আমাদের নিত্য প্রয়োজনীয় একটি ডিভাইস হচ্ছে কম্পিউটার। কম্পিউটার প্রধানত দুইটি ভাগে বিভক্ত। যথা: ১. হার্ডওয়্যার (hardware) ২.সফটওয়্যার (software)। মূলত এই দুইটি অংশের সাহায্যে কম্পিউটার তার সম্পূর্ণ কাজ সম্পন্ন করে থাকে। কম্পিউটারের ক্ষেত্রে হার্ডওয়ার যদি দেহ হয় তাহলে সফটওয়্যার হচ্ছে তার প্রাণ। আর প্রান ছাড়া দেহের কোন মূল্য নেই বা কোনো কাজ করতে পারে না তা আমরা সবাই জানি। আমরা আজ কম্পিউটারের হার্ডওয়ার এবং সফটওয়্যার সম্পর্কে বিস্তারিত ধারনা দেওয়ার চেষ্টা করবো। এবং কোন যন্ত্রাংশের কি নাম ও সফটওয়্যার এর ধরন ছাড়াও কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার এর মধ্যে পার্থক্য (The difference between computer hardware and software) গুলো আলোচনা করব।

কম্পিটারের হার্ডওয়্যার: কম্পিউটারের সকল প্রকার যন্ত্র এবং যন্ত্রাংশকে হার্ডওয়্যার (Hardware) বলা হয়। কম্পিউটারের কোনাে হার্ডওয়্যারই এককভাবে বা বিচ্ছিন্নভাবে সমপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে পারে না। হার্ডওয়্যারগুলার পারস্পরিক সংযােগের মাধ্যমে একটি কাজ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সমপন্ন করে। কম্পিউটারের হার্ডওয়্যারগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য হচ্ছে কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ অংশ, স্থায়ী স্মৃতি, অস্থায়ী স্মৃতি, সহায়ক স্মৃতি, বিভিন্ন প্রকার কার্ড এ্যাডাপ্টর বসানাের ঘর বা স্লট এবং পাওয়ার বাের্ড, হার্ডওয়্যার বা যন্ত্রাংশ বসানাের জন্য ব্যবহৃত সার্কিট বাের্ড বা মাদার বাের্ড ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে প্রতিটি যন্ত্রের মধ্যে পারস্পরিক সংযােগ স্থাপনের জন্য ব্যবহৃত ক্যাবল ও বিভিন্ন প্রকার খুচরা যন্ত্রাংশ।

[কম্পিউটারের শ্রেণীবিভাগ ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা]

কম্পিউটারের সঙ্গে বাইরে থেকে সংযুক্তু অনেক রকম ইনপুট ও আউটপুট যন্ত্রাদি ব্যবহৃত হয়। বহুল ব্যবহৃত ইনপুট যন্ত্রাদির মধ্যে উল্লেখযােগ্য হচ্ছে কী-বাের্ড (keyboard), মাউস (Mouse), স্ক্যানার (scanner), গ্রাফিক্স ট্যাবলেট (graphics tablet) , ওসিআর (OCR), ওএমআর (OMR), ডিজিটাল ক্যামেরা (digital camera), ভিডিও ক্যামেরা (video camera) , ভিসিআর/ভিসিডি (VCR/VCD) ইত্যাদি। আর বহুল ব্যবহৃত আউটপুট যন্ত্রদির মধ্যে উল্লেখ যােগ্য হচ্ছে মনিটর (monitor), বিভিন্ন প্রকার প্রিন্টার (printer), প্লটার (plotter), ডিজিটাল প্রজেক্টর (digital projector), বিভিন্ন প্রকার ভিডিও টেপ, সিডি, ডিভিডি, ভিসিআর/ভিসিপি ইত্যাদি।

কম্পিউটারের সফটওয়্যার: কমিপিউটারের হার্ডওয়্যার হচ্ছে নিষ্প্রাণ দেহের মতাে। কমিপউটারের হার্ডওয়্যারের প্রাণশক্তি হচ্ছে সফটওয়্যার। সফটওয়্যার ছাড়া হার্ডওয়্যার চলতে পারে না। সফটওয়্যার প্রধানত দুই প্রকার। যেমন- পূর্ব-লিখিত সফটওয়্যার (Prewritten Software) এবং বিশেষ প্রয়ােজনে তৈরি করে নেওয়া সফটওয়্যার (Customized Software)। পূর্ব-লিখিত সফটওয়্যার আবার দুই প্রকার। যেমন- এ্যাপ্লিকেশন প্রােগ্রাম (Application Program) এবং সিস্টের্ম সফটওয়্যার বা অপারেটিং সিস্টেম (System Software) বা (Operating System)।

ব্যবহারকারীদের সাধারণ চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পূর্ব-লিখিত সফটওয়্যার গুলো উন্নয়ন করে এবং বাজারজাত করে । কিন্তু বাজারে প্রাপ্ত পূর্ব-লিখিত সফটওয়্যারের সাহায্যে যদি কোনাে ব্যবহারকারীর চাহিদা পুরােপুরি মেটানাে সম্ভব না হয়, তাহলে ব্যবহারকারীর নিজস্ব চাহিদা অনুযায়ী সফটওয়্যার তৈরি করে নিতে হয়। এই বিশেষভাবে তৈরি করে নেওয়া সফটওয়্যারকেই কাস্টমাইজড সফটওয়্যার (Customized Software) বলা হয়।

ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব পদ্ধতিতে হিসেব-নিকেশ, তথ্য ব্যবস্থাপনা বা অন্যান্য কাজের জন্য অনেক সময় বিশেষভাবে সফটওয়্যার তৈরি করিয়ে নেওয়া প্রয়ােজন হয়।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো