আইসিটি নির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থা
প্রতিরক্ষা
প্রতিরক্ষা বলতে অনেক কিছুই হতে পারে, যেমন- কোনাে ব্যক্তি বা গােষ্ঠীর আক্রমণ হতে প্রতিরক্ষা, অবিচারের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা, বেআইনের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষা ইত্যাদি। মানুষ তার প্রয়ােজনে প্রতিরক্ষা কৌশল আবিষ্কার করেছে । ঠিক কবে কোন সময়ে এ ঘটনাটি ঘটেছে তার কোনাে উল্লেখ কোথাও পাওয়া যায়নি। আমরা স্থল, নৌ ও আকাশ প্রতিরক্ষার সাথে খুব বেশি পরিচিত। বর্তমানে এর পাশাপাশি তথ্য প্রতিরক্ষাও বেশ জরুরি হয়ে পড়েছে।

ল্যাতিন শব্দ militaris হতে ১৫৮৫ সালে প্রথম ইংরেজিতে military শব্দটি গ্রন্থিত করা হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আর্মড ফোর্সেস বলতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলাদেশ মিলিটারি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে আর্মি, নৌ ও বিমান বাহিনী একত্রে বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেস বা বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী হিসেবে পরিচিত। এর কমান্ডার ইন চিফ হিসেবে মাননীয় রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার ৪২ বছরে এ সেক্টরটি প্রভূত উন্নতি করতে পারেনি ঠিকই কিন্তু প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তােমরা নিশ্চয়ই জানাে যে, বাংলাদেশের তৈরি জাহাজ বিশ্ববাজারে সমাদৃত। তবে বিশ্ববাজারে প্রতিরক্ষা শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলেও আমরা এখন পর্যন্ত আমদানিনির্ভর হয়ে রয়েছি। উন্নত দেশ গুলাে যুদ্ধের জন্য বা সীমানা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক ভাবে অস্ত্র উৎপাদন ও বিক্রয় করে স্বাবলম্বী হয়েছে। এ সকল অস্ত্রকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়। যথা : হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার নির্ভর।

হার্ডওয়্যার নির্ভর:
১. জাহাজ- ট্রেল ক্রাফট ফ্রিগেট, এয়ার ক্রাফট ক্যারিয়ার ইত্যাদি,
২. এয়ার ক্রাফট আক্রমণ করতে পারে এমন হেলিকপ্টার, ফাইটার ইত্যাদি
৩.ভূমিতে ব্যবহার যান— যুদ্ধ ট্যাংক ও পদাতিক যুদ্ধযান ইত্যাদি

📚 ক্রায়োসার্জারির বিস্তারিত প্রক্রিয়া জানুন!

সফটওয়্যার নির্ভর:
১. ভূমি, সমুদ্র এবং আকাশে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন ধরনের রাডার,
২. অপটিকাল ইলেকট্রনিক পদ্ধতি (লেজার)
৩. সকল ক্ষেত্রে টেলিফোন যােগাযােগ পদ্ধতি
৪. যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি

প্রতিরক্ষা শিল্পে ICT:
প্রতিরক্ষা এবং ICT একে অন্যের পরিপূরক হিসেবে কাজ করছে। উভয়ের মধ্যে সরাসরি এবং ধনাত্মক সম্পর্ক রয়েছে। কখনাে এমনটি মনে হয় যে ICT প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নতিকল্পে সুযােগ করে দিয়েছে আবার কখনাে এর বিপরীতটিও মনে হয়।

যেমন- ICT যুগের অন্যতম একটি টুলস হলাে ইন্টারনেট। ১৯৫০ সালে যখন আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক যুদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছিল তখন ন্যাটো এবং আমেরিকার সেনাবাহিনীর জেনারেলদের মধ্যে অতি নিরাপত্তার সাথে যােগাযােগ ক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহৃত হয়েছে।

📚 বিমান তৈরির ইতিহাসের গল্প!

ইন্টারনেটের কল্যাণে প্রতিরক্ষা শিল্পে যে উল্লেখযােগ্য পরিবর্তন হয়েছে তা নিম্নরূপ-
১. ডাম্ব বােম আরাে দক্ষতা এবং সূক্ষ্মতার সাথে লক্ষ্যবস্তুতে এখন আঘাত হানতে সক্ষম। যেমন মিসাইল।
২. মানুষকেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা হতে নেটওয়ার্ককেন্দ্রিক যুদ্ধক্ষেত্র ব্যবস্থাপনা (কমান্ডার তার অফিসে বসে যুদ্ধের ময়দানে সৈন্যদের অবস্থান, ক্ষয়ক্ষতি, অস্ত্র সরবরাহ, প্রতিপক্ষের দিকে অগ্রসর হওয়া ইত্যাদি বিষয়ে কমান্ড প্রদান করতে পারেন)।
৩. ভূমি ও সমুদ্র হতে আকাশে এবং মহাশূন্যে যােগাযােগ ও নিয়ন্ত্রণ (চালকবিহীন যান যা উড্ডয়ন স্থান হতে দুর্গম এলাকাতে ১০০ কিলােমিটার পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ এবং লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম)।
৪. হার্ডওয়্যারনির্ভর অস্ত্রে সজ্জিত টুপসের পরিবর্তে সফটওয়্যারনির্ভর অস্ত্রে সজ্জিত টুপস ইত্যাদি (অধিকাংশ প্রতিরক্ষা শিল্প মিলিটারি সফটওয়্যার তৈরির একটি করে শাখা রয়েছে। এ সকল সফটওয়্যার হার্ডওয়্যারকে পরিচালিত করে। যেমন দূরসীমার রাডার, জিপিএস, মিসাইল নিয়ন্ত্রণ গাইড পদ্ধতি ইত্যাদি)।

📚 অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবলের বিস্তারিত সুবিধা অসুবিধা

প্রেক্ষিত বাংলাদেশ:
আমাদের দেশের উল্লেখ করার মতাে তেমন কোনাে প্রতিরক্ষা শিল্প নেই। যে সকল অস্ত্র ব্যবহার করা হয় তার প্রায় সবই হার্ডওয়্যার নির্ভর। আমাদের পার্শ্ববর্তী ভারতও এক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে গেছে। তাদের রয়েছে নিজস্ব কৃত্রিম ভূ-উপগ্রহ, রয়েছে নিজস্ব জেট ফাইটার, সাবমেরিন, ভূমি থেকে ভূমিতে, পানি থেকে ভূমিতে, আকাশ থেকে আকশে উৎক্ষেপণযােগ্য মিসাইল। রয়েছে অত্যাধুনিক রাডার ব্যবস্থা। অথচ এর কিছুই আমাদের নেই। আমাদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে আমাদেরও যত দ্রুত সম্ভব পরনির্ভরশীলতার হাত থেকে মুক্তি পেতে হবে। এর জন্য আমাদের প্রয়ােজন তথ্য ও যােগাযােগ প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তােলা।

��একটি মন্তব্য করুন��

নবীনতর পূর্বতন