ভিপিএন (VPN) শব্দের পূর্ন রুপ হচ্ছে ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Virtual Private Network). আমাদের অনেকের মোবাইলে ভিপিএন আছে। যেগুলো আমরা মূলত ব্লক ওয়েব সাইটে প্রবেশ করতে বা নিজের নিরাপত্তা বিধানে ব্যাবহার করে থাকি। তবে অনেকেরই অজানা যে, VPN কি, ভিপিএন কিভাবে কাজ করে, ভিপিএন কিভাবে চালু করবো, Vpn কিভাবে সেট করবো তথা ভিপিএন ব্যবহারের নিয়ম। আর তাদের জন্যই মূলত আজকের লিখতে বসা চলুন শুরু করা যাক:-

ভিপিএন কি (What Is VPN) এবং কি কি কাজে লাগে: VPN শব্দটির পূর্নরূপ হচ্ছে Virtual Private Network. এটি মূলত এমন একটি সিস্টেম যার মাধ্যমে একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক টানেল তৈরি হয়। এবং এটি ব্যাবহারকারীর আসল ঠিকানা হাইড করে এবং ভিপিএন এ সেট করা ঠিকানা প্রদর্শন করে।


আমরা সকলেই জানি ইন্টারনেট সমগ্র বিশ্বব্যাপি বিসৃত একটি জাল। এই ইন্টারনেটে একে অপরের সাথে যুক্ত। এবং এটি একটি পাবলিক নেটওয়ার্ক সিস্টেম। তাই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য (Data) আদান প্রদান করা বেশ ঝুকিপূর্ণ হয়ে যায়। কারন যেকোনো সময় তথ্য ফাঁস হওয়ার মত ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু ভিপিএন যেহেতু একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক তাই এখানে তথ্য আদান প্রদান করা বেশ নিরাপদ! যেহেতু VPN পাবলিক নেটওয়ার্ক (Public Network) কে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (Private Network)- এ রুপান্তর করে ভার্চুয়ালি।


এছাড়াও ভিপিএন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আদান প্রদান ছাড়াও আরো বিভিন্ন কাজে লাগে। যেমন, আইপি ঠিকানা হাইড (IP Address) করা, ব্লক ওয়েব সাইটে প্রবেশ করা ইত্যাদি। অনেক ওয়েব সাইট বিভিন্ন দেশ থেকে (ISP থেকে ব্লক করা) ব্লক করা থাকে। সেক্ষেত্রে যেসকল দেশে ওয়েব সাইটটি আইএসপি (ISP) তে ব্লক করা না সে দেশে ভিপিএন কানেক্টে করে সহজেই ভিজিট করতে পারবেন।


এছাড়াও ভিপিএন সার্ভার প্রাইভেট হওয়ার সাথে সাথে আইপি হাইড হওয়ার কারনে নির্দিষ্ট লোকেশন ট্রাক করা সম্ভব হয় না। কোন ওয়েব সাইট ভিজিট করার সময় আপনার তথ্য সেখানে সেভ হবে না এসকল কারনে হ্যাকিংয়ের শিকার হওয়ার জটিলতা হতে মুক্ত থাকা সম্ভব।


ভিপিএন কিভাবে কাজ করে:

প্রতিটি ভিপিএন এর আলাদা আলাদা প্রাইভেট সার্ভার থাকে। যেখান থেকে প্রতিটি ব্যাক্তি সুরক্ষিত উপায়ে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। তবে এই প্রাইভেট সার্ভারে কানেক্টেড হতে হলে আপনার ফোনে বা কম্পিউটারে অবশ্যই ইন্টারনেট কানেকশন থাকতে হবে।


ভিপিএন কিভাবে চালু করবো  এবং Vpn কিভাবে সেট করবো:

ভিপিএন চালু করলে এবং ভিপিএন ব্যাবহারের নিয়মটি খুবই সহজ। VPN সফটওয়্যারের ভিতরে প্রবেশ করে দেখতে পাবেন বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রাইভেট সার্ভার। আপনি যে সার্ভারের সাথে কানেক্ট হতে চান সেই সার্ভার সিলেক্ট করুন। তাহলে দেখবেন কিছু সময়ের ভিতরে ভিপিএন কানেক্টেড হয়ে যাবে। তবে একটি বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যে, ইন্টারনেট কানেকশন অবশ্যই চালু থাকতে হবে। এবং ভিপিএন কানেক্টেড হয়ে গেলে আপনি সেখানে দেখতে পাবেন। এছাড়াও আরেকটি বিশেষ দিক হচ্ছে VPN কানেক্ট হলে মোবাইল ফোনের নোটিফিকেশন বারে একটি চাবির মত চিন্হ দেখতে পাবেন। এসময় বুঝতে পারবেন আপনার ভিপিএন সার্ভিস ব্যাবহারের জন্য প্রস্তুত।


ভিপিএন প্রকারভেদ (Type Of VPN):

ভিপিএন বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে এগুলো হলো PPTP VPN, Site to Site VPN, L2TP VPN, Remote Access VPN, IPsec, SSL, MPLS VPN, Hybrid VPN ইত্যাদি। এছাড়া ভিপিএন সফটওয়্যার দুই ধরনের হয়ে থাকে এগুলো হলো ফ্রি ভিপিএন (Free VPN) এবং পেইড ভিপিএন (Paid VPN).


সাধারন কাজ গুলো আপনি চাইলে ফ্রী ভিপিএন ব্যাবহার করেই করতে পারলেও ১০০% সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হলে পেইড ভিপিএন ব্যাবহার করতে হবে। কারন ফ্রি সফটওয়্যার গুলো  পুরোপুরি সিকিউরিটি দিতে সক্ষম না। এগুলো আইপি হাইড করতে সক্ষম হয় না। দেখা যায় লোকেশন বদলালেও আইপি ঠিকই শো করছে।


আবার ভিপিএন সফটওয়্যার বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে কতগুলো ভিপিএন সফটওয়্যার সম্পুর্ন ফ্রি কতগুলো পেইড। কতগুলো ফ্রি-তেও ব্যাবহার করা যায়। কিন্তু ভালো সার্ভিসের জন্য পেইড সাবস্ক্রিপশন দরকার হয়। কতগুলো ফ্রি-তে ব্যাবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় বা ডাটা লিমিট করে দেয়। অর্থাৎ নির্দিষ্ট পরিমান ডেটা ব্যাবহারের পরে আর ফ্রিতে ব্যাবহার করা যায় না।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো