প্রযুক্তি কি (what is technology)? প্রযুক্তি বলতে একটি প্রজাতির বিভিন্ন উপকরণ এবং প্রাকৃতিক উপাদান প্রয়োগের ব্যবহারিক জ্ঞান কে বোঝায়। মানব জিবনে প্রযুক্তির গুরুত্ব (What is technology and the importance of technology in human life) প্রযুক্তি নির্ধারণ করে যে কোন প্রজাতি কিভাবে তার প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে খাপ খায় এবং কীভাবে এটি ব্যবহার করে।

আধুনিক সভ্যতার ক্রমবিকাশের তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব অপরিসীম। কম্পিউটারের নির্ভুল কর্মসম্পাদন, দ্রুতগতি ,স্মৃতি, স্বয়ংক্রিয় কর্মসম্পাদন, নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে তথ্য আদান-প্রদান ,যোগাযোগ ইত্যাদি বৈশিষ্ট্যের জন্য তথ্য প্রযুক্তির প্রয়োগ ক্ষেত্র আজ বিস্তৃত। তথ্যপ্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য অবদান হল:

  1. অপচয় রোধ করে
  2. সময় সাশ্রয় হয়
  3. তথ্যের প্রাপ্যতা সহজ হয়
  4. ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় জিনিস অর্ডার দেওয়া যায়
  5. মানবসম্পদ উন্নয়ন ঘটায়
  6. সর্ব ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়
  7. তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সম্ভব হয়
  8. শিক্ষার্থীরা এখন ঘরে বসেই অনলাইনে বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষা গ্রহণ করতে পারছে
  9. গভর্নেন্স চালুর মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর এর মধ্যে কাজের সমন্বয় ঘটানো যায় ইত্যাদি

প্রযুক্তির উপাদানসমূহ: কম্পিউটার ও আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি , রেডিও ,টেলিভিশন, ফ্যাক্স, বিভিন্ন যানবাহন, স্যাটেলাইট , ক্যালকুলেটর ,মোবাইল ফোন, আধুনিক টেলিযোগাযো, মডেম, ইন্টারনেট , অডিও ভিডিও ইত্যাদি। এইসব কিছু আধুনিক প্রযুক্তির ফসল। এর ফলে আমাদের সমাজ জীবন এবং কোথায় জীবন হয়ে উঠেছে সহজ সুন্দর।

বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তি নির্ভর আধুনিক বিশ্বে পরিণত হয়েছে। উন্নত দেশের সমাজ ব্যবস্থায় এর প্রভাব পড়লেও ব্যাপকতা লাভ করেনি। আমরা আমাদের প্রত্যাহিক জীবনে প্রায় সকল কাজই এই প্রযুক্তির মাধ্যমেই করে থাকি।সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাতে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেকটা কাজেই আমরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকি।

প্রযুক্তি মানুষের সামাজিকক্ষেত্রে যেসব সুফল বয়ে এনেছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি তুলে ধরা হলো-

১. অপচয় কমায়: প্রযুক্তি ব্যবহার যেকোনো ধরনের অপচয় রোধ করে।প্রযুক্তির ব্যবহার প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন ধরনের ব্যয় কে সংকুচিত করে আর্থিক সাশ্রয়  ঘটিয়ে থাকে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঘরে বসেই বিদ্যুৎ, পানি ,গ্যাস ফোন বিলের মতো বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল গুলো এখন মোবাইলফোনেই দেওয়া যায়।

২.সময় বাঁচায়: প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে যেকোনো কাজে আগের চেয়ে কম সময় লাগে অর্থাৎ এর মাধ্যমে সময় সাশ্রয় ব্যবস্থা তৈরি করা যায়।

৩. দক্ষতা বৃদ্ধি: প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার ও চর্চার ফলে ক্রমান্বয়ে সর্ব ক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। ব্যবস্থাপকেরা দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং দক্ষতার সাথে পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যে লাভজনক প্রক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারেন।

৪. দ্রুত যোগাযোগ: প্রযুক্তির ব্যাপক প্রসারের ফলে এখন তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে ।ফোন, ইন্টারনেট, ফ্যাক্স ,ইমেইল, এসএমএস ,এমএমএস প্রভৃতি এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ।

৫.শিক্ষা ক্ষেত্রে: শিক্ষা ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। অনলাইনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা ,পরীক্ষা দেয়া কিংবা শিক্ষামূলক বিভিন্ন ওয়েবসাইট হতে শিক্ষা লাভ করা যায়। কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সুবিধা থাকলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের শিক্ষার্থী তার শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে।

