ও তার বন্ধুর একটি ফোনালাপ ফাঁস হয় যেখানে Princess ডায়ানার বন্ধু James Gilbay Dianaকে  "Darling" এবং Squidgy" বলে সম্বোধন করছিলো এবং তাকে চুমু খেতে অনুরোধ করেছিলো। পরবর্তীতে এক সাক্ষাত্কারে Diana এই স্বীকার করেন। কিন্তু Gilbay সাথে তার বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ককে তিনি অস্বীকার করেছিলেন। 

৭.চার্লসের ফোনালাপ
ডায়ানার ফোনালাপ  ফাঁস হওয়ার অনেক পরে, প্রিন্স চার্লস ও একই কেলেঙ্কারির শিকার হন। 

Prince চার্লসের  ক্যামিলা পার্কার বোলেস নামক একজন  বান্ধবী ছিলো। ধারনা করা হয়, চার্লসের এই প্রেমময় বন্ধুত্ব চার্লস এবং ডায়ানার  দাম্পত্য ফাটল ধরিয়েছিল।

চার্লস এবং  ক্যামিলার ফোনালাপ এর একটি অংশে ক্যামিলা  ট্রাউজারগুলিকে "ভিতরে" থাকার জন্য চার্লসকে ট্যাম্পনে পরিণত করার বিষয়ে কৌতুক করেছিলেন। এই ফোনালাপটি চার্লস এবং ডায়ানার সম্পর্ককে এতটাই তিক্ত করেছিল যে তারা বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। 

এই বিতর্কিত ঘটনার পরের বছর , চার্লস এবং ডায়ানা তাদের বিচ্ছেদ ঘোষণা করেছিল এবং তা সম্পূর্ণ করেছিল।

৮.ডায়ানা এবং মার্টিন বশির 
১৯৯৫ সালে, ডায়ানা সাংবাদিক মার্টিন বশিরের সাথে একান্ত সাক্ষাত্কারে অংশ নিয়েছিলেন এবং সেখানে তার জীবনের বিরাট চাপ এবং নিজের ক্ষতি, চার্লসের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েন  এবং রাজপরিবারে নিজের একাকিত্বের কথা তুলে ধরেন। 

তিনি বলেন যে  ক্যামিলার সাথে চার্লসের সম্পর্ক সম্পর্কে তিনি জানতেন। ডায়ানা স্বীকার করেছিলেন যে, চার্লসের সাথে তার সম্পর্ক ভালো ছিলো না। এমনকি  ডায়না নিজেও  তার নিজের রাইডিং প্রশিক্ষক "জেমস হিউটের" সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে আবদ্ধ ছিলেন। 

এই সাক্ষাত্কারের কয়েক সপ্তাহ পরে, রানী নিজেই তার পুত্র এবং পুত্রবধূকে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য অনুরোধ করেছিলেন। এর পরের বছর Diana এবং prince Charles official ভাবে তাদের বিচ্ছেদের ঘোষনা দেন। এরপর 2005 সালে  চার্লস এবং ক্যামিলা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন  এবং এখনও তারা একসঙ্গে রয়েছেন। 

৯.রাজকন্যা ও রাজকর্মচারীর বিবাহ
প্রিন্সেস অ্যান হচ্ছেন রানী  দ্বিতীয় এলিজাবেথের একমাত্র কন্যা। Princess Annie ১৯ 197৩ সালে  মার্ক ফিলিপস নামক অলিম্পিক অশ্বারোহীকে  বিয়ে করেছিলেন। কিন্তু বেশ কিছুদিন একসাথে থাকার পরও  দুর্ভাগ্যজনক ভাবে এই দম্পতি কখনো সুখী হতে পারেন নি। তারা এতটাই অসুখী ছিল যে,জনপ্রিয় ব্রিট্রিস ম্যাগাজিন "পিপল" এই বিবাহকে "আনন্দহীন শাম" বলে বর্ণনা করেছিল।

1989 সালের  একটি ব্রিটিশ সংবাদপত্র অ্যানির লেখা তার কিছু চিঠির অনুলিপি পেয়েছিল। চিঠিগুলো লেখা হয়েছিল "টিমোথি লরেন্স" নামক এক ব্রিটিশ নৌ কর্মকর্তাকে।  যদিও চিঠিগুলির বিষয়বস্তু কখনোই জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। চিঠিগুলো বিষয়বস্তু এতটাই  "অন্তরঙ্গ" ছিল যে এই চিঠিগুলো তখন মুখরোচক সমালোচনার উৎস হয়ে উঠেছিল।

1992 সালে , অ্যান ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি তার পূর্ব স্বামী ফিলিপসকে তালাক দিচ্ছেন  এবং লরেন্সকে বিয়ে করার পরিকল্পনা করছেন এবং এখনো তারা এক সাথেই রয়েছেন. 

১০.সারা ফার্গুসনের নগ্ন ছবি
সারা ফার্গুসন যিনি "ফার্গি" নামে পরিচিত তিনি 1986 সালে প্রিন্স অ্যান্ড্রুর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ৈছিলেন। কিন্তু একটি কেলেঙ্কারি ঘটনায় তাদের এই বিবাহিত জীবনের সমাপ্তি ঘটে। 

 বিবাহের ছয় বছর পর পাপারাজ্জিদের ক্যামেরায়  জন ব্রায়ান নামক একজন আমেরিকান আর্থিক উপদেষ্টার সাথে ফার্গির অবকাশ যাপনের দৃশ্য ফ্রেম বন্দী হয়। ছবিতে দেখা যায়, Fargue অর্ধ নগ্ন অবস্থায় শুয়ে আছেন এবং ব্রায়ান fargue এর  পা চাটছেন. 

এই ঘটনায় রাজপরিবারের image  প্রশ্নবিদ্ধ হয়। এই ঘটনা এতটাই বেশী সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল যে ফার্গি এবং অ্যান্ড্রু  বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। 1992 সাল থেকে  তারা আলাদা থাকতে  শুরু করে  এবং 1996 সালে বিবাহবিচ্ছেদ করেছিলেন।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো