চিঠি পত্রের ব্যবহার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাওয়ার সাথে সাথে মানুষ আধুনিক পদ্ধতির সাহায্যে জীবনকে সহজ করে তুলেছে। বর্তমানে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই চিঠি পত্রের পরিবর্তে ইমেইল(E-mail) ব্যাবহার শুরু করেছে। তাহলে চলুন জেনে নেই ইমেইল সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যেমন,  ই মেইল কি এবং ই মেইল এর পূর্ণরূপ কি, ই-মেইল এর কাজ বা ব্যবহার, ই মেইল কিভাবে কাজ করে। ই মেইল খোলার নিয়ম ও ইমেইল করার পদ্ধতি সহ ই- মেইল এর সুবিধা সমূহ!

ই মেইল কি (What Is Email)? ই-মেইলের পূর্ণ অর্থ হলাে ইলেক্ট্রনিক মেইল। ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস (কম্পিউটার, মােবাইল প্রভৃতি) এর মধ্যে ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থাকে ই-মেইল বলে।

ই-মেইলের কাজ বা ব্যবহার হলো তথ্য আদান-প্রদানে আইপি বা ইন্টারনেট প্রােটোকল ব্যবহার করে থাকে এবং এতে টেক্সট বার্তার সাথে অ্যাটাচমেন্ট আকারে নানা ফাইলও (ডকুমেন্ট, ছবি, অডিও, ভিডিও সহ যে কোনাে ডিজিটাল ফাইল) পাঠানাে যায়। এবং ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় সারা বিশ্বের যেকোনাে স্থানে ই-মেইল পাঠানাে যায়।

বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ইমেইল সুবিধা প্রদান করে থাকে। এগুলোর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় হচ্ছে গুগল (Google) কোম্পানির  জিমেইল (Gmail)। এছাড়াও আর বিভিন্ন ইমেইল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মাইক্রোসফট ( Microsoft) কোম্পানির হটমেইল (Hotmail) এবং ইয়াহু কোম্পানির Yahoo মেইল। 

ই-মেইলের (E-mail) জন্য একটি নির্দিষ্ট ই-মেইল অ্যাড্রেস ব্যবহৃত হয়, যা প্রত্যেক ব্যবহারকারীর জন্য ইউনিক হয়ে থাকে। নিরাপত্তার জন্য গােপন পাসওয়ার্ড দ্বারা প্রত্যেকের ই-মেইল অ্যাকাউন্টকে সুরক্ষিত রাখা হয়। একটি ই-মেইল অ্যাড্রেসের দুটি অংশ থাকে; যার প্রথম অংশটি ব্যবহারকারীর পরিচিত এবং শেষাংশটি ডােমেইন নেম হিসেবে পরিচিত। যেমন : gganbitan@gmail.com একটি ই-মেইল অ্যাড্রেস; যার gganbitan অংশটি ব্যবহারকারীর পরিচিতি এবং gmail.com অংশটি ডােমেইন নেম হিসেবে চিহ্নিত হবে। ই-মেইল অ্যাড্রেসের এ দুই অংশকে @ চিহ্ন দ্বারা পৃথক করা হয়ে থাকে।

কিভাবে ইমেইল পাঠাতে হয় এটি আমাদের সকলের জানা উচিত। তবে ইমেইল পাঠানোর নিয়ম খুবই সহজ! প্রথমে আপনি কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান কে একটি ইমেইল পাঠাতে চান তার মেইল এড্রেস (Mail Address) টি সংগ্রহ করতে হবে। এর পরে  কম্পোজ (Compose) অপশনে গিয়ে ইমেইল লেখা শুরু করতে হবে। To অপশনে আপনি যাকে মেইল করবেন তার এড্রেসটি দিন। এরপরে সাবজেক্ট (Subject) অপশনে যে বিষয়ে মেইল লিখবেন সেটি লিখুন। এবং এরপরে নিচে বিস্তারিত লিখুন। এবং কোন এটাচমেন্ট যুক্ত করতে চান তাহলে স্ক্রিনশটে উল্লেখিত অপশনের মাধ্যমে আপনার প্রয়োজনীয় ছবি বা ডকুমেন্টস যুক্ত করুন। এবং sent অপশনে ক্লিক করার মাধ্যমে পাঠিয়ে দিন আপনার ইমেইল টি।

ই-মেইল এর জনক কে? ই-মেইলের জনক রেমন্ড স্যামুয়েল টমলিনসন। আমেরিকান কম্পিউটার প্রােগ্রামার Raymond Samuel Tomlinson এর জন্য ১৯৪১ সালের ২৩ এপ্রিল। তিনিই সর্বপ্রথম আরপানেটে ই-মেইল প্রােগ্রাম ব্যবহার করে এক হােস্ট কমপিউটার থেকে অপর হােস্ট কম্পিউটারে ই- মেইল প্রেরণ করেন। তার সূচিত এই ই-মেইল ব্যবস্থা পরবর্তীতে সারা পৃথিবীতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে তথ্য আদান-প্রদানে কে ব্যাপক বিপ্লব সাধন করে। ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য বিনিময় পদ্ধতি উদ্ভাবন ও তার দ্বার প্রথম সফল ই-মেইল বিনিময়ের কৃতিত্বের কারণে তাকে ই-মেইলের জনক বলা হয়।

ই-মেইলের সুবিধা (Advantages of E-mail):

  1. Email ব্যবহার করা সহজ। সহজে পাঠানাে যায় ও গ্রহণ করা যায় এবং কম্পিউটারে সংরক্ষণ করে রাখা যায়।
  2. ইমেইল সবচেয়ে দ্রুত। মুহূর্তেই পৃথিবীর যে কোনাে প্রান্তে পাঠানাে যায়।
  3. ই-মেইলের ভাষা সহজ।
  4. কোনাে গ্রুপ লােকজনের সাথে দ্রুত যােগাযােগ করা যায়।
  5. ই-মেইলের সাথে এটাচ করে অন্য প্রােগ্রাম বা ফাইল (লেখা, অডিও, ভিডিও) পাঠানাে যায়।
  6. একই মেইল সিসি করে অনেকের কাছে পাঠানাে যায়।
  7. এতে কাগজের ব্যবহার হয় না বিধায় পরিবেশের জন্য সহায়ক।
  8. ই-মেইলের মাধ্যমে সহজেই খুব কম খরচে কোন প্রােডাক্ট মার্কেটিং করা যায়।
  9. সাধারণ প্রাপ্ত মেইলের বিপরীতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোনাে উত্তর পাঠানাের ব্যবস্থা করা যায়।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো