বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ভাবসম্প্রসারন:
 আলাে বলে, “অন্ধকার, তুই বড় কালাে”।
অন্ধকার বলে, “ভাই, তাই তুমি আলাে।”
আলো বলে অন্ধকার

মূলভাব : আলাে-আঁধার, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হাসি-কান্না এসব পরপর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। এদের একটি ছাড়া যেমন অন্যটির অস্তিত্ব কল্পনা করা যায় না, তেমনি তার সার্থকতাও আশা করা অনুচিত। এ বৈপরীত্য নিয়েই জীবন।

ভাব-সম্প্রসারণ : আমাদের এ সুন্দর পৃথিবীতে পরস্পর বিপরীতধর্মী উপাদানসমূহের প্রক্রিয়া সচল । মূলত বৈচিত্র্যের অপূর্ব সমাবেশেই জীবন ও জগৎ গড়ে উঠেছে। দুঃখ আছে বলেই সুখ এমন মহিমান্বিত, আর সুখ আছে বলেই মানুষ দুঃখকে মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়। জন্মের পর মৃত্যু অবধারিত বলেই জীবনকে বলা হয় মহামূল্যবান । অন্ধকার এসে দিবালােক গ্রাস করে বলেই পরদিন প্রভাতের সােনালি সূর্যোদয় চিত্তকে হরণ করে ।

আঁধার আছে বলেই আলাে বৈচিত্র্যময়, বৈশিষ্ট্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। অতৃপ্তি না থাকলে জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধন হতাে না। মহৎ বেদনা না থাকলে মহৎ কাব্য কোনােদিন সৃষ্টি হতে পারত না। এটিই সবচেয়ে বড় সত্য । সুতরাং অন্ধকার
থেকে মুক্তির আশায় আলাের সন্ধান করতে হবে; আনন্দকে সঠিক উপলব্ধির জন্য বেদনাকে জয় করতে হবে। কারণ আলাে-আঁধারের, সুখ-দুঃখের অবস্থান পাশাপাশি । এসবের মােকাবেলার মাধ্যমেই জীবন হৰে সুখী, ও সার্থক।

মন্তব্য : জগতে যদি বৈচিত্র্য না থাকত তাহলে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ইত্যাদি অনুভূতির কোনাে অস্তিত্বই থাকত না। তাই এ জগতে কোনােকিছুই তুচ্ছ ও মূল্যহীন নয়।

নবীনতর পূর্বতন