৬.কর্মসংস্থান: কর্মসংস্থানের বিশাল বাজার উন্মুক্ত করেছে ইন্টারনেট প্রযুক্তি ।ইন্টারনেটের কল্যাণে এখন বিশ্বের যে কোন দেশের যে কোনো কর্মী অন্য যেকোনো দেশের কর্মদাতার কাজ ঘরে বসেই করতে পারেন এবং তার কাজের পেমেন্ট অনলাইনে গ্রহণ করতে পারেন।

ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন ফেসবুক ইউটিউব ইত্যাদি সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং ও ভিডিও আপলোডিং সাইটে বন্ধুত্ব তৈরী পাশাপাশি ছবি ও ভিডিও শেয়ার করা যায়। আজকাল ইন্টারনেটে টিভি ও রেডিও চালু হওয়ায় স্ট্রিমিং অডিও ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমেদূর-দূরান্তে বসে টিভি ছাড়াই কম্পিউটারে টিভি দেখা যায়।

স্যাটেলাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল ঘরে বসেই দেখা যাচ্ছে এগুলোর মধ্যে হানাহানি, মারামারি মত সাংস্কৃতিক উপাদান রয়েছে যা অন্য দেশের সমাজকেও প্রভাবিত করছে। ভায়োলেন্স পূর্ণ কম্পিউটার গেমস দেখে শিশুরা ক্রমেই সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে সমাজ বিজ্ঞানীদের অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এছাড়া ইন্টারনেটের মাধ্যমে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।

ইন্টারনেটে এমন কিছু অশ্লীল সাইট রয়েছে যেগুলোর মাধ্যমে মানুষের নৈতিক স্খলন করতে পারে। এসব সাইটে অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ এবং অপ্রাপ্ত বয়স্ক উপযোগী অনুপোযোগী বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও থাকে যা নৈতিক চরিত্রের অধঃপতন ঘটাতে পারে। এতে সামাজিক অবক্ষয় সৃষ্টির ঝুঁকি রয়েছে।

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন প্রযুক্তিগত সুবিধা এতটাই বেড়েছে যে এর অপব্যবহার করে ব্যক্তির গোপনীয়তা প্রকাশ হয়ে পড়ছে। হ্যাকারের আক্রমণে কম্পিউটার এর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যাদি চুরি হয়ে যাওয়া, মুছে যাওয়া, পাসওয়ার্ড ক্রেডিট কার্ডের নম্বর চুরি হওয়ার মাধ্যমে তথ্যের গোপনীয়তা আর থাকছে না। 

প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতার কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই এখন! অত্যাধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর আর তাই এসব ক্ষেত্রে কম মানবসম্পদের প্রয়োজন পড়ায় কর্মী ছাঁটাই এর কারণে অনেক সময় বেকারত্বের হার বেড়ে যাচ্ছে। শারীরিক সমস্যা টেলিভিশন ইন্টারনেট বা কম্পিউটার ব্যবহারকারী সারাক্ষণ মনিটরের দিকে তার দৃষ্টি নিবদ্ধ রাখেন। একনাগাড়ে কম্পিউটারে কাজ করার মাধ্যমে কব্জিতে ব্যথা, কোমরে ব্যথা, হাতে ব্যথা, ভিডিও গেমের মাধ্যমে শিশুদের মানসিক আসক্তি,অতিরিক্ত  মোবাইল ফোন ব্যবহারের মাধ্যমে হৃদপিণ্ড   ও মস্তিষ্কে নানা ধরনের অসুখ হতে পারে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে সহজেই মিথ্যাচার প্রচার করা যায়। ফেসবুক, ওয়েবসাইট কারো ব্যক্তিগত তথ্য, ছবি এডিট করে মিথ্যা তথ্য প্রকাশ করে সামাজিকভাবে তাকে হেয় প্রতিপন্ন  করা যায়। এসব কাজের মাধ্যমে ভয়াবহ দাঙ্গা, ধর্মীয় স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌমত্বের হুমকি, রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে আরো জানতে ভিজিট করুন- toptechnologybangla.info

আমাদের সকলের উচিত এই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে মানবসম্পদ উন্নয়ন করা। দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। তাহলেই প্রযুক্তির সফলতা।

অপেক্ষাকৃত নতুন পুরনো