কম্পিউটার একটি বৈদ্যুতিক যন্ত্র । এটি দিয়ে যে কোনাে তথ্য নিয়ে কাজ করা যায়। কম্পিউটারের (Computer -Wikipedia)  রয়েছে তথ্য গ্রহণ, তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ও তথ্য উপস্থাপনের ক্ষমতা। কম্পিউটার নিজে কাজ করতে পারে না।

মানুষের তৈরি করা নির্দেশের সাহায্যে কম্পিউটার দ্রুততার সাথে নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারে । কম্পিউটারের সহায়ক মেমােরি বা সহায়ক স্মৃতিতে বিপুল পরিমাণ তথ্য সংরক্ষণ করা যায়। কম্পিউটারের তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য রয়েছে সিপিইউ ।

কম্পিউটার ইনপুট ডিভাইসের মাধ্যমে তথ্য গ্রহণ করে এবং আউটপুট ডিভাইসের মাধ্যমে ফল প্রদান করে। ক্যালকুলেটর দিয়ে গণনা করার কাজ করা গেলেও ক্যালকুলেটরের চেয়ে কম্পিউটার অনেক বেশি শক্তিশালী। এতে তথ্য সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ ইত্যাদি ছাড়াও বহুবিধ কাজ করা যায় । কম্পিউটারকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায় । এনালগ ও ডিজিটাল।

এ ছাড়াও হাইব্রিড নামের আরেক ধরনের কম্পিউটার আছে । এনালগ কম্পিউটারে কাজ হয় পরিমাণ পদ্ধতিতে। ডিজিটাল কম্পিউটার কাজ করে প্রতীকী সংখ্যার মাধ্যমে প্রাপ্ত নির্দেশের সাহায্যে।

আকার-আয়তন, মেমােরি, কর্ম ক্ষমতার বিচারে কম্পিউটারকে চার ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন-

  • সুপার কম্পিউটার
  • মেইনফ্রেম কম্পিউটার
  • মিনি কমিপউটার
  •  মাইক্রোকম্পিউটার।

সুপার কম্পিউটার সবচেয়ে শক্তিশালী ও বড় ধরনের কম্পিউটার। মেইনফ্রেম সুপার কম্পিউটারের চেয়ে কম ক্ষমতাবান কম্পিউটার। মিনিফ্রেম কম্পিউটার মেইনফ্রেম কম্পিউটারের ছােট সংস্করণ ও মাইক্রো কম্পিউটার তার চেয়েও ছােট আকারের কম্পিউটার।

কম্পিউটারের রয়েছে দুটি ভাগ। একটিকে বলা হয় হার্ডওয়্যার । অন্যটিকে সফটওয়্যার । হার্ডওয়্যার হচ্ছে কম্পিউটারের কাঠামাে আর সফটওয়্যার তার প্রাণশক্তি । সফটওয়্যারের রয়েছে দুটি ভাগ-অপারেটিং সিস্টেম ও এ্যাপ্লিকেশন প্রােগ্রাম।

১৬৭১ সালে জার্মান গণিতবিদ গটফ্রাইড উইলহেম লিবনিজ চাকা ও দণ্ড দিয়ে পৌনঃপুনিক যােগ করার একটি যন্ত্র তৈরি করেন। এরপর স্যার স্যামুয়েল মরল্যান্ড ১৭৮৬ সালে একটি গণনা যন্ত্র তৈরি করেন।

১৮২২ সালে চার্লস ব্যাবেজ যে যন্ত্রটি তৈরি করেন তাকেই আজকের দিনের কম্পিউটারের পূর্বপুরুষ মনে করা হয়। চার্লস ব্যবেজের পরই ১৯৪০ সালে মার্ক-১ বাজারে আসে। এটি একটি মেকানিক্যাল যন্ত্র ছিল। ১৯৪৬ সালে জন মউসলি এবং তার ছাত্র প্রেসপার একটি এনিয়াক নামে একটি যন্ত্র তৈরি করেন। ১৯৪৯ সালে তৈরি হয় এডভাক । এ সব যন্ত্র দিয়ে গণনার কাজ করা হত এবং এগুলাে ইলেক্ট্রনিক পদ্ধতিতে কাজ করত। ১৯৫১ সালে ইউনিভ্যাক নামে সর্বপ্রথম বাণিজ্যিক কম্পিউটার ব্যাপক পরিবর্তনের সূচনা করে।

১৯৭১ সালে বাজারে আসে মাইক্রোপ্রসেসর। ১৯৭৪ সালে বাজারে আসে ৮০৮০ প্রসেসর আর এই মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি কম্পিউটার সারা দুনিয়ায় কম্পিউটার বিপ্লবের সূচনা করে।

কম্পিউটারের ক্রমবিকাশের ধারণাকে পাঁচটি প্রজন্মে ভাগ করা হয়। প্রাথমিক ও মেকানিক্যাল যুগের এবং ইলেক্ট্রনিক যুগের প্রথম কম্পিউটার গুলােকে প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার বলা যায়।

ট্রানজিস্টর আবিষ্কার হওয়ার পর ষাটের দশকের মধ্যভাগ পর্যন্ত যেসব কম্পিউটার তৈরি হয়েছে সেগুলােকে দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার বলা যায় । তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার হল ষাটের দশকের মাঝামাঝি থেকে ১৯৭১ সালে আবিষ্কৃত মাইক্রো প্রসেসরের সাহায্যে প্রস্তুতকৃত কম্পিউটার গুলাের পূর্ব পর্যন্ত প্রস্তুত কম্পিউটার সমূহ।

মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে তৈরি সাম্প্রতিক কম্পিউটার সমূহকে চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার বলা যায়। সাম্প্রতিককালে অতি উন্নত ও ব্যাপক ক্ষমতাবান মাইক্রোপ্রসেসর দিয়ে অত্যাধুনিক যেসব কম্পিউটার তৈরি হচ্ছে সেগুলােকে পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার বলা হয়।

সত্তর দশকের শেষ থেকেই বাংলাদেশে হােম পিসি আসতে শুরু করে। আশির দশকে আইবিএম পিসি, মেকিনটোশ ইত্যাদি কম্পিউটার আসতে থাকে।

৮৭ সালে কম্পিউটারে বাংলা প্রয়ােগ করে কম্পিউটার দিয়ে বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করা একটি মাইলফলক ঘটনা। ৯৮-৯৯ সালের বাজেটে কম্পিউটারের উপর থেকে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করায় কম্পিউটারের প্রসার ব্যাপকতর হয়।

নবীনতর পূর্বতন
close