বর্তমান যুগ আধুনিক যুগ। আর এই আধুনিক যুগে কম্পিউটার হচ্ছে আধুনিকতার এক অন্যতম উপাদান। তবে বর্তমান সময়ে আমরা যে কম্পিউটার দেখতে পাই আবিষ্কারের শুরুর দিকে কম্পিউটার এরকম ছিল না। আধুনিকতার সাথে তাল মিলিয়ে কম্পিউটারের এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন এবং এই পরিবর্তনের সাথে সাথে তার কর্মক্ষমতাও অনেক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে (Types of computers and their features)। 
যেখানে কম্পিউটার প্রথমে আবিষ্কার হয়েছিল শুধুমাত্র গণনা করার কাজে এখন এই কম্পিউটার শিক্ষা চিকিৎসা যোগাযোগ সকল ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে। তাহলে এ কম্পিউটার আবিষ্কার করেছিল কে? কম্পিউটারের আবিষ্কারক চার্লস ব্যাবেজ। তবে পরবর্তীকালে বিভিন্ন বিজ্ঞানীগণ এই কম্পিউটারকে আধুনিকরণের সহযোগিতা করেছেন। কাজ করার পদ্ধতির দিক থেকে কম্পিউটার মূলত তিন প্রকার। যথা-

  • এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer)
  • ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer)
  • হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer)

এনালগ কম্পিউটার (analog computer) : এনালগ কম্পিউটার (Analog Computer) কাজ করে পরিমাপন (Measuring) পদ্ধতিতে। যেমন- বিদ্যুতের তারের ভােল্টেজের ওঠা-নামা, কোনাে পাইপের ভেতরের বাতাস বা তরল পদার্থের চাপ কম-বেশি হওয়া, বাতাসের প্রবাহ ও চাপ পরিবর্তিত হওয়া ইত্যাদি পরিমাপনের ক্ষেত্রে এনালগ কমিপউটার দক্ষতার সঙ্গে বিশ্লেষণধর্মী কাজ করতে পারে। এনালগ কম্পিউটারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হিসেবে গাড়ির গতিবেগ প্রদর্শনের কাটা বা মিটারের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। গাড়ির গতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কাটাটি উচ্চতর গতি নির্দেশক সংখ্যার ঘর গুলাে অতিক্রম করে যায়। আবার গাড়ির গতি কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে কাটাটি ক্রমান্বয়ে নিম্নতর গতি নির্দেশক সংখ্যার ঘরের দিকে নেমে আসতে থাকে। এনালগ কম্পিউটারের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে – পর্যায়ক্রমে ওঠা-নামা করা। বিভিন্ন প্রকার শিল্প কারখানায় তাপ, চাপ ইত্যাদি পরিমাপনের জন্য এনালগ কম্পিউটার ব্যবহার করা হয়।

এনালগ কম্পিউটারের ফলাফল প্রদর্শিত হয় পরিমাপন কাঁটা, প্রিন্টার, ভিডিও ডিসপ্লে ইউনিটের মাধ্যমে। পুটারের সাহায্যে মুদ্রিত আকারে এনালগ কম্পিউটারের কাজের ফলাফল পাওয়া যায়। এনালগ কম্পিউটারের প্রসেসর নির্দিষ্ট কাজে ব্যবহারের উপযােগী করে তৈরি করা হয়। ফলে, এক ধরনের কাজে ব্যবহৃত এনালগ কম্পিউটার দিয়ে সাধারণত অন্য ধরনের কাজ করা যায় না।

ডিজিটাল কম্পিউটার (digital computer): ডিজিটাল কম্পিউটার (Digital Computer) কাজ করে বাইনারি সংখ্যার মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশ (Instruction)-এর ভিত্তিতে। ডিজিটাল কম্পিউটারের কাজ করার ধরন হচ্ছে অগ্রসরমাণ ও পর্যায়ক্রমিক (Progressive and Sequential)। বর্তমানে বহুল ব্যবহৃত মাইক্রো কম্পিউটার বা ডেস্কটপ কম্পিউটার গুলাে হচ্ছে ডিজিটাল কম্পিউটার। ডিজিটাল কম্পিউটার দিয়ে বহুমুখী কাজ করা যায়। ডিজিটাল কম্পিউটার শূন্য (০) এবং এক (১) এ দুটি বাইনারি সংখ্যা দিয়ে লেখালেখি ও হিসেব-নিকেশের কাজ থেকে শুরু করে ছবি সম্পাদনা ও জটিল স্থাপত্য ও নির্মাণ কাজের নক্সা তৈরির কাজ পর্যন্ত করে থাকে। ডিজিটাল কম্পিউটারের ফলাফল সর্ব প্রথম প্রদর্শিত হয় মনিটরের পর্দায়। এ ফলাফল বা আউটপুট প্রিন্টারের সাহায্যে মুদ্রিত আকারে নেওয়া যায়, ইন্টারনেটে ব্যবহারের জন্য সংরক্ষণ করে রাখা যায়, বিভিন্ন প্রকার ডিকে কপি করে অন্য কোনাে ব্যবহারকারী বরাবর সরবরাহ করা যায়।

হাইব্রিড কম্পিউটার (Hybrid Computer): এনালগ কম্পিউটার এবং ডিজিটাল কম্পিউটারের প্রয়ােজনীয় বৈশিষ্ট্যাবলির সমন্বয়ে গঠন করা হয় হাইব্রিড কম্পিউটার। হাইব্রিড কম্পিউটার হচ্ছে এনালগ এবং ডিজিটাল উভয় পদ্ধতির সমন্বয়। হাইব্রিড কম্পিউটারে সাধারণত উপাত্ত সংগৃহীত হয় এনালগ প্রক্রিয়ায়। সংগৃহীত উপাত্ত সংখ্যায় রূপান্তরিত করে ডিজিটাল অংশে প্রেরণ করা হয়। ডিজিটাল অংশ প্রাপ্ত উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণের পর ফলাফল প্রদান করে। উদাহরণ হিসেবে হাসপাতালে ব্যবহৃত হাইব্রিড কম্পিউটারের কথা উল্লেখ করা যেতে পারে। রােগীর রক্ত চাপ,হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া, শরীরের তাপ ইত্যাদির উপাত্ত এনালগ অংশের সাহায্যে গ্রহণ করার পর উপাত্তগুলি ডিজিটাল কম্পিউটারে ব্যবহারযােগ্য সংখ্যা সংকেতে রূপান্তরিত হয়ে ডিজিটাল অংশে স্থানান্তরিত হয়। ডিজিটাল কম্পিউটারপ্র ক্রিয়াকরণ/ বিশ্লেষণ করে রােগীর বর্তমান অবস্থা ফলাফল বা আউটপুট আকারে তুলে ধরে। এ ছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, নভােযান এবং অন্যান্য ক্ষেত্রেও হাইব্রিড কম্পিউটার ব্যবহৃত হয়।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো