আমরা যারা ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ভার্চুয়াল কারেন্সির (cryptocurrency) সাথে সংযুক্ত তারা অনেক সময় টেস্টনেট (testnet) এবং মেইননেট (main net) শব্দ দুটি শুনেছি। তবে আমরা অনেকেই জানিনা এই টেস্টনেট বা মেইননেট আসলে কি! আসুন আজকে আমরা টেস্টনেট এবং মেইননেট সম্পর্কে আলোচনা করি!

Testnet Vs mainnet
প্রথমত টেস্টনেট বা মেইননেট সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের জানতে হবে ব্লকচেইন কি (What is Blockchain)? কারণ ব্লকচেইন (Blockchain) সম্পর্কে আমাদের জানা না থাকলে আমরা এ বিষয়ে কিছুই বুঝতে পারব না! এটি হলো এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের লেনদেন এর তথ্য লিপিবদ্ধ করা হয় এবং লেজার আকারে সাজিয়ে রাখা হয়। এবং এটি অনেক সিকিউরিটি সম্পন্ন একটি প্রযুক্তি যার ফলে লেনদেন এ কারচুপির কোন অবকাশ থাকে না। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন করা হয়ে থাকে।
☞ ব্লকচেইন কি এবং কিভাবে কাজ করে জানতে!

টেস্টনেট (TestNet) কি?

বর্তমানে ডিজিটাল যুগ এবং এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের লেনদেন এবং মুদ্রা ব্যবস্থাও ডিজিটাল হতে যাচ্ছে। আর এই মুদ্রা ব্যবস্থাকে ডিজিটাল করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে ব্লকচেইন প্রযুক্তি (Blockchain Technology)। যার মাধ্যমে ডিজিটাল উপায়ে লেনদেন করা সম্ভব। ব্লক চেইন হচ্ছে লেনদেন করার একটি ডিজিটাল উপায় যেখানে ক্রিপ্টোগ্রাফির মাধ্যমে আপনার সকল লেনদেন(Transaction) তালিকাভুক্ত হয়। এবং প্রতিটি লেনদেনের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা রয়েছে এবং এখানে মানুষের কোন হস্তক্ষেপ নেই। 

আর এই ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক গুলে বিভিন্ন আলাদা আলাদা নেটওয়ার্কে বিভক্ত হয়ে থাকে। যখন নতুন কোন ব্লকচেইন (Blockchain)  নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয় তখন সেটির কার্যক্ষমতা এবং ব্যবহারবিধি পর্যালোচনা করার জন্য সেই ব্লকচেইন টি টেস্ট করার প্রয়োজন পড়ে। আর এই ব্লকচেইন টেস্ট করার জন্য বিভিন্ন প্রকার ক্রিপ্টো কারেন্সি প্রয়োজন হয়।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কি ( WikiPidia)

এবং যেহেতু এটি একটি নতুন ব্লকচেইন নেটওয়ার্ক তাই এটির সম্পূর্ণ কার্যক্ষমতা এবং ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করা অবধি সকলের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ যেহেতু এটি সম্পূর্ণরূপে পরীক্ষা করা নয় আবার এখানে লেনদেন না করলে সমস্যা বা ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করা সম্ভব নয়। এ কারণে উক্ত ব্লকেইনের কর্তৃপক্ষ (Blockchain developer team) বিভিন্ন প্রকার কয়েন বা ক্রিপ্টো কারেন্সি তৈরি করে ওই ব্লকচেইনের উপর।

যা ওই ব্লকচেইন কে পরীক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয়। তবে প্রতিটি ক্রিপ্টো কারেন্সির একটি আর্থিক মূল্যমান রয়েছে। তবে একটি ব্লকচেইন তৈরি করেই সরাসরি আর্থিক লেনদেন শুরু করা হয় তাহলে এটি ঠিকঠাকভাবে কাজ না করলে আর্থিক ঝুকি দেখা দিতে পারে।

ক্রিপ্টোকারেন্সি কয়েন এবং টোকেন কি ও এর পার্থক্য সম্পর্কে জানতে!

আর এ কারণেই টেস্ট নেট কারেন্সি তৈরি করা হয়। কিন্তু এই টেস্টনেট শুধুমাত্র তৈরি করা হয় তাদের ব্লকচেইন টেস্ট করার জন্য। এটি আসল কয়েনের আদলে তৈরি করা হয়। কিন্তু এর কোন মূল্যমান নেই। এবং এই ভার্চুয়াল কারেন্সি গুলো বিনামূল্যে ব্যবহারকারীদের দেওয়া হয় যাতে তারা তাদের এই ব্লকচেইনটি(Blockchain) পর্যালোচনা করতে পারে বা ব্যবহার করার মাধ্যমে সমস্যা গুলো খুঁজে বের করতে পারে।

তাহলে সহজ ভাবে বলা যায় কোন নতুন ব্লকচেইনের কার্যক্ষমতা বা ভুল ত্রুটি খুঁজে বের করার জন্য যে প্রতিকি কয়েনের তৈরি করা হয় তাকে টেস্টনেট বলে। যা শুধু মাত্র ব্লকচেইনটি ব্যবহার করার জন্য তৈরি করা হয়। এবং এর কোন আর্থিক মূল্যমান নির্ধারণ করা হয় না। এবং টেস্ট নেট কয়েনটি আপনি তাদের ফসেট হতে বিনামূল্যে ক্লেইম করতে পারবেন।এবং বিক্রি করার মাধ্যমে কোন অর্থ পাবেন না।

কারন টেস্টনেট কয়েন এর RPC, কন্ট্রাক্ট এড্রেস, এবং অন্যান্য সকল কিছু মেইননেট কয়েন হতে ভিন্ন হয়!


মেইননেট (MainNet) কি?

মেইননেট হচ্ছে ব্লকচেইন এর আসল নেটওয়ার্ক। যেখানে ব্লক চেইনের সমস্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়ে থাকে। এবং বিভিন্ন ধরনের ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন হয়ে থাকে এই মেইন নেটের মাধ্যমে। অর্থাৎ এই মেইন নেটের উপর তৈরি করা হয় ক্রিপ্টো কারেন্সি বা কয়েন। যার লেনদেন সম্পন্ন হয় উক্ত ব্লকচেইনের মাধ্যমে। এবং এই ব্লক ছেন ব্যবহার করে তৈরি হতে থাকে বিভিন্ন ধরনের টোকেন যা মূল কয়েন এর নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাদের যাবতীয় ট্রানজেকশন সম্পন্ন করে থাকে।

নবীনতর পূর্বতন
